টেকনোলজি ওয়ার্ল্ডের সবচেয়ে বিরক্তকর প্রোডাক্ট হচ্ছে, আমাদের ফোনের কিংবা ল্যাপটপের ব্যাটারি, এই কথাটা তখনি সবার মনে হয় যখন আমাদের মোবাইলের বা ল্যাপটপের চার্জ শেষ হয়ে যায় খুব একটা জরুরি কাজ শেষ করার আগ মুহূর্তে। আমরা আমাদের ব্যাটারির কথা তখনি ভাবি যখন আমাদের মোবাইলের চার্জ ফুরিয়ে যায়। অথবা যারা আমরা খুবই সচেতন তারা বাসা থেকে বের হবার আগ মুহূর্তে ব্যাটারির খবর নেই, দেখে নেই চার্জ আছে নাকি।

 

আশা করি, আমরা সবাই জানি ব্যাটারির একটা লাইফ সাইকেল আছে। সেটা একটা নির্দিষ্ট সময় পরে মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু আমরা যদি একটু সচেতনতার সঙ্গে ব্যাটারি চার্জ করি তাহলে আমাদের ব্যাটারি অনেক দিন চলবে নিঃসন্দেহে। আসুন জেনে নিই কী উপায়ে আমরা ব্যাটারি চার্জ করব এবং এটাও জানব কীভাবে দ্রুততার সঙ্গে মোবাইল কিংবা ট্যাবলেট এর ব্যাটারি চার্জ করতে পারব।

 

ব্যাটারি আজীবন টিকে থাকেনা। অ্যাপলের মতে তাদের ল্যাপটপের ব্যাটারিগুলো ১০০০ বার চার্জ নেবার পর ৮০ ভাগ কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এ সময় এরা বেশিক্ষণ চার্জ ধরে রাখতে পারেনা, এর ফলে ব্যাটারি খুব কম পরিমান সাপোর্ট দেয় আপনার প্রিয় ডিভাইসটি চালু রাখার জন্যে। তাই বলে কী ব্যাটারি চার্জ করা বন্ধ করে দিবেন। সেটাতো আর করা যাবেনা। আরেকটা বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে সেটা হলো, ব্যাটারি মেমোরি ইফেক্ট।

 

ব্যাটারি মেমোরি ইফেক্ট কী?
ব্যাটারি মেমোরি ইফেক্ট হলো খুবই সাধারণ একটি বিষয়। ব্যাটারি মনে রাখতে পারে আপনি কতটুকু চার্জ করেছেন তাকে যদি কিনা আপনি জিরো থেকে চার্জ না করেন। ব্যাপারটা ক্লিয়ার হলোনা তাইতো?

 

ধরুন আপনি ডিভাইসের ব্যাটারি প্রতিনিয়ত চার্জ করেন ২০% থেকে ৮০% পর্যন্ত। এর ফলে যেটা হবে, ব্যাটারি বাকি ৪০% এর কথা ভুলে যাবে। আপনার ব্যাটারি সর্বদাই ৬০% চার্জ করবে যদিওবা আপনি আপনার মোবাইল এ দেখবেন ১০০% চার্জ ফুল। ওই যে অবশিষ্ট ৪০% ব্যাটারি সেটা কাজে আসবেনা যদি কিনা আপনি ব্যাটারি ০% থেকে চার্জ শুরু করেন। তবে ভয় পাবার কোনো কারণ নেই। এই সমস্যা নিকেল ভিত্তিক ব্যাটারিগুলোতে হয়। এখন বেশিরভাগ ব্যাটারি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি।

 

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে এই ঘটানার ঠিক উল্টোটা ঘটে। এই ব্যাটারিতে যদিওবা ব্যাটারি মেমোরি ইফেক্টের ঝামেলা নাই। আপনি পারত পক্ষে চেষ্টা করবেন যাতে আপনার ব্যাটারি ০% এ না নেমে আসে। প্রতিনিয়ত অল্প অল্প করে চার্জ দিলেই ভালো থাকে ব্যাটারি, তাই বলে সারাদিন মোবাইল চার্জ এ লাগিয়ে রাখবেন না যেন। এতেও ক্ষতি হতে পারে।

 

চার্জ একদম শূন্য থেকে ১০০% এ ফুল না করাই ভালো
লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির চার্জ করার নিয়ম হচ্ছে, অল্প অল্প করে চার্জ দেয়া। ৫০% থাকতেই চার্জ দিতে হয়। ৫০% এর নিচে নেমে আসলে একটু চার্জ করে নিন। চার্জ সবসময় ৫০% এর আশেপাশে রাখা সবচেয়ে ভালো।

 

আমরা অনেকে ব্যাটারিকে ১০০% ফুল করে রাখতে ভালবাসি। কিন্তু এটা করা ঠিক না। এতে করে আপনার ব্যাটারির ক্ষতি হয় এবং ব্যাটারির আয়ু কমে যায়। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ক্ষেত্রে আপনারা চেষ্টা করতে পারেন ব্যাটারির চার্জ ৪০% থেকে ৮০% এ রাখার। আর পারত পক্ষে ব্যাটারির চার্জ ২০% এর নিচে নামাবেন না।

 

এখন মনে অবশ্যই প্রশ্ন এসেছে কখন তাহলে মোবাইল ১০০% চার্জ ফুল করব?
হ্যাঁ, অবশ্যই করবেন, তবে সেটা মাসে একবার। এটা আমার কথা না। এটা এক্সপার্টদের এর কথা। এতে করে আপনার ব্যাটারির রিক্যালিবারেট হবে। ঠিক যেমনটা আপনার কম্পিউটার রিস্টার্ট দিলে যেমন হয় অথবা একটানা কাজ করে আপনি ছুটি কাটাতে গেলে যেমন ফ্রেশ একটা অনুভুতি লাভ করেন, আপনার ব্যাটারি সেইরকম একটা রিফ্রেশমেন্ট পাবে।

 

অনেকেই জানতে চান রাতে মোবাইল চার্জে রাখলে কী হতে পারে?
আমাদের এখনকার স্মার্টফোনগুলো আসলেই অনেক স্মার্ট। কারণ এখনকার ফোনগুলো একবার ফুল চার্জ হয়ে গেলে আর চার্জ নেয়না। আটোমেটিক চার্জ নেয়া বন্ধ করে দেয়। তবে এক্সপার্টরা বলেন দীর্ঘ সময় ফোন চার্জ এ না রাখাই ভালো। এতে করে আপনার মোবাইল ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে।

 

মোবাইল ব্যাটারি ফাস্ট চার্জিং করলে কোনোরূপ ক্ষতি হবে নাকি?
বর্তমানে অনেক মোবাইলে ফাস্ট চার্জিং মেথড দেয়াই থাকে। স্যামসাং তাদের টেকনোলজিকে আল্ট্রা ফাস্ট চার্জিং নাম দিয়েছে, মটোরোলা তাদের ড্রয়েড টার্বো ফোনে এমন ব্যবস্থা করেছে যে আপনি ৮ ঘণ্টার চার্জ মাত্র ১৫ মিনিটে দিতে পারবেন। এইচটিসির র‌্যাপিড চার্জার ২, তাদের ফোনগুলোকে অন্যান্য ফোন থেকে ৪০% তাড়াতাড়ি চার্জ করে থাকে।

 

এই সকল ফোনগুলোতে এক বিশেষ ধরনে চিপ ব্যবহার করা হয়ে থাকে, এই গুলোকে বলা হয় পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট আইসি (পিএম আইসি) বলা হয়। এই চিপগুলো আপনার ফোনের চার্জারের সাহায্যে দ্রুত চার্জ হতে সাহায্য করে।

 

তবে অ্যাপল এর আইফোন সিক্সে এই ব্যবস্থা না থাকলেও, আইফোনের কোয়ালকম পিএম আইসি সিস্টেম অনেক স্মার্ট, এটা যখনি কোনো উচ্চ চার্জ উৎপন্নকারী চার্জারের সংস্পর্শে আসে তখনি এই সিস্টেম ব্যাটারিকে খুব ফাস্ট চার্জ করিয়ে দেয়।

 

কিন্তু ফাস্ট চার্জিং খুব একটা ভালোনা। কারণ এটা আপনার মোবাইল এর লিথিয়াম- আয়ন ব্যাটারিকে অনেক গরম করে ফেলে এবং ব্যাটারির আয়ু কমিয়ে দেয়।

 

এই একই কারণে দয়া করে আপনার ফোনটি অতিরিক্ত গরম কোনো পরিবেশে না রাখতে চেষ্টা করবেন। যেমন ধরেন খোলা আকাশের নিচে, ওভেনের পাশে ইত্যাদি। তাই বলে আবার অতিরিক্ত ঠান্ডা জায়গায়ও মোবাইল ফোনটা রাখা চলবেনা। পারত পক্ষে ফাস্ট চার্জিং থেকে বিরত থাকাই ভালো।

 

কোন চার্জার ব্যবহার করবেন?
চার্জার ব্যবহার এর ক্ষেত্রে সবসময়ই চেষ্টা করবেন যেটা আপনার ফোনের সঙ্গে দেওয়া হয়েছে যে চার্জারটি সেইটাই ব্যবহার করতে। কারণ আপনার ফোনের সব কিছু বিবেচনা করেই ওই চার্জারটি তৈরি করা হয়েছে। যদি কোনো কারণে ফোনের সঙ্গে দেওয়া চার্জারটি হারিয়ে কিংবা নষ্ট হয়ে জায় তখন এমন চার্জার ব্যবহার করবেন যেটা কিনা আপনার ফোনের সঙ্গে সঠিকভাবে মিলে যায়। এরকম অনেক ঘটনা জানা গেছে যে, এসব থার্ড পার্টি সস্তা চার্জারগুলোতে অনেক সময় আগুন লেগে যায়।

 

সুতরাং আপনি আপনার লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিকে আশা করি আর ০% এ নামিয়ে আনবেন না। চেষ্টা করবেন যাতে কমপক্ষ্যে ৪০%-৫০% চার্জ থাকে। যদি আপনি এসব ব্যাটারি ব্যবহার না করেন তাহলে এই ব্যাটারিগুলো প্রতি মাসে প্রায় ৫% থেকে ১০% ড্রেইন হয়ে যায়। আর আপনি যদি দীর্ঘ সময় ধরে আপনার ব্যাটারিকে অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে রাখেন তাহলে সেটা অনেক সময় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে যায়। অনেকে মোবাইল, ল্যাপটপ অনেক দিন অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে রাখেন এতে করে এই সমস্যায় আপনাকে পড়তে হতে পারে। এই জন্য যেটা করতে পারেন, সেগুলোকে অন্ততপক্ষে অর্ধেক চার্জ করে রাখতে।

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.