প্রত্যেক মানুষই তাঁর নিজের ভাষায় কথা বলে। একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করতে বা নির্দেশ দিতেও এ ভাষা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। মানুষ অন্যের ভাষা বোঝে এবং সে অনুযায়ী কাজ করতে পারে। তেমনি কম্পিউটারেরও ভাষা রয়েছে। এটি তার নিজের ভাষা ই কেবল বোঝে, সে ভাষায় ইনপুট বা তথ্য গ্রহণ করে এবং সে অনুযায়ী ফলাফল প্রদান করে।

বেশিরভাগ ব্যবহারকারীই মনে করে থাকেন কম্পিউটার যেহেতু ইংরেজি ভাষায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে তাহলে এর ভাষাও নিশ্চয় ইংরেজিই হবে। তবে এসমস্ত ব্যবহারকারীদের ধারণা একেবারেই ভুল। কম্পিউটারের একান্তই নিজস্ব একটি ভাষা রয়েছে, যে ভাষায় সে নির্দেশ গ্রহণ করে এবং সে অনুযায়ী আউটপুট বা ফলাফল প্রদাণ করে। কম্পিউটারের নিজস্ব এ ভাষাটির নাম বাইনারি ভাষা। প্রত্যেকটি ভাষায়ই যেমন আলাদা আলাদা অর এবং সংখ্যা রয়েছে তেমনি কম্পিউটারের ভাষায়ও আলাদা অর রয়েছে। তবে পার্থক্য হলো অন্যান্য ভাষার মতো কম্পিউটারের ভাষায় অনেকগুলো অর নেই, অর রয়েছে কেবল এক (১) এবং শূন্য (০)। কম্পিউটার যত কাজই করে এবং যত নির্দেশই গ্রহণ করে তা কেবল এই দুটি অরের মাধ্যমেই।

কম্পিউটারকে যখন কোন নির্দেশ দেয়া হয় তখন এটি ইন্টারপ্রিটার বা অনুবাদক প্রোগ্রাম ব্যবহার করে যান্ত্রিক ভাষায় রুপান্তর করে নেয়। একেকটি বাইনারি সংখ্যা বা একককে বিট বলা হয়ে থাকে। আবার পরপর ৮ টি বিটকে একত্রে বলা হয়ে থাকে বাইট। এ বিট বাইট ব্যবহার করেই কম্পিউটার দুনিয়ার তাবত কাজের জন্য নির্দেশ নিতে পারে। কম্পিউটারে যেসব তথ্যাবলী সংরক্ষিত থাকে সেগুলোও বাইনারি এককে থাকে। কম্পিউটার যেহেতু শূন্য এবং এক ছাড়া অন্যকোঁন অক্ষর বোঝেনা তাই প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে কোন ইংরেজি বা বাংলা শব্দ টি কিভাবে মেমোরিতে সংরক্ষন করে রাখতে পারে? এখানেও আছে সেই বাইনারি! ASCII Code, UNICODE শব্দগুলো সবার পরিচিত। প্রতিটি অক্ষরের জন্য একটি বাইনারি কোড আছে। যেমন ধরুন আপনি  “ন”  অক্ষরটির সংরক্ষণ করতে চান। ”ন” এর ASCII code হলো ০১১০০০১০ যা কম্পিউটার আগে থেকেই জানে। আপনি ‘ন’ ইনপুট দিলে কম্পিউটার ০১১০০০১০ কে মেমরিসেলে সংরক্ষণ করবে। কম্পিউটারে বাইনারির ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চয়ই সবাই বুঝতে পেরেছেন। এও নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন কম্পিউটার কেবল দুটি সংখ্যার উপর ভিত্তি করে চলে, সেটি হলো এক এবং শূণ্য। তাই শুধু এক এবং শূণ্য দিয়েই যদি নির্দিষ্ট একটি দিন এবং সময় থাকে তাকে কি বাইনারি মুহুর্ত বলা চলে? উত্তর আসবে অবশ্যই বলা চলে।  ’১০ সালের ১০ মাসের ১০ তারিখের সকাল ১০ টা মিনিটের দশ সেকেন্ড সময়টাতে রয়েছে কেবল এক এবং শূণ্য। তাই ঐতিহাসিক এ মুহুর্তটিকে বলা হচ্ছে বাইনারি মুহুর্ত। সবাই সবার মতো অনুষ্ঠানটি উদযাপন করবেন আশা করি। আর যদি আপনি ঢাকায় থাকেন তাহলে সকাল ১০ টায় চলে আসতে পারেন বুয়েট ক্যাম্পাসে। এখানে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সাভিসেস বা বেসিসের পক্ষ থেকে বাইনারি মুহুতটি উদযাপন হবে। দিনটি উদযাপন না করলে হয়ত আমাদের লাইফে আর এ সময়ের সাক্ষাত পাবো না। কারণ সময় টা আসবে আবার ১০০ বছর পর আসবে। ততদিন হয়ত আমরা আর বেঁচে থাকবো না। 🙁

ঢাকায় যারা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চান তারা বাইনারি মুহুতের প্রোগ্রামটি সম্পকে জানতে দৈনিক কালের কন্ঠে প্রকাশিত আমার একটি সংবাদ একনজরে দেখে নিতে পারেন। 🙂

ডিয়ার রিডার, বাইনারি মুহুতটি কিভাবে উদযাপন করলেন সেটি আমাদের জানান। 🙂 আশা করছি আপনাদের সময় টা ভালো কাটবে। হ্যাপি রিডিং.. 🙂 হ্যাপি বাইনারি মোমেন্ট.. 🙂

comments

5 কমেন্টস

  1. মজার একটি মূহুর্ত। সময়টা কেমন কাটবে জানি না। কোন প্ল্যান নেই।

  2. সামনে ই তো আবার আসছে ……… আমি ঠিক বুজলাম না, এমন তারিখ ত আগেও আসলো এবং আবারো আসবে …… কিন্তু কেউ কিছু বলেই নি……আজকের তারিখ নিয়ে কেন এতো কিছু ????????
    নিচের তারিখ গুলো একটু দেখুন………

    ০১-০১-০১
    ১১-০১-০১
    ০১-০১-১০
    ১১-০১-১০
    ১১-১০-১০ (আগামি কাল)
    ১১-১১-১০
    ০১-০১-১১
    ১১-১০-১১
    ১১-১১-১১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.