বর্তমান যুগে স্মার্টফোন ব্যবহার করেনা এমন মানুষ খুব কমই দেখা যাবে। আমরা যারা ফ্রেন্ড সার্কেল নিয়ে চলাফেরা করি তাদের ক্ষেত্রে স্মার্ট ফোন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। কে কার থেকে দামী বা ভালো ফোন ব্যবহার করবে সেটি নিয়ে রীতিমতো পাল্লা শুরু হয়ে গেছে। বাজারে নতুন একটি ফোন আসার সাথে সাথে ঝাপিয়ে পরি সেটির বিস্তারিত জানার জন্য। এক বেলা খেতে না দাও চলবে মাগার একবেলা “ফেসবুক” ছাড়া চলতে পারবো না। এই যখন অবস্থা তখন আর আমি কি কইতাম। আজকে আপনাদের সাথে আলোচনা করবো, কিভাবে আমরা নিজেদের অজান্তে স্মার্টফোনর কারনে একেবারে আন-সোশ্যাল হয়ে পড়ছি তার কিছু ধরন নিয়ে।

স্মার্টফোন

১। সোশ্যাল মিডিয়াতে মাত্রারিক্ত চ্যাট করা-

আমরা পোলাপাইন সব থেকে বেশি যে কাজটি করে থাকি সেটি হচ্ছে ফ্রেন্ড দের সাথে আজাইরা বশে চ্যাট। একটি এখন ক্যান্সারের মতো হয়ে গেছে। একবার ধরলে আর ছারতেই চাইনা। এমন হয় যে, ক্লাসে বসে আছি সামনে স্যার লেকচার দিচ্ছে। এর মধ্যে পকেট থেকে ফোন বের করে চ্যাট শুরু। একেবারে হুদাই। আবার রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি হটাথ করে মেসেঞ্জার টুং করে উঠলো, উৎসাহের সাথে ফোন বের করে চ্যাট শুরু। আমি যে রাস্তা পার হচ্ছি বা একটি জ্যাম রোড দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি সেদিকে আমাদের খেয়ালি নেই। একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে বেশীরভাগ রোড এক্সিডেন্ট হয়ে থাকে চলন্ত অবস্থায় ফোন ব্যবহার করার কারনে। তাহলে বুঝুন আমরা পোলাপাইন এই কথাটার কোন দামিই দেইনা। আমি আপনাদেরকে জ্ঞান দিচ্ছি  সেটি মনে করে স্কিপ করলে আপনাদেরই ক্ষতি। নিজের ভালো পাগলেও বোঝে আর আপনিও বুঝবেন মাগার একবার এক্সিডেন্ট করার পরে।

চ্যাট

২। পরার টেবিলে স্মার্টফোন-

স্যারের দেয়া হোমওয়ার্ক কমপ্লিট না হবার মূল কারন এটি। পড়তে বসে হাতের কাছে স্মার্টফোন রেখে দিলে কখনোই পরা হবেনা যদি কিনা সে ফেরেস্তা না হয়। আমার কথাটার মানে হল আপনি যতই চেষ্টা করুন কিছুক্ষণ পর পর ফেসবুক আপডেট নোটিফিকেশন না দেখে মনে শান্তি আসবেনা।

পরার টেবিলে স্মার্টফোন

৩। বাথরুমে ফোন নিয়ে ঢোকা-

চিন্তা করেন এখন কোন যুগ জামানা চলছে। আগে খবরের কাগজ নিয়ে সবাই বাথরুমে ঢুকতো আর এখন স্মার্টফোন নিয়ে। কমডের ওপরে বসে বসে টেক্সট করা এটা কেমন অভ্যাস। সুনতেই কেমন জানি লাগছে না? দেখেন আপনার যেন আবার এমন কোন অভ্যাস না হয়ে যায়।

বাথরুমে ফোন নিয়ে ঢোকা

৪। মোবাইল গেমসের প্রতি আসক্ত-

এটি চ্যাট করার মতোই একটি মারাত্মক ব্যাধি। গেমস খেলতে খেলতে এমন অবস্থা হয়ে দারায় যে এটি ছাড়া আর ভালোই লাগে না। সকাল বিকাল সময় পেলেই শুধু গেমস। সবকিছুরই একটা লিমিট থাকা উচিৎ মাগার আমরা সেটা ভুলে যাই। গেমস অবসরে খেলা উচিৎ সব সময় না। কিন্তু আমরা কি করি? মোবাইলের চার্জ ফুরিয়ে গেলে আবার নতুন করে চার্জে লাগিয়ে খেলা শুরু করি।

মোবাইল গেমসের প্রতি আসক্ত

৫। কোথাও ছুটি কাটাতে গেলে-

মন তো মানে না লাইক “বাংলা মুভি”। আমাদের কি এমন দূর অবস্থা চলছে যে কোথাও ছুটিতে বেড়াতে গেলেও স্মার্টফোন আমাদের পিছু ছাড়ে না। আমি মনে করি অবকাশ যাপনটাকে আগে প্রাধান্য দেয়া উচিৎ পরে স্মার্টফোন। হ্যাঁ কয়েকটা সেল্কফি বা পিকচার স্মৃতি হিসেবে তুলে রাখা সেটি আলাদা কথা। মাগার কোথাও ঘুতে যেয়েও সেখানে চ্যাটিং নিয়ে বিজি হয়ে পরে এটি সত্যি খুবই বিরক্তিকর।

ছুটি কাটাতে গেলে

৬। বন্ধুদের সাথে থেকেও না থাকা-

আমি দেখেছি অনেক সময় বন্ধুদের মধ্যে মনমালিন্য হবার অন্যতম একটি কারন স্মার্টফোন। সব বন্ধুরা একসাথে বসে আড্ডা দিচ্ছি আর এর মাঝে এক বন্ধু তার প্রানপ্রিয় জানু মানে গার্লফ্রেন্ডের সাথে চ্যাট করা নিয়ে বিজি অথচ তখন ওরে নিয়ে আমরা কথা বলছি। এটি প্রমানিত এবং আমি নিজে আমার দোস্ত এর সাথে কয়েকবার এই একই বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি করেছি। ওর সাথে এখন দেখা হলে বলি যে দোস্ত তোর জানু কেমন আছে। আর ও লজ্জা পাই কারন অনেক আগেই ব্রেকআপ হয়ে গেছে। কথাটা বলতাম না তারপরেও বলালাম কারন আমরা প্রায়ই এই দুইটা বিষয়কে মিলিয়ে ফেলি যেটা কখনোই ঠিক না। আমার ওই ফ্রেন্ড কে বোঝাতেই পারতাম না, আরে ভাই তুই যখন সারারাত ধরে তোর জানুর সাথে গল্প করিস তখন কি তোকে আমরা কেউ বিরক্ত করি?

বন্ধুদের সাথে থেকেও না থাকা

৭। অন্যান্য-

এমন আরও অনেক কারন আছে যার দরুন আমরা দিনে দিনে আন-সোশ্যাল হয়ে পড়ছি। আমি চেষ্টা করেছি আমার অবস্থান থেকে আপনাদেরকে বোঝাতে। এখানে অনেক কথা উঠে এসেছে যেগুলা সত্যি আমরা নিজেরাই করে থাকি। সব থেকে কষ্টের বিষয় হল আমরা এই স্মার্টডিভাইস গুলকে খুব বেশি প্রাধান্য দিয়ে ফেলেছি। আর আজকে তার কুফল ভোগ করছি।

এর মানে এই না যে, আমি আপনাদের কে বলছি যে আপনারা স্মার্টফোন ব্যবহার বন্ধ করে দেন। আমি জাস্ট এইটুকু বলবো যে আপনি লিমিটে থাকুন। সময়ের টা সময়ে করুন। জাকে যখন সময় দেবার দরকার তখন তাঁকে সময় দেন। আর আজ এই স্মার্টফোনের কল্যাণে আমরা ক্রিকেট খেলা ভুলে গেছি। আগে বিকেল বেলা বন্ধুদের সাথে ক্রিকেট খেলতাম আর এখন সেটি বাদ দিয়ে মোবাইল গেমস খেলি।

অন্যান্য

সত্যি বলতে আমরা অনেক বেশি আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছি। যেটি কখনোই কাম্য না। একটা সময় আসবে যখন এই দিনগুলোর জন্য অনেক আফসোস হবে কিন্তু তখন করার আর কিছুই থাকবে না।

আমি আপনাদের কে স্মার্টফোন অথবা প্রযুক্তি ব্যবহার করতে নিরুৎসাহিত বা মানা করিনি। জাস্ট বোঝানর চেষ্টা করেছি এটির অতিরিক্ত ব্যবহারের খারাপ দিক গুলো সম্বন্ধে।

যদি ভুল বলে থাকি বা আজাইরা গেঁজানো মনে হয় কারোর কাছে তাহলে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী 🙂 ।

comments

2 কমেন্টস

  1. কথা সত্যি। কিন্তু …………

  2. সত্যিই আপনার লেখাটা অনেক সুন্দর হয়েছে। সে জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আর আপনি যা লিখেছেন তাই হচ্ছে এখনকার দুনিয়ায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.