ফেসবুক নিয়ে দিনে দিনে অভিযোগ বেড়েই চলেছে। অভিযোগের সুরাহা করতে তৈরি হচ্ছে নতুন আইন। কিন্তু যখন একদিকে বাড়তে থাকে নিরাপত্তার বেষ্টনী, অন্যদিকে একদল মানুষ সেই সুরক্ষাচক্রে ফাঁকির জায়গা খুঁজে পেতে কি না করছে! এরই ধারাবাহিকতায় আবারও ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের বেশ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার দাবি করেছে একদল হ্যাকার। অবশ্য জানা গেছে এর মধ্যে জাকারবার্গের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই।
আওয়ার মাইন টিম নামের ওই হ্যাকার গ্রুপটির দাবি, জাকারবার্গের টুইটার ও পিন্টারস্টে অ্যাকাউন্ট হাতিয়ে নিয়েছে তারা। টুইটার থেকে তারা জাকারবার্গের অন্যান্য অ্যাকাউন্টে ঢোকার সুযোগ পায়। তাঁরা আরও দাবী করছে, কয়েক সপ্তাহ আগে লিঙ্কডইন অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার পর হ্যাকার যে পাসওয়ার্ডগুলো ডার্ক ওয়েবে ছেড়েছিল, তা কাজে লাগিয়ে এ হ্যাক করা সম্ভব হয়েছে।

বর্তমানে ওই হ্যাকার গ্রুপটির টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে টুইটার কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি লিঙ্কডইন কর্তৃপক্ষ তাদের ওয়েবসাইট হ্যাকের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলে, প্রায় ১১ কোটি ৭০ লাখ ব্যবহারকারীর ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড চুরি হয়েছে। যাঁদের পাসওয়ার্ড চুরি হয়েছে, তাঁদের পাসওয়ার্ড রিসেট করার প্রক্রিয়াটি নিয়ে কাজ চলছে। যেসব অ্যাকাউন্টের ওপর প্রভাব পড়ছে, সেগুলো অচল করে দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে, লিঙ্কডইনে যেসব আইডি ও পাসওয়ার্ড ফাঁস হয়েছিল, এর মধ্যে ফেসবুকের প্রধান নির্বাহীর অ্যাকাউন্টও ছিল। এ ছাড়া জাকারবার্গ তাঁর সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোতে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতেন।

হ্যাকার গ্রুপ দাবি করেছে জাকারবার্গ সব অ্যাকাউন্টে ‘dadada’—এই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতেন।

হ্যাকার গ্রুপটি জাকারবার্গের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাকের দাবি করলেও ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে। ফেসবুকের একজন মুখপাত্র প্রযুক্তি-বিষয়ক ওয়েবসাইট ভেঞ্চারবিটকে বলেছেন, ফেসবুক সিস্টেম বা অ্যাকাউন্টে কোনো হামলা চালানো হয়নি। জাকারবার্গের যে অ্যাকাউন্টগুলো হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তা আবার সুরক্ষিত করা হয়েছে।

হ্যাকিং নিয়ে অবশ্য ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বরাবরই সমালোচনার মুখে রয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, গোপনে ব্যবহারকারীদের চ্যাট রেকর্ড ও স্ক্যান করে রাখছে ফেসবুক। ফেসবুকের পছন্দানুযায়ী নিউজফিড বা বিজ্ঞাপন দেখাতে তারা স্মার্টফোনের মাইক্রোফোন হ্যাক করছে। ফেসবুক অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তথ্যসূত্র: ভেঞ্চারবিট, এনডিটিভি, সিনেট।

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.