এ পর্যন্ত বেশ কিছু পোষ্ট দেখেছি যেখানে ভাল পোষ্ট লেখার উপরে গুরুত্ব আরোপ ও পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে। এমনকি প্রব্লগার সহ বেশ কিছু ব্লগ আছে যেখানে ভাল ব্লগ লেখার পদ্ধতি সম্পর্কে বিশাল আলোচনা করা হয়েছে। ব্লগ লেখা যেমন কৌশলের বেপার ঠিক তেমনি ভাল পাঠক হওয়াও সহজ কাজ না। বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে অনলাইন পোষ্ট সমুহ পড়ে থাকে, তবে পোষ্ট থেকে ভাল কিছু গ্রহণ করার ক্ষেত্রে ভাল ভাবে পাঠ করার যোগ্যতাও অর্জন করতে হবে। আ এ বেপারে জনাথন ফিলিপসের টিপসগুলো আলোচনা করবো।

ipad_reading

১. ব্যক্তি বা বিষয়বস্তুর চেয়ে আলোচনার ভাষা ও গভীরতার মূল্য বেশি

অধিকাংশ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কিছু ব্লগে বা নির্দিষ্ট কোন লেখকের পাতায়া বেশি যাওয়া হয়। এবং প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়া হয়। আবার কোন কোন লেখকের পোষ্ট ঘুরে দেখাও হয় না। লেখার মৌলিকত্বের দিকে বিবেচনা করে লেখাটিতে মনযোগ বাড়িয়ে দেওয়া উচিৎ।

২. মতামত অংশে দৃষ্টিপাত

commentইন্টারনেট একটি উম্মুক্ত জগৎ। এখানে তথ্যকে আকানো যায় না। আপনার মুখের কথা যেমন স্বাধীনবাবে বলা যায়, ইন্টারনেটেও এরূপ স্বাধীনভাবেকোটি কোটি সত্য মিথ্যা কথা হয়। এখানে কথাকে মডারেশন করে প্রকাশ করার মতো বাধ্যবাদকতা নাই। আর তাই কোন লেখকের লেখাটি পাঠ করার পর (যদি মতামতের ব্যবস্থা থাকে) পাঠকের মতামতের দিকেও আপনার তাকানো উচিৎ।

কোন একটি কথা আপনার অপছন্দ হলে বা ভাল লাগলে আপনার অনুভূতি প্রকাশ করুন। এতে করে অন্যন্য পাঠকরা তথ্যটির সত্যতা বা জনপ্রিয়তা সম্পর্কে জানতে পারবে।

৩. যোগাযোগ, আলোচনা ও সামাজিক বন্ধন

এক সময় আমি বেশ কিছু পাঠ চক্রে অংশগ্রহণ করেছিলাম। সেখানে নিজেরা অল্প কিছু পাট করতাম এবং সেটার উপরে অনেক বড় আকারে আলোচনা হতো। আমরা পাঠের বিষয়ের চেয়ে মজার মজার তথ্য শিখতে পারতাম আলোচনায়।network

আসাদগেটে একটা ‘কবিদের আড্ডা’ বসতো সপ্তাহের বিকেল বেলা। আমি বেশ কয়েক সপ্তাহ সেখানে উপস্থিত হয়েছিলাম। নিজেদের কবিতা উপস্থাপন হতো সেখানে। তার পর সবাইমিলে আলোচনা, সমালোচনা করতো। একটা সময় সপ্তাহ শেষে পাঠের বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা হতো।

এরকম পাঠ চক্রে এখন য্ওয়া যাওয়া হয় না। আলোচনাটা যে মূল বিষয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা সেখানথেকে আমি জেনেছি। আর সেই আলোচনার পর অনেকে অনেক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন দিয়েছে.. তৈরী হয়েছে সুসম্পর্ক।

এখনকার বেপারটা একটু ভিন্ন। অনলাইন সংস্কৃতি চরে এসেছে আমাদের মাঝে। আমরাও লেখালেখি আর আলোচনার মাধ্যমে একে অন্যের সাথে পরিচিত হই। একজন অন্য জনের সম্পর্কে জানি এবং বিভিন্নভাবে যুক্ত হই। অনেকের সাথে সরাসরি দেখাও হয়।

লেখা থেকে পরিচয় অনেক সময় সরাসরি যোগাযোগে পরিনত হয়। টিউটোরিয়ালবিডি বা বিজ্ঞানপ্রযুক্তি বা অন্যকোন সাইটের লেখকদের সাথে আমার সমপর্কটার উৎসই অনলাইনে লেখা, অন্যের লেখা পাঠ করা এবং মতামতে অংশগ্রহণ।

৪. সময় দেওয়া

অনুমান করা হয় অনলাইনের কোন একটি পাতার মাত্র ২০ভাগ লেখার অংশ পঠিত হয়। কোন একটি ইকমার্স সাইটে (Online Shopping) অধিকাংশ ক্ষেত্রে মূল্য আর মডেলটি দেখা হয়। ডাউনলোডের সাইটে ডাউনলোড লিংকে ক্লিকের জন্য ব্যস্ত হয়ে পরে পাঠক উঠে পড়ে লাগে।time

কিন্তু ব্লগের বেপারটিকে এভাবে নিলে চলবে না। এখানে শিখার উদ্দেশ্যে আসলে একটু বেশি সময়ই দিতে হবে আপনাকে। একজন লেখক ১০০০ শব্দে যা লিখেছে তা কিছু অংশ পড়েই খুব সহজে বোঝা সম্ভব না। আর তাই সময় দিয়ে এবং প্রয়োজনে বিভিন্ন শব্দের অর্থসমুহ ভালভাবে বুঝে এগিয়ে গেরে ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে।

৫. হাতে কলমে প্রশিক্ষন নেওয়া

practicleটিউটোরিয়াল বা শিক্ষনীয় সাইটের ক্ষেত্রে বিষয়টি পাঠ করে সাথে সাথে কাজ করে গেলে সুবিধা হবে। কোন ধাপে সমস্যা দেখা দিলে মন্তব্য প্রদান করলে উত্তরে জবাব পাওয়া যাবে। অনেকটা অনলাইন ক্লাসরুমের পরিবশ সৃষ্টি করা যেতে পারে।

৬. কল্পনা শক্তির সঠিক ব্যবহার

একজন লেখক চেষ্টা করেন তার নিজের ভেতরের কথাগুলোকে সুন্দরভাবে অন্যরের কাছে লিখিত ভাষায় প্রকাশ করতে। কিন্তু কখনোই সম্পূর্ণভাবটি প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। আর তাই পাঠককে অবশ্যই কল্পনা করে বুঝে নিতে হয় বেপারটি। আর তার জন্যই কল্পনা শক্তির ব্যবহার বেশ সতর্ক হতে হবে। লেখক যা বুঝাতে চাইছে তা না বঝে অন্য কিছু বুঝে নিলে বেপারটি নিয়ে দ্বিমত সৃষ্টিও হতে পারে।think

অনেক সময় লেখাটিতে বেশ কিছু অপরিচিত শব্দও থাকতে পারে আর সেটা সম্পর্কে আপনাকে কাছাকাছি অর্থ কল্পনা করে নিতে হতে পারে। আর মানুষ সেটাই করে। কোন শব্দের আনুমানিক অর্থতে ভুল হয়ে গেলে পাঠক সঠিক তথ্যটি গ্রহণ করার ক্ষমতা হারাবে।

এছাড়া অবশ্য অনেকগুলো বিষয় নিজের থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। কোন কোন পোষ্টে লেখার একটা অংশ তিন চারবারও পড়ার দরকার হতে পারে আবার কিছু অংশ বাদ দিয়ে গেলেও সমস্যা হয় না। আশা করি এই পোষ্টটি থেকে সবাই অনলাইন প্রকাশনার পাঠ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা আপনার পরের পোষ্ট পড়ায় কাজে লাগাবেন।

comments

8 কমেন্টস

  1. মাহবুব ভাইয়া,
    অসাধারন। সত্যিই, লেখাটির কোন জুড়ি নেই। এত চমৎকার একটি লেখার প্রকাশের জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

  2. ব্যাতিক্রমী টিপস লিখার জন্য ধন্যাবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.