পিকটিশ যোদ্ধার সাজে এযুগের তরুণী ছবি সূত্রঃ গুগল

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা একজন হতভাগ্য নিহত ব্যক্তির মুখাবয়ব নতুনভাবে তৈরি করতে সমর্থ হয়েছে প্রযুক্তির সাহায্যে। আপনি ভাবতেই পারেন এ আর এমন কি? প্রযুক্তির যুগে এই ধরণের কাজ তো অহরহই ঘটছে। কিন্তু যদি বলি যে ব্যক্তির মুখাবয়ব তৈরি করা হয়েছে তার মৃত্যু ঘটেছিল ১৪০০ বছর আগে? তাহলে আপনার ভাবনা কি হবে?

শুরুর কথাঃ

হতভাগ্য এই মানুষটি বয়সে একজন তরুণ। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে এই তরুণ একটি গ্রিজলি ভালুকের আক্রমণে নিহত হয়। তবে তার মাথায় কিছু আঘাতের আলামত পাওয়া যায় যেটি গ্রিজলি ভালুকের নাও হতে পারে। আজকের বর্তমান স্কটল্যান্ডে এই তরুণের বাস ছিল। বিজ্ঞানীরা এর দেহাবশেষ উদ্ধার করেছেন নিতান্তই অগোছালোভাবে। এর পা ছিল ক্রসড লেগ পজিশনে, হাত ও পায়ের নিচে পাথরের আঘাতে আলামত। স্কটিশ আইল্যান্ডের রোজশায়ারের একটি গুহায় একে খুঁজে পান বিজ্ঞানীরা।

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ডান্ডির সেন্টার ফর অ্যানাটমি এবং হিউম্যান আইডেন্টিফিকেশনে মানুষটির হাড় প্রেরণ করা হয়। ফরেনসিক নৃতাত্ত্বিক সু ব্ল্যাক এই দলটিকে পরিচালনা করেন যারা এই হাড়ের পর্যবেক্ষণ, পর্যালোচনা করে নানা ধরণের সিদ্ধান্তে উপণীত হন।

আঘাত যেভাবে প্রাপ্ত হলঃ

ডিজিটাল রি-কন্সট্রাক্টিভ ফেস তৈরির প্রক্রিয়া  ছবি সূত্রঃ লাইভ সাইন্স
ডিজিটাল রি-কন্সট্রাক্টিভ ফেস তৈরির প্রক্রিয়া
ছবি সূত্রঃ লাইভ সাইন্স

হাড়গুলোকে পর্যবেক্ষণ করবার পর তারা এর একটি ডিজিটাল পুনরুৎপাদন প্রক্রিয়ায় তার মুখাবয়ব তৈরি করবার চেষ্টা করেন। সু বলেন,

“এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কঙ্কালটির একটি সুন্দর ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা যায়। তার হাড় পর্যবেক্ষণ করে তার জীবনকাল সম্পর্কে খুব সংক্ষিপ্তই জানা যায় কিন্তু তার মৃত্যু কি ভয়ংকরভাবে হয়েছিল তা জানা যায় এই হাড়ের মাধ্যমে। আমরা জানতে পেরেছি যে সে বয়সে একজন যুবা ছিল এবং মৃত্যুর সময় তার মাথায় অন্তত পাঁচটি বড় বড় আঘাতের আলামত রয়েছে।”

মানুষটির মৃত্যুর কারণ একটি গোলাকার ধারালো বস্তুর মাধ্যমে। সু বলেন,

“এর আঘাতের কারণেই লোকটি তার ডান পাশের দাঁত হারায়। দ্বিতীয় যে আঘাতটি সে প্রাপ্ত হয় তার মাধ্যমে বামদিকের চোয়াল ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তৃতীয় আঘাতের ফলে মাথার পেছনে বড় ধরণের একটি গর্ত সৃষ্টি হয়। এটা ভাবা কঠিন কিছু না যে সে কারো বা কোন কিছুর রোষানলের শিকার হয়েছিল।”

চতুর্থ ও পঞ্চম আঘাতও তার মাথায় করা হয় তবে এর বেশ খানিক আগেইও হতভাগ্য মানুষটির মৃত্যু ঘটে। আঘাতের ফলে তার শরীরটি একপাশে হেলে যায় এবং এতেই তার মৃত্যুর চূড়ান্ত অঙ্ক সংঘটিত হয়।

রেডিও কার্বন টেস্ট থেকে জানা যায় যে খ্রিস্টাব্দ ৪৩০-৬৩০ এর মাঝামাঝি কোন একটি সময়ে মানুষটির মৃত্যু ঘটে। স্কটল্যান্ডে এই সময়টি পিকটিশ পিরিয়ড নামে পরিচিত ছিল।

প্রত্নতাত্ত্বিকেরা ইতোমধ্যেই ঐ গুহায় কাজ শুরু করে দিয়েছে। তাদের ধারণা পিকটিশ সময়কালে ঐ গুহায় লোহা ঢালাইয়ের কাজ করা হত। তবে সেখানে বসবাসেরও আলামত পাওয়া গিয়েছে। এটি তাদের কাছে নতুন কারণ ঐ সময়ে গুহায় বসবাসরত মানুষের কোন তথ্য পাওয়া যায় না। তারা ধারণা করছেন এই তথ্য তাদেরকে আরো নতুন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।

প্রত্নতাত্ত্বিক এই দলটির পরিচালক স্টিভেন বার্খ বলেন,

“প্রি-হিস্টোরিক কেভ (প্রাচীন গুহা) বিষয়ক প্রত্নতত্ত্বের ওপর কাজ করে আমি বেশ উল্লসিত। স্কটল্যান্ডে পিকটিশ সভ্যতার মানুষের সম্পর্কে খুব একটা তথ্য আমাদের হাতে নেই।”

এবার মুখাবয়বের ডিজিটাল রি-কন্সট্রাকশনঃ

প্রাচীন এই মানুষের সম্পর্কে আরো জানতে বিজ্ঞানীরা শুরু করলেন এবার কার্বন টেস্ট ও নানা ধরণের পরীক্ষা নিরীক্ষা। এর ফলে তাদের কাছে এর মুখাবয়ব কেমন হতে পারে সে সম্পর্কে একটু ধারণা। সঙ্গে প্রযুক্তির সাহায্য। কিছুদিনের মাঝেই তারা তৈরি করে ফেললেন প্রযুক্তির সাহায্যে ডিজিটাল রি-কন্সট্রাকটিভ একটি চেহারা।

পুন:নির্মান করবার পর চেহারা যা দাঁড়াল  ছবি সুত্রঃ লাইভ সাইন্স
          পুন:নির্মান করবার পর চেহারা যা দাঁড়াল
                    ছবি সুত্রঃ লাইভ সাইন্স

গুহায় যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে তা পর্যাপ্ত নয়। বিজ্ঞানীরা এখনো নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে যাচ্ছেন। তারা ধারণা করছেন ২০০০-৩০০০ বছর আগের এক সভ্যতা এই অঞ্চলে বসবাস করত। তবে তারা স্থায়ীভাবে এসেছিল নাকি ক্ষণিকের অতিথি, এটি সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত নন। তবে সেখানে চামড়ার জুতো তৈরি করার প্রমাণ রয়েছে। সবশেষে সু বলেন,

“হতভাগ্য এই মানুষটির সম্পর্কে খুব বেশি কিছু এখনো জানা যায় নি। সে গোত্রীয় কলহের শিকার নাকি গ্রিজলি ভালুকের শিকার হয়েছেইল তা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলবে। তবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় এই তরুণের দেহাবশেষ থেকে আরো নতুন নতুন বেশ কিছু তথ্য উঠে আসবে।

সুত্রঃ লাইভ সাইন্স

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.