বিশ্বে প্রতিদিন কত টাকারই না ক্ষয়ক্ষতি হয়! যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এ রকম নানা কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছে পৃথিবী। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব বিপত্তি বাদেও ক্ষয়ক্ষতির একটা বড় অংশের জন্য দায়ী হলো পোকামাকড়। এ খবর জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউজ ডটকম ডটএইউ।

নেচার কমিউনিকেশনসে প্রকাশিত এক জার্নালের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বব্যাপী ফসলের ক্ষতি করে এমন কীটপতঙ্গের উৎপাত অনেক বেড়েছে। আর এদের দ্বারা সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির মূল্যমান অন্তত ৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায় সাত শতাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালানোর পর এই সিদ্ধান্তে এসেছেন গবেষকরা।

অনিষ্টকারী পোকামাকড়ের এই বিশাল তালিকায় উঠে এসেছে ফরমোসান টার্মাইট, ডায়মন্ডব্যাক মথ বা লং হর্ন বিটলের মতো কুখ্যাত সব নাম। ফসল ও বনাঞ্চলের বড় একটা বিনাশ এদের মাধ্যমেই হয়ে থাকে।

তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে তালিকাটা সম্পূর্ণ নয়। গবেষকরা কেবল ইউরোপ আর উত্তর আমেরিকার ফসলি ক্ষেত ও বনগুলোকে তাদের গবেষণার আওতায় এনেছিলেন। কাজেই বলা যায়, পোকাদের চালানো ধ্বংসযজ্ঞের মূল্যমানটা আরো ব্যাপক।

এমনকি গবেষকরা ম্যালেরিয়া বা জিকা ভাইরাসের কারণে হওয়া ক্ষতির পরিমাণটাও হিসেবের আওতায় আনেননি, তারপরও এমন বিরাট অঙ্কের ক্ষতির হিসাবটা দুশ্চিন্তা করার মতোই।

গবেষক দলের সদস্য ড. কোরচ্যাম্পের মতে, বিশ্বের আবহাওয়ার কারণে সহজে এ ধরনের ক্ষতিকর পতঙ্গের বিস্তার ঘটে না, তবে গত কয়েক দশকের উষ্ণতা বৃদ্ধি এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাবে। সে ক্ষেত্রে পোকামাকড়দের দ্বারা সৃষ্ট আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণটা হবে আরো ব্যাপক।

বিশ্বে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ লক্ষাধিক প্রজাতির কীটপতঙ্গ আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১০ ভাগ হলো ক্ষতিকর। অথচ এদের পেটেই পৃথিবীর মোট ফসল উৎপাদনের ৩০ থেকে ৪০ ভাগ চলে যায়। কাজেই এদের সামলানোটাই এখন বিজ্ঞানীদের অন্যতম মাথাব্যথা হয়ে উঠেছে।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.