অনেক দিন পরে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে লিখতে বসতে পেরেছি। ইদানিং আগের কয়েকজন লোকাল ক্লাইন্টদের নিয়মিত সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছি যাদের প্রজেক্টের কাজ অনেক আগেই শেষ করে দিয়েছি। আজ সেই আভিজ্ঞতার আলোকেই কথাগুলো বলা, সবার জন্য প্রযোজ্য হয় কিনা জানি না। কোন একটি প্রোজেক্টের কাজে হাত দিলে প্রথমতঃ টাকার প্রশ্নটি আসে। প্রোজেক্টিতে কত টাকা নিবেন সেটা মূলতঃ সবাই প্রোজেক্টটির ব্যাবচ্ছেদের মাধ্যমে নির্ণয় করে জানিয়ে দেয়। কিন্তু প্রজেক্টের ব্যবহারিক দিক, রিডিজাইন করতে হবে কি না, কত দিন প্রোজেক্টি চলবে, ক্লাইন্টের সাথে সম্পর্ক ইত্যাদি অনেক অনেক বেপার নির্ভর করতে পারে।

2010-10-12_183319অভিজ্ঞতাঃ

পাঁচ/’ছ মাস আগে পরিচিত একজনের সাইটের একটা সাদামাটা ডিজাইন করে দিলাম। মূলতঃ ১৭৬ ডলারের একটা ওয়ার্ডপ্রেস থিম কিনে কাষ্টমাইজ করে দিয়েছিলাম। সাইট ডিজাইনের সময় তার সাথে প্রতিদিন প্রায় ১০/১২ মিনিট ফোনে কথা বলতে হতো , রিকয়ারমেন্টগুলো মূলতঃ নিয়মিত পরিবর্তন হতো। পরিচিত বিধায় তার সাইটের বেপারে প্রতি সপ্তাহে কয়েক ঘন্টা আলাপ করা হয়। কথা বলার মূল বিষয় সাইটের সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন , ডিজাইন ও স্পিড। ইদানিং একটা বেপার আমায় ভাবিয়ে তুললো- তা হলো তার সাইটের জন্য যতটুকু কাজ করেছি এবং যত টাকা নিয়েছি তার চেয়ে আনেক বেশি সময় ও চিন্তা খরচ হয়ে গেছে তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগে। সাইট ডিজাইনের সময় এত কিছু ভেবে কাজ করি নি, এখন সার্ভিস দেওয়ার বেপারটা একটা বিরক্তকর বেপার হয়ে দাড়িয়েছে।

কি কি কারনে বেশি চার্জ করা যেতে পারে?

১. সার্ভিসঃ

এ বেপারে কয়েকজনের সাথে আলাপ করে জানতে পারলাম যে, সাইট ডিজাইনের আগেই সার্ভিসের বেপারটা পরিষ্কার করে নিতে হবে। অনেকে মাসিক চার্জ করে, বড় কোন প্রোজেক্টের কাজ করলে ব্যাকআপ সহ বেশ কিছু কাজ করে দিতে হতে পারে সে জন্য মাসিক চার্জ নির্ধারন করে নিতে পারেন। বড় কয়েকটি প্রজেক্টে মাসিক চার্জ করতে পারলে নিজের ফ্রিল্যান্স কাজের ঝুকি অনেকটাই কমে যেতে পারে।

২. রি-ডিজাইনঃ

অনেকেই সাইটের রিডিজাইনে নতুন করে চার্জ দিতে বা কম চার্জ দিতে চেষ্টা করে। তাই এ বেপারটি আলোচনা করে নিতে পারেন বা সাইট ডিজাইনের ও টাকা পয়সার হিসেবের সময় বিষয়টি আলাপ করে নিতে পারেন।

৩. সার্ভার, ব্যাক আপ ও অন্যান্য বাড়তি কাজঃ

অনেক ক্লাইন্ট হোষ্টিং, ব্যাকআপ, কনটেন্ট, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ইত্যাদি বেপারগুলো নিয়ে মোটেও কাজ করতে নারাজ বা অপারগ। তাদের ক্ষেত্রে ডিজাইন ও বাড়তি কাজ দুইটা মিলিয়ে টাকার হিসেবটা করা উচিৎ। একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, কাজের ক্ষেত্রে সব সময় প্রোফেশনাল ভাব নিয়ে চলতে হবে। নিজের অবমূল্যায়ণ না করে, আবেগে না পড়ে, সময় ভাগ করে কাজ করা উচিৎ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here