এক সময় মানুষ আকাশে তাকাতো মেঘ কিংবা পাখির ঝাঁক দেখার জন্যে। অথবা শুধুই নীল আকাশ দেখার জন্যে। আর এখন মানুষ তার স্মার্টফোন, ট্যাব কিংবা ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে তাকিয়ে থাকবে আকাশে! কেন?

 

কারণ তার অর্ডারকৃত পণ্য যে আসবে ড্রোনে উড়ে। কিছুদিনের ভেতর ব্রিটেনের আকাশ ছেয়ে যাবে ড্রোনে। সেখানে পাখির ঝাঁকের মতোই উড়তে থাকবে ড্রোনের ঝাঁক। প্রাথমিক দিকে ১০০ ড্রোন নিয়ে খুচরা পণ্য সরবরাহের জন্যে ইতিমধ্যেই ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা সেরেছে অ্যামাজন। অ্যামাজন তাদের এই ড্রোন সেবা ব্রিটেনেই করতে যাচ্ছে কারণ হলো পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় ইংল্যান্ডেই ড্রোন সংক্রান্ত আইন শিথিল।

 

তাই এখন থেকে অ্যামাজনের গ্রাহকরা অনলাইনে অর্ডার করার মাত্র ৩০ মিনিটের ভেতর পণ্য পেয়ে যাবে ড্রোনের মাধ্যমে। তারা ইতিমধ্যেই এর পরীক্ষামূলক প্রস্তুতি নিয়েছে। আর ব্রিটেন সরকার ধীরে ধীরে এই ড্রোন সেবার অনুমতি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও দিতে যাচ্ছে। সুতরাং বলাই যায় ব্রিটেনের আকাশে পাখিরা আর আগের মতো নির্বিঘ্নে উড়তে পারবেনা। ব্রিটেনের কবিরা আর লিখবেনা পাখি নিয়ে কবিতা…মুক্ত বিহঙ্গের মতো উড়ে বেড়াবো…। ঝাঁকে ঝাঁকে এই ড্রোনের নিরাপত্তা নিয়ে অবশ্য ব্রিটিশ সরকার উদ্বিগ্ন নয়। তাদের মন্ত্রণালয় থেকে জনগণকে আশ্বস্তও করা হয়েছে।

 

সরকার বলছে, এই ড্রোন মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা কিংবা শান্তি নষ্ট করবেনা। বরং মানুষ যাতে প্রযুক্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকটিই বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। অ্যামাজনের ভাষ্য মতে, তাদের এই ড্রোন হবে হেলিকপ্টার আর বিমানের সমন্বিত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। তাই এর সেবা তুলনামূলক নিরাপদ এবং দ্রুত হবে।

 

অ্যামাজন আরো জানায়, তাদের ড্রোন ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বা ৫০ মেইল বেগে ছুটতে পারবে ১০০ মিটার উচ্চতা বা ৩৫০ ফুট উঁচুতে। তবে এর সীমাবদ্ধতাও আছে। এইসব ড্রোন তাদের ভিত্তি জায়গা থেকে সর্বোচ্চ ১০ মাইল বা ১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারবে।

 

তবে সকল ড্রোন নিয়ন্ত্রণ করবে একজন পাইলট। তাই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কেননা একজন পাইলটের পক্ষে এতো সংখ্যক ড্রোন নিয়ন্ত্রন আদৌ সম্ভব কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। আবার কেউ বলছেন ড্রোন কী নিরাপদে পণ্য পৌঁছে দিতে পারবে। অথবা ড্রোন কী তার চলার পথের বাঁধা ঠিকমতো অতিক্রম করতে পারবে যেটা স্বয়ংক্রিয় গাড়ি বা রোবট পারে? এসব প্রশ্নের জবাব হয়তো অল্প কিছুদিনের ভেতরই পাওয়া যাবে। অ্যামাজন যখন এই সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করবে তখনই মিলবে সকল প্রশ্নের জবাব।

 

তবে তার আগে বিশাল আকাশে স্বাধীনভাবে বিচরণকারী পাখির জন্যে আমরা ফেলতে পারি এক ফোঁটা জল, কারণ অ্যামাজন কিংবা ব্রিটিশ সরকার কারো বক্তব্যেই নেই নিরীহ পাখির নিরাপত্তার বিষয়টি!

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here