এখন শুধু তার দরজায় কড়া নাড়া বাকি। মঙ্গলবার ভোরেই আমরা কড়া নাড়তে পারব বৃহস্পতির দরজায়। পৌঁছে যাব এই সৌরমণ্ডলের সবচেয়ে বড় আর সবচেয়ে ‘অগ্নিশর্মা’ গ্রহের সবচেয়ে কাছে। বৃহস্পতির উত্তর মেরুর কোনও একটি কক্ষপথে। এই প্রথম বৃহস্পতির এত কাছে পৌঁছনোর সাহস দেখাতে পারব আমরা!

তিনি বৃহস্পতি। এই সৌরমণ্ডলের গ্রহ-কূলে তিনিই ‘গুরু’! আমরা মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন ও প্লুটোর দ্বারে-দ্বারে ঘুরেছি। বৃহস্পতির পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে গিয়েছি একাধিক বার। কাছাকাছি যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও এত দিন স্পর্ধা হয়নি আমাদের ‘গুরু’ বৃহস্পতির এতটা কাছে পৌঁছনোর। আমরা ভয় পেয়েছি, সম্ভ্রমে। এই সৌরমণ্ডলের সবচেয়ে বড় গ্রহ বলে কথা! শেক্সপিয়র বোধহয় একেই বলেছিলেন ‘রেভারেন্সিয়াল ফিয়ার’!

৪২ বছর ধরে একটু একটু করে চেষ্টা চালানোর পর এ বার হয়তো সত্যি-সত্যিই আমরা সেই সম্ভ্রমের বেড়ি-বাঁধন ভাঙতে চলেছি! ‘দেখি না কী হয়’ বলে একেবারে সটান পৌঁছে যাচ্ছি ‘গুরুপ্রণাম’ সারতে! ৫ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে (আমেরিকার সময় ৪ জুলাই সন্ধ্যা)। ওই দিনই নাসার মহাকাশযান ‘জুনো’ পৌঁছে যাচ্ছে এই সৌরমণ্ডলের বৃহত্তম গ্রহ- বৃহস্পতির সবচেয়ে কাছে। ‘গুরু গ্রহে’র ওপরে ঘন গ্যাসের মেঘ থেকে মাত্র ২ হাজার ৯০০ মাইল বা, ৪ হাজার ৬৬৭ কিলোমিটার দূরে বৃহস্পতিরই একটি কক্ষপথে। অনন্ত মহাকাশ থেকে ‘জুনো’কে সজোরে ঠেলে বৃহস্পতির কক্ষপথে ঢুকিয়ে দেওয়ার জন্য ওই দিন মহাকাশযানটির ‘থ্রাস্টার ইঞ্জিন’ চালু হবে ৩৫ মিনিটের জন্য।

.

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here