পৃথিবীতে এমন অনেক অবাক করা স্থাপনা আছে যেগুলা পানির নিচে তৈরি করে হয়েছে। আজকে আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবো এমন সব মজার মজার জায়গার সাথে যেগুলো মানুষের ছুটি কাটানোর জন্য বা অবসরে ভ্রমনের জন্য বিখ্যাত।

পানির নিচে ফাইভস্টার হোটেল

পানির নিচে ফাইভস্টার হোটেল

প্রথমে যার কথা আশে সেটি হচ্ছে একটি পাঁচতারকা হোটেল। এটি আফ্রিকাতে অবস্থিত। পানির নিচে ছুটি কাটানোর জন্য এটি একটি আদর্শ যায়গা। দিন দিন ক্রমশই বাড়ছে এখানে দর্শনার্থীদের ভির। এই ভিন্নধর্মী স্থান অবস্থিত তানজানিয়া অথবা জাঞ্জিবারের উপকূলবর্তী এলাকায়। এখানে একটি রাত কাটাতে হলে আপনাকে গুনতে হবে প্রায় দেড় হাজার মার্কিন ডলারের মতো। কিছুদিন আগে প্রশান্ত মহাসাগরের ১৩ ফুট নিচে তৈরি করা এই হোটেলের উদ্বোধন করা হয়। হোটেলে তিনটি অংশ রয়েছে, একটি সুন্দর ব্যালকনি, ডাইনিং রুম এবং একটা প্রশস্থ বেডরুম। এখানে আপনি সময় কাটবেন সমুদ্রের বিরল সব মাছেদের সঙ্গে সময় সময় দেখা মিলবে হিংস্র হাঙ্গর মাছের সাথে। তবে ভয় নেই সেটি আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না কারন হোটেলটি স্বচ্ছ এবং সর্বচ্চ পুরু কাঁচ দিয়ে ঘেরা। রুমের ব্যলকনিতে যেয়ে দাঁড়ালে আপনার মনে হবে যেন আপনি এক মাছেদের আজব চিড়িয়াখানার মধ্যে বসবাস করছেন। স্বচ্ছ কাচের দেয়ালের তৈরি এই হোটেলে রাতের খাবারের পরিবেশ পাবেন স্বপ্নের মতো। হোটেলের ওপর তলাটা হচ্ছে একটা ব্যালকনি। মনে চাইলে রাতের বেলায় ওখানে বসে তারা ভরা আকাশ দেখতে পারেন। মাঝখানের তলাটা হচ্ছে একটি সুবিশাল ডাইনিং স্পেস। এখানে বশে দেখতে পারবেন সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য। রুমের একেবারে ওপরের তলাটায় দিনের বেলায় সূর্যস্নানের উপযোগী। রাতের বেলায় তারাখচিত আকাশের নিচে বসে রোমান্টিকতায় আচ্ছন্ন হওয়ার মতো পরিবেশও রয়েছে।

পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া শহর

পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া শহর

আজ অবধি পানির নিচে তলিয়ে গেছে এমন অনেক শহরের সন্ধান মিলেছে। তবে ঠিক কি কারনে এবং কিভাবে এই শহর গুলা পানির নিচে হারিয়ে গেছে তার সঠিক ব্যাখ্যা বিজ্ঞান এখনো দিতে পারেনি। ভিন্ন ভিন্ন মতামত আছে অনেকের, কেউ মনে করে ঈশ্বরের অভিশাপ কেউ বা মনে করে খারাপ আত্মার প্রভাব। তো সে যাই হোক আজকে জানবেন এমনি একটি শহরের কথা যেটি চিনে অবস্থিত যার নাম “লায়ন সিটি”। শহরটির একাবারে পেছনে ছিল ‘উ শি মাউন্টেন’ বা ফাইভ লায়ন মাউন্টেন নামের পর্বত। শহরটির বয়স প্রায় ১৩০০ বছর। প্রায় ৫৩ বছর আগে একটি কৃত্রিম হ্রদ সৃষ্টির লক্ষে বাঁধ তৈরি করার সময় প্রাচীন ও পরিত্যক্ত শহরটি পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে যায়। শহরটির আরেকটি নাম “শি চেং”। এই শহরটি প্রায় ৬২টি ফুটবল মাঠের সমান। তাহলে ভেবে দেখুন এটি কতটা বড়। ২০০১ সালে প্রথমদিকে এই শহর নিয়ে গবেষণা শুরু করেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। পরবর্তীতে শহরটি নিয়ে মানুষের কৌতূহল বাড়তে থাকে। আবিষ্কার হতে থাকে শহরের পুরনো নানা নিদর্শন। বর্তমানে “লায়ন সিটি” পানির নিচে প্রায় ৮৩-১৩১ ফুট নিচে অবস্থান করছে। পানির নিচে এত বছর থাকার পরও শহরটি এর স্বকীয়তা বজায় রেখে চলেছে। লায়ন সিটি নিয়ে নানা কল্পকথা প্রচলিত আছে। ঠিক কীভাবে শহরটি পানির নিচে হারিয়ে যায়, তা নিয়ে বিভিন্ন মত প্রচলিত আছে। তবে শহরটির সৌন্দর্য পানির নিচে আজও এতটুকু কমেনি।

পানির নিচে পোষ্ট অফিস

পানির নিচে পোষ্ট অফিস

আপনি শেষ কবে চিঠি লিখেছিলেন বলতে পারবেন? আমার মনে হয় পারবেন না কারন এই ডিজিটাল যুগে সবাই চাই প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে। তবে প্রযুক্তির বিকাশ যতই ঘটুক চিঠির গুরুত্ব ও আবেদন কিন্তু এতটুকু কমেনি। এমন অনেকেই আছেন যারা সময় পেলে ভালোবাসেন চিঠি লিখতে। প্রিয়জনের চিঠি পড়ার আনন্দ কিন্তু সত্যি একটু অন্যরকম আর সেটি যদি হয় এই ডিজিটাল যুগে তবে তো কথায় নেই। আর ঠিক এই ধারনাকে পুঁজি করে এবার পানির নিচেও বসানো হয়েছে ডাকঘর। মূলত পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য সমুদ্রের পানির নিচে ডাকঘর বসানো হয়েছে। পর্যটকরা ইচ্ছে করলে এ পোস্ট অফিসের মাধ্যমে তার প্রিয়জনদের চিঠি লিখে বার্তা পাঠাতে পারবেন। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের ৫০ মিটার গভীরে নিমজ্জিত এই বিস্ময়কর পোস্ট অফিসটির নাম ‘ভ্যানুয়াটু পোস্ট অফিস’। ডাকঘরটি পুরোপুরি পানিরোধক হওয়ায় আপনার চিঠির মোটেই কোনো ক্ষতি হবে না। এই অভাবনীয় সুযোগটি তৈরি করে দিয়েছেন হাইডএওয়ে আইল্যান্ডের ৬৮ বছর বয়সী “মাইক ক্রোফোর্ড”। পর্যটকরা ইচ্ছে করলে সাঁতারের প্রয়োজনীয় উপকরণসহ পানির নিচে গিয়ে এ বিশেষ পোস্ট অফিসটি পরিদর্শনও করতে পারবেন। চিঠিগুলো নিয়মিত সংগ্রহ করে বিশেষ ডাক সার্ভিসের মাধ্যমে গন্তব্যে পাঠানো হয়।

ডুবন্ত সেতু

ডুবন্ত সেতু

কখনো শুনেছেন পানির নিচে সেতু বা ব্রিজ থাকতে পারে? কথাটা শুনলে প্রথমে আপনি একটু অবাক হবেন। কিন্তু না পানির নিচে ডুবন্ত সেতু নির্মাণের কলাকৌশল কিন্তু মোটেও নতুন কিছু নয়। শত বছর আগেও এ ধরনের সেতু নির্মাণ করা হতো। এই ধরনের ডুবন্ত সেতু দেখা মিলবে অস্ট্রিয়ায়। বছরের বিভিন্ন সময়ে নানান দেশের মানুষ ছুটে আসে এই সেতু দেখতে। সপ্তদশ শতকের দিকে ডুবন্ত সেতুর প্রচলন ছিল খুব বেশি। তখনকার সময় ডাচ ভূমিকে শত্রুর আক্রমণ থেকে মুক্ত রাখার জন্য বিশেষ কারিগরি নির্মাণশৈলীর মাধ্যমে ডুবন্ত সেতু তৈরি করা হতো। স্থলপথের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে পানির নিচ দিয়ে গোপন রাস্তা নির্মাণ করার কৌশল হিসেবে এটি অধিক জনপ্রিয়তা লাভ করে। কিন্তু পানির নিচের ভূমিও সব জায়গায় সমতল ছিল না। বিভিন্ন খানাখন্দ পারাপারের জন্য ডুবন্ত সেতুর প্রয়োজন দেখা দেয়। সে কারণে তৈরি করা হয় ডুবন্ত সেতু। এই সেতুগুলো প্রায় পুরোটাই পানির নিচে অবস্থিত। আপনি যখন এই সেতুর উপর দিয়ে হেঁটে যাবেন তখন আপনার শরীরের বেশির ভাগ পানির নিচে থাকবে। দেখে মনে হবে আপনি পানির নিচ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন।

 

সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

comments

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.