যেসকল গোপন তথ্য ফাঁস করেছে উইকিলিকস, তার মধ্যে বাংলাদেশের বেশ কিছু তথ্য রয়েছে। উইকিলিকসের ফাঁস করা মার্কিন গোপন কূটনৈতিক নথি থেকে যেসব তথ্য জানা গেছে তা অনেকটা এরকমঃ বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল-ইসলামী বাংলাদেশকে (হুজি-বি) মূল ধারার রাজনীতিতে আনার চেষ্টা করেছিল প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)। গোয়েন্দা সংস্থাটির সমর্থনেই ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টি (আইপিডি) নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন হুজির নেতারা। তবে এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় দলটিকে নিবন্ধন দেয়নি নির্বাচন কমিশন।
2-fakruddin
২০০৮ সালের ৩ নভেম্বর ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ‘ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি ডেইলি’ বিষয়ক তারবার্তাটি ত্রিপোলির মার্কিন দূতাবাস, কাসাব্লাংকার মার্কিন কনস্যুলেট ও জোহানেসবার্গের মার্কিন কনস্যুলেটে পাঠানো হয়। এ নথিতে নতুন দল গঠনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের নেতাদের এভাবে প্রকাশ্যে নিয়ে আসায় মার্কিন দূতাবাসের বিরোধিতা ও আশঙ্কার বিষয়গুলো বর্ণনা করা হয়।
নথিতে বলা হয়, আইডিপি সদ্য আত্মপ্রকাশ করা একটি দল। জঙ্গি সংগঠন হুজি-বির জ্যেষ্ঠ নেতারা এই দল গঠন করেছেন। হুজি-বিকে মূলধারার রাজনীতিতে আনার লক্ষ্যে আইডিপি গঠনে সমর্থন দিয়েছে বাংলাদেশের ডিজিএফআই এবং তাদের কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংস্থাটি। যদিও হুজি-বি সহিংসতা পরিহারের কোনো ঘোষণা কখনো দেয়নি। সংগঠনটি বাংলাদেশকে একটি ইসলামি রাষ্ট্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করে।
মার্কিন নথির এ তথ্যের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চাইলে ডিজিএফআইয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেহেতু তখন দেশে নির্বাচিত সরকার ছিল না, তাই কোন পরিস্থিতিতে এটা বলা হয়েছে, তা আমাদের জানা নেই।’
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথিতে বলা হয়, ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস আইডিপি গঠনে কঠোর বিরোধিতা করে। সংগঠনটির নেতারা ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস ও মার্কিন স্বার্থের ওপর হামলা চালাতে পারেন। তবে বিগত কয়েক বছরে গ্রেপ্তার ও নজরদারির কারণে হুজি-বির সক্ষমতা সন্দেহাতীতভাবে হ্রাস পেয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া এবং সন্ত্রাসে সহযোগিতা করার জন্য নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হুজি-বি নিজেদের একটি রাজনৈতিক শাখা গঠনের সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে আইডিপি গঠনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, এতে উগ্রপন্থীরা একটি মধ্যপন্থী সংগঠনের আড়ালে সহজেই জঙ্গি তৎপরতা চালাতে পারবে।
মার্কিন নথিতে আরও বলা হয়, হুজি-বির ক্ষমতা সম্পর্কে ডিজিএফআই, এনএসআই ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়নপত্র তৈরি করেছে। এ নিয়ে সংস্থাগুলোর মধ্যে মতান্তর বিস্তর। ‘মার্চ মাসের (২০০৮) প্রথম দিকে হুজি-বিকে যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার পর র্যাবের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, হুজি-বির নেতারা গ্রেপ্তার হওয়ায় এর নেতৃত্ব কাঠামো এবং ক্ষমতাবলয় বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর তীক্ষ নজরদারির কারণে সংগঠনটি জঙ্গি তৎপরতা চালাতে সক্ষম হবে না। তবে পশ্চিমা স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ব্যক্তিগতভাবে হামলা চালাতে চেয়েছিলেন এমন কয়েকজন সদস্য এখনো আইইডি (ইমপ্রুভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস), গ্রেনেড ও হালকা অস্ত্র চালানোর ক্ষমতা রাখেন। ডিজিএফআই বলেছে, বাংলাদেশে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনার জন্য সংগঠনটি হুমকিস্বরূপ নয়। আর এনএসআই বলেছে, হুজি-বি তাদের লক্ষ্যবস্তু ও ঢাকায় মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালাতে এখনো সক্ষম। যদিও কোনো সম্ভাব্য হামলার তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
নথিতে বলা হচ্ছে, হুজি-বির বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে সংগঠনটির সদস্যরা সম্ভবত বিস্ফোরক তৈরি ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সক্ষমতা ফিরে পেতে পারেন।
এদিকে ভারতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, আইডিপি গঠন নিয়ে বিতর্কের সময় বাংলাদেশের একজন ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা পিটিআইকে বলেছিলেন, ‘হুজির নেতাদের বিগত দিনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সত্ত্বেও আমরা তাঁদের রাজনৈতিক দল গঠনে সমর্থন দিয়েছি। কারণ, এতে আমরা তাঁদের নজরদারির মধ্যে রাখতে পারব। সবাইকে আন্ডারগ্রাউন্ডে পাঠানো হলে তাঁদের ওপর নজরদারিটা কঠিন হয়ে পড়বে।’

উইকিলিকসের ফাঁস করা মার্কিন নথির এ বক্তব্য সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে ড. ফখরুদ্দীন আহমদ গতরাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘মার্কিন নথির বক্তব্য আমি দেখিনি। যদি এ রকম বক্তব্য থাকে, তাহলে সেটা অসত্য।’
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থানরত ড. ফখরুদ্দীন আরও বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আমি দায়িত্ব পালন করেছি। সেনাবাহিনীকে ক্ষমতায় আনার জন্য আমার সরকার কাজ করেনি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরে আমরা সহায়তা করেছি মাত্র।’

প্রথম আলো থেকে প্রকাশিত

(বিঃ দ্রঃ প্রোষ্টটি তথ্য প্রযুক্তির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত না হওয়া সত্বেও উইকিলিকসের ধারাবাহিক খবর হিসেবে প্রকাশ করা হলো।)

comments

5 কমেন্টস

  1. এই খবরগুলো পুরানো। উইকিলিক্সের আগেও পত্র-পত্রিকায় এসব বহুবার প্রকাশিত হয়েছে।

  2. ফখরুদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হয় কার মাধ্যমে। প্রথম আলোর নিউজটাটে যোগাযোগের বিষয়টা উল্লেখ নাই……জানালে উপকৃত হব

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.