গ্রীনল্যান্ড হাঙর

১৬২০ সালে মেফ্লাওয়ার জাহাজটি প্লিমাউথের অভিমুখে যাত্রা করে, সাথে ছিল নতুন পৃথিবীকে দেখা ও জানার জন্য কিছু যাত্রী। তারা আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেবার সময় পার হতে হয়েছিল তীব্র ঠান্ডা ও বরফ। ঠিক সেখানেই বড় হয়ে উঠছিল ধীরে ধীরে বেবি গ্রীনল্যান্ড হাঙর। আস্তে আস্তে বাচ্চাগুলো বড় হয়ে ওঠে এবং তাদের কিছু কিছু আজো জীবিত আছে।
গ্রীনল্যান্ড হাঙর আকারে প্রায় একটি বড় অতিকায় সাদা হাঙরের মতই কিন্তু তাদের চরিত্র কিছুটা আলাদা। এটি দেখতে তেমন ভয়ংকর নয়, কিছুটা অলস প্রকৃতির। ঘন্টায় মাত্র ০.৭ মাইল ছুটতে পারে। এটি সবকিছুই খায়, পেটের পাকস্থলীতে প্রচুর পরিমাণে জায়গা রয়েছে তবে এ্যটি শিকারী নয়। উত্তর আটলান্টিকের গভীর পানিতে বিচরণ করতেই এটি বেশি পছন্দ করে।
১৯৩৬ সালে একজন ডেনমার্কের গবেষক একটি হাঙরকে নিয়ে গবেষণা করেছিলেন এবং এটিকে অন্যতম সাধারণ একটি জন্তুর আখ্যা দিয়েছিলেন। এই হাঙরটিকেই যখন আবার ১৯৫২ সালে পুনরায় ধরা হয় তখন এটি আকারে মাত্র ৮ সেন্টিমিটার লম্বা হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে এইও ধীর গতিতে আকৃতি বাড়বার সাথে সাথে এদের নিজেদের টিকিয়ে রাখার এক ধরনের ক্ষমতা রয়েছে এবং এই ক্ষমতাই এটিকে অনেকদিন গভীর পানিতে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নিয়েলসন ও তার সহযোগীরা একটি পরীক্ষা করেন। তারা একটি গ্রীনল্যান্ড হাঙর ধরেন এবং এটির কার্বন পরীক্ষা করে জানা যায় এটির বয়স প্রায় ৩৯২ বছর। এই সংখ্যাটির মাধ্যমে এটিই প্রমাণিত হয় যে গ্রীনল্যান্ড হাঙরই হচ্ছে একমাত্র সামুদ্রিক মেরুদন্ডী প্রাণী যারা এতবছর বেঁচে থাকতে পারে।
কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, সমুদ্রের এই অপার বিস্ময়কর প্রাণীরা জেলেদের দ্বারা প্রায়ই শিকারের কবলে পড়ছে।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.