ট্রেডিশনাল উপায়ে ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অফিসে গিয়ে চাকরি করার জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে বহু আগে থেকেই। ইন্টারনেটের কল্যাণে মানুষ এখন অধিক হারে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছে। ঘরে বসেই ফ্রিল্যান্সিং-এর মাধ্যমে গড়ে তুলছে নিজের ক্যারিয়ার। স্বল্প পরিমাণ থেকে শুরু করে প্রচুর টাকা আয়েরও উদাহরণ রয়েছে এই ফ্রিল্যান্সিং থেকে। কারো কারো ফ্রিল্যান্সিং-এর ক্যারিয়ার এতোটাই সফল হয়ে ওঠে যে, কাজের চাপ সামাল দিতে না পেরে শেষে আরও কয়েকজন মিলে ছোটখাটো ব্যবসাই শুরু করে দেন। আর সেই ব্যবসাও উন্নতির দিকেই যেতে থাকে।

2010-09-07_151104

একজন ফ্রিল্যান্সার আর দশজন কম্পিউটার ব্যবহারকারীর মতো নন। আপাতঃদৃষ্টিতে অনেকেরই মনে হতে পারে একজন ফ্রিল্যান্সার আর চাকরিরত কম্পিউটার ব্যবহারকারীর মধ্যে খুব একটা পার্থক্য তো নেই। একজন অফিসে কাজ করেন, আরেকজন ঘরে কাজ করেন। যদি পার্থক্য এতটুকুই মনে করেন, তাহলে আপনি ভুল বুঝছেন। যদি আপনি ফ্রিল্যান্সার হোন এবং আপনি মনে করেন আপনি সফল, তবুও যদি ফ্রিল্যান্সারের কতিপয় নিয়ম-কানুন মেনে চলতে পারেন, তাহলে দেখবেন আপনার সফলতা কোথায় গিয়ে ঠেকে।

যাই হোক, আজকে আলোচনা করবো ফ্রিল্যান্সারের ডেস্কটপ বা ওয়ার্কস্পেস কেমন হওয়া উচিৎ ও এই নিয়ে এক্সপার্টদের কাছ থেকে পাওয়া ১০টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস।

ফ্রিল্যান্সাররা হয়তো আর দশজন কম্পিউটার ব্যবহারকারীর মতোই ডেস্কটপে অথবা ল্যাপটপে কাজ করে থাকেন। তবে যেহেতু তাদের কাজ অন্য যেকোনো ব্যবহারকারীর তুলনায় অনেক বেশি ডেডিকেটেড এবং সিরিয়াস, সেহেতু তাদের কাজের ধরন, পরিবেশ ইত্যাদি সবই আলাদা হওয়া উচিৎ। আসুন জেনে নেয়া যাক ১০টি টিপস যা আপনার কার্যক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেবে বহুগুণে।

১. পারিবারিক জীবন থেকে ওয়ার্কস্পেস আলাদা করুন

নিশ্চিত করে বলা যেতে পারে, পাঠকদের অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সারই বাসায় নিজের রুমে অথবা লিভিং/ড্রয়িং রুমে কম্পিউটার রেখে কাজ করেন। একজন ফ্রিল্যান্সারের জন্য সবচেয়ে ভালো হয় আলাদা রুমের ব্যবস্থা করা গেলে। সেটা সম্ভব না হলে নিজের রুমেই সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা উচিৎ। ধরুন আপনি কাজ করছেন আর আপনার মা বা পরিবারের অন্য কেউ এসে সংসারের কাহিনী বলা শুরু করে দিলো। 😆 বুঝতেই পারছেন আপনি শত চেষ্টা করলেও আপনার কাজে তেমন আউটপুট বের করতে পারবেন না যতোটা পারতেন একা কাজ করলে।

আলাদা রুমের ব্যবস্থা করা সম্ভব না হলে অবশ্যই কাজের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করুন এবং সেই সময়ে আপনার ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখুন। প্রয়োজনে একটি কাগজে ‘বিরক্ত করবেন না’ এ জাতীয় কিছু লিখে দরজায় লাগানো যেতে পারে। এটি হাস্যকর মনে হলেও মোটেই হাস্যকর নয়। আপনার কম্পিউটার স্পেস আপনার কর্মক্ষেত্র। আপনার উপার্জনের উপায়। এটিকে সিরিয়াসলি নিতে শিখুন। একে ঘরের পরিবেশ থেকে আলাদা করে ফেলুন।

২. সঠিক উচ্চতায় কম্পিউটার স্থাপন করুন

স্কুলে গত গ্রীষ্মের দুই সপ্তাহ ছুটি পেয়েছিলাম। এই লম্বা ছুটি তেমন কোনো কাজেই লাগাতে পারিনি। পরে আবিষ্কার করেছি এর কারণ ছিল আমার কম্পিউটার ভুল জায়গায় রাখা। বাসায় কাজ চলছিল বিধায় খাটের সমান উচ্চতার একটি টেবিলের উপর কম্পিউটার স্থাপন করেছিলাম। অনেকেই খাটে বসে ল্যাপটপে যেভাবে কাজ করেন। আমি নিজে হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছি কাজটা কত বড় বোকামী। এটা কেবল কর্মক্ষমতাই কমায় না, বরং আপনার শরীরেও ক্ষতি করে।

কম্পিউটার সবসময় আপনি যেখানে বসবেন তার চেয়ে উঁচু স্থানে রাখুন। মনিটর রাখুন এমন জায়গায় যেখানে তাকাতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কারো জন্য এটা নাক বরাবর। কারো জন্য এটা এক সাইডে। নিশ্চিত করুন কাজের সময় আপনি রিল্যাক্স মোডে বসতে পারছেন এবং প্রয়োজনে যথেষ্ট নড়াচড়া করতে পারছেন। পেছনে পিঠ ঠেকানোর জন্য কিছু আছে সেটাও নিশ্চিত করে নিন।

৩. জঞ্জালমুক্ত রাখুন ডেস্কটপ

ডেস্কটপে যত আজেবাজে (বা প্রয়োজনীয়ই হোক না কেন) জিনিস রাখবেন, ততই আপনার কাজ বাঁধাগ্রস্ত হবে। আপনি হয়তো বুঝতেও পারবেন না। মনস্তাত্ত্বিকভাবেই আপনি খুব ভালো কাজ করতে পারবেন না। তাই ডেস্কটপ পরিচ্ছন্ন ও জঞ্জালমুক্ত রাখুন।

৪. ডুয়েল মনিটর ব্যবহার করুন

সবার ডুয়েল মনিটর প্রয়োজন না-ও হতে পারে। তবে আপনি যদি গ্রাফিক্স বা ওয়েব ডিজাইনিংয়ের কাজ করেন, যেখানে বারবার প্রিভিউ দেখার প্রয়োজন হতে পারে, সেক্ষেত্রে ডুয়েল মনিটর ব্যবহার করা যেতে পারে। আর যদি আপনি সবসময় ল্যাপটপে কাজ করেন, তাহলে ল্যাপটপের জন্যও আউটপুট একটি মনিটর রাখার ব্যবস্থা করুন। (ছবিতে ল্যাপটপের ব্যবহার লক্ষ্য করুন।)

৫. শৈল্পিকতার স্থান দিন

চমৎকার কিছু পেইন্টিং যদি সম্ভব হয় আপনার ওয়ার্কস্পেসে ঝুলাতে পারেন। এটি আপনার মনকে ফ্রেশ রাখতে সহায়তা করবে। যদি সম্ভব হয়, ডেস্কটপ জানালার পাশে রাখুন। এতে করে টায়ার্ড হয়ে গেলে বাইরে চোখ বুলিয়ে কিছুটা হলেও রিল্যাক্স করতে পারবেন।

৬. ওয়ার্কস্পেসের আলোর প্রতি যত্নশীল হোন

সবাই সব রঙের আলোতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। আপনি যেই আলোতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, কাজে মনোযোগ দিতে পারেন, সেই আলো ওয়ার্কস্পেসে বসানোর ব্যবস্থা করুন।

৭. ক্যালেন্ডার এবং হোয়াইট বোর্ড

আপনার ডেস্কটপ কম্পিউটারের ক্যালেন্ডার কখনোই দেয়ালে ঝোলানো ক্যালেন্ডারের স্থান দখল করতে পারবে না। কেননা, একটির অস্তিত্ব রয়েছে, অন্যটির কোনো অস্তিত্বই নেই। এছাড়াও ডেডলাইন খেয়াল রাখার জন্য, ওয়ার্ক শিডিউলের হিসেব রাখার জন্য আলাদা একটি ক্যালেন্ডার এবং বিভিন্ন নোট টুকে রাখার জন্য হোয়াইট বোর্ডের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।

৮. চারাগাছকে স্থান দিন

বিশ্বাস করুন আর না করুন, ওয়ার্কস্পেসের আশেপাশে সবুজ-শ্যামল পরিবেশ গড়ে তোলা গেলে আপনার মনও ফুরফুরে থাকবে এবং কাজে অধিক মনোযোগ দিতে পারবেন। ছোট আকারের টবে গাছ লাগিয়ে তা ওয়ার্কস্পেসের আশেপাশে রাখার ব্যবস্থা করতে পারেন।

৯. গান শোনার ব্যবস্থা রাখুন

সঙ্গীতপ্রেমী না হলেও আলাদা সাউন্ডবক্স রাখুন এবং মাঝে মাঝে গান শুনুন। মেজাজ রিফ্রেশ হবে। 😉

১০. বিরতির জন্য জায়গা রাখুন

কাজ করতে করতে টায়ার্ড হয়ে গেলে একটু ছড়িয়ে বসার জন্য যথেষ্ট জায়গা রাখুন। নাহয় হাড্ডি সব এক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়ার মতো নয়। 😀

শেষ কথা

উপরের টিপসগুলো ফ্রিল্যান্সার বা ডেডিকেটেড ওয়ার্কারদের জন্য হলেও যারা কম্পিউটারে কাজ করেন, তাদের সবার জন্যই উপকার বয়ে আনবে নিঃসন্দেহে। তো আপনার ডেস্কটপ কী রকম? এখনই ছবি তুলে ফেলুন এবং তা tinypic.com -এ আপলোড করে লিংক মন্তব্যে শেয়ার করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here