কেমন আছেন আপনারা সবাই? আশা করি সবাই ভাল। আজকে আমি আপনাদের সামনে আমার সংগ্রহে থাকা কিছু ল্যাপটপ এর কথা জানাব। আমার এ পোস্টটিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা লাগতে পারে। আজকের এ প্রথম পর্বে আমি পুরানো দিনের কিছু তোশিবার ল্যাপটপ এর কথা বলব।

তোশিবা টি ১০০০ (Toshiba T1000):

T1000

১৯৮৭ সালে বের হওয়া এ ল্যাপটপ টি, ৪.৭৭ মেগাহার্জের NEC 80c88 প্রসেসর এ চলত। ৫১২ কিলোবাইট র‍্যাম এবং ২৫৬ কিলোবাইট রমের এ ল্যাপটপটিতে এম এস ডস ২.১১ ওএস ২৫৬ কিলবাইট রমের মধ্যেই ইন্সটল করা ছিল। তারপরও কেও চাইলেই ল্যাপটপ টির ৩.৫ ইঞ্চি ৭২০ কিলোবাইট ফ্লপি ড্রাইভ থেকেও ওএস লোড করে নিতে পারতেন। এর ডিসপ্লে ছিল মনোক্রোম সিজিএ (Color Graphics Adapter)এলসিডি। ১৩০০ mAh  ব্যাটারি সহ এ ল্যাপটপ টির ওজন ছিল, ৬.৪ পাউন্ড।

তোশিবা টি ১২০০ (Toshiba T1200):

T1200

১৯৮৭ সালে বের হওয়া এ ল্যাপটপ টি, ৯.৫৪ মেগাহার্জের NEC 80c86 প্রসেসর এ চলত। ১ মেগাবাইট র‍্যাম এবং ২৫৬ কিলোবাইট ভিডিও র‍্যাম, সাথে ৬৪ কিলবাইট রমের (শুধু মাত্র বায়স চলার জন্য)। এ ল্যাপটপটিতে এম এস ডস ৩.৩০ ওএস দিয়ে চলত।এর ডিসপ্লে ছিল মনোক্রোম সিজিএ (Color Graphics Adapter)এলসিডি। ব্যাটারি এবং ৩.৫ ইঞ্চি ৭২০ কিলোবাইট ফ্লপি ড্রাইভ সহ এর ওজন ছিল, ১০ পাউন্ড।

এই ল্যাপটপ টি অন্য ল্যাপটপ থেকে কিছুটা পরিবর্তিত ছিল, কেননা এই ল্যাপটপটিতে বেশ কিছু ফিচার যুক্ত করায় ল্যাপটপটিকে ইউনিক করে তোলে।

এই ল্যাপটপটিতে ইউজ করা ২০ মেগাবাইটের JVC হার্ড ড্রাইভ টি ছিল ২৬ পিনের। আবার এই ল্যাপটপটির র‍্যামের একটি অংশ কে তার ব্যাটারি পাওয়ার দিয়ে নন-ভোলাটাইল করে নেওয়ার সুবিধাও ছিল। এই ইউনিক ল্যাপটপটির দামও ছিল মাত্র (!) ৬৪৯৯ ডলার (১৯৮৭ সালে)।

তোশিবা টি ১০০০ এক্স ই (Toshiba T1000XE):

Toshiba T1000XE

১৯৯০ সালে বের হওয়া এ ল্যাপটপ টি, ৯.৫৪ মেগাহার্জের NEC 80c86 প্রসেসর এ চলত। ১ মেগাবাইট র‍্যাম এবং ১ মেগাবাইট রমের এ ল্যাপটপটিতে এম এস ডস ৩.৩০ (se) ওএস দিয়ে চলত।এর ডিসপ্লে ছিল মনোক্রোম সিজিএ (Color Graphics Adapter)এলসিডি যার স্ক্রীন রেশুলেশন ছিল ৬৪০x২০০ পিক্সেল। ৩.৫ ইঞ্চি ৭২০ কিলোবাইট ফ্লপি ড্রাইভ এবং ২০ মেগাবাইট হার্ড ড্রাইভের এ ল্যাপটপ টির ওজন ছিল, ২.২ কেজি।

তোশিবা স্যাটেলাইট টি ১৯৫০ সিএস (Toshiba Satellite T1950CS):

Toshiba T1950cs

মাত্র ৪০ মেগাহার্জের ইন্টেল ৮০৪৮৬ ডিএক্স ২ প্রসেসর এ ল্যাপটপ টি ৪ মেগাবাইট র‍্যামে চলত। এতে ৬৪ কিলবাইট রম (বায়স এর জন্য) এবং ২৫৬ কিলোবাইটের ভিডিও র‍্যাম ছিল। ল্যাপটপ টি তে একটি ফ্লপি এবং ৪৫ মেগাবাইটের একটি হার্ড ড্রাইভ আছে।

তোশিবা স্যাটেলাইট ১১০ সিএস (Toshiba Satellite 110CS):

Toshiba Satellite 110cs

১৯৯৬ সালে বের হওয়া এ ল্যাপটপটি, ১০০ মেগাহার্জের Intel Pentium প্রসেসর এ চলত। ৮ মেগাবাইট র‍্যাম এবং ৮১১ মেগাবাইট হার্ডডিস্কের এ ল্যাপটপটি উইন্ডোজ ৯৫ ওএস দিয়ে চলত।এর ডিসপ্লে ছিল ১১.৩ ইঞ্চি কালার এলসিডি যা ১ মেগাবাইট ভিডিও মেমরি দিয়ে ৮০০x৬০০ স্ক্রীন রেশুলেশন ডিসপ্লে করতে পারত। ব্যাটারি সহ এর ওজন ছিল, ৩.১৭ কেজি। ল্যাপটপ ফ্লপি ড্রাইভ ছিল।

তোশিবা ডায়নাবুক স্যাটেলাইট PA1261S9 (Toshiba DynaBook Satellite PA1261S9):

Toshiba DynaBook Satellite

১৯৯৮ সালে বের হওয়া এ ল্যাপটপটি, ১৬৬ মেগাহার্জের Intel Pentium Mobile MMX প্রসেসর এ চলত। ৩২ মেগাবাইট র‍্যাম এবং ২.১ গিগাবাইট হার্ডডিস্কের এ ল্যাপটপটি উইন্ডোজ ৯৫ ওএস দিয়ে চলত।এর ডিসপ্লে ছিল ১২.১ ইঞ্চি কালার এলসিডি । ব্যাটারি সহ এর ওজন ছিল, ৩ কেজি। ল্যাপটপ টিতে ইনফ্রারেড পোর্ট, সিডি রম এবং ফ্লপি ছিল।

কেমন লাগল জানাতে ভুলবেন না প্লিজ।

comments

11 কমেন্টস

  1. রিয়াজুল হাশেম ভাই সত্যি অসাধারন। আপনার অনলাইন মিউজিয়ামটা ঘুরে দেখালাম । চমৎকার হয়েছে।
    আর এই পোস্টের মাধ্যমে বোঝা যায় প্রযুক্তি কত উন্নতি হয়েছে। ধন্যবাদ…….আপনাকে…….

  2. Bhai egulo apni kotha theke pelen? purano amoler processor gulor dam kemon porbe ekhonkaer bajare egulor dam kemon? post ti lekhar jonno dhonnobad.

    • খালেদ ভাই, আমার সংগ্রহের প্রায় ৯৫ ভাগই কেনা হয়েছে, ঢাকার বিভিন্ন পুরাতন যন্ত্রাংশের দোকান থেকে। এছাড়াও কিছু দিয়েছে আমার বিভিন্ন বন্ধুরা।
      আর পুরাতন প্রসেসর গুলোর বর্তমান বাজার দর আমার জানা নেই।
      পোস্ট টি আপনার ভালো লেগেছে, জেনে আমার কাছেও ভালো লাগছে।

  3. আমার দেখা সবচেয়ে আসাধারন মানুষ । ভাইয়া আপনাকেই খুঁজছে বাংলাদেশের মানুষ ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.