প্রযুক্তির এ যুগে মোবাইল ফোন ছাড়া এক মুহূর্তও চলে না। কিন্তু প্রযুক্তি প্রদত্ত এ উপহার থেকে নির্গত রেডিয়েশন পরিবেশের জন্য হুমকি।ব্যবহৃত  ফোনসেট ও নেটওয়ার্ক টাওয়ার থেকে অবিরত তড়িত্ চুম্বকীয় বল বিকিরিত হচ্ছে। মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন নন-আয়নাইজড, যা এক ধরনের তাপ সৃষ্টি করছে। বিকিরিত এ তাপ শরীরের জীবকোষ পুড়িয়ে দেয়। টাওয়ার থেকে রেডিয়েশনের কারণে প্রজননে সক্ষম প্রাণীরা হুমকির মুখে পড়ে। শুধু পরিবেশই নয়, শক্তির বিকিরণ বা রেডিয়েশন শারীরিক ক্ষতিরও কারণ। গর্ভপাত, মস্তিষ্কে টিউমার, ক্যান্সারসহ মারাত্মক রোগের কারণ হতে পারে রেডিয়েশন। মোটকথা  যেকোনো ধরনের রেডিয়েশনই পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ। কিন্তু ক্ষতি জেনেও মোবাইল ফোন তো আর ব্যবহার করা ছেড়ে দেয়া যায় না। তাই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে পরিবেশ ও  নিজেকে রেডিয়েশন থেকে বাঁচাতে ।

১। নেটওয়ার্ক টাওয়ারের আশপাশে একেবারেই না

লোকালয় থেকে অনেক দূরে মোবাইল টাওয়ার বসানো উচিত। কিন্তু বর্তমানে বসত-বাড়ির আশপাশে, এমনকি ভবনের উপরেই মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক টাওয়ার বসাতে দেখা যায়।এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে বসবাসরত মানুষের ওপর। তাই বসবাসের জন্য এমন স্থান বেছে নিন, যার আশপাশে নেটওয়ার্কের টাওয়ার নেই।

২। অল্প রেডিয়েশনের ফোন ব্যবহার করুন

মোবাইল ফোন ব্যবহার মানেই ক্ষতিকর রেডিয়েশনের শিকার হতেই হবে। তবে এর মাত্রা কিছুটা কম হলে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব অনেকখানি। রেডিয়েশনের মাত্রার কম কিংবা বেশি বিষয়টি অনেকটা নির্ভর করে মোবাইল সেটের ওপর। সেক্ষেত্রে মোবাইল সেট কেনার আগে নিশ্চিত করে নিন, সেটা অল্প রেডিয়েশনের সেট কিনা।

৩। বার্তা নিরাপদ

মোবাইল ফোন ছাড়া একদিন ভাবাও কঠিন। তবে যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করাই উত্তম। অন্যদিকে কথা বলা কমিয়ে বার্তা আদান-প্রদান করা বেশি ভালো সমাধান। এতে কানের বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।

৪। ইয়ারফোন ব্যবহার করুন

মোবাইল ফোন কানে দিয়ে কথা বলাতে রেডিয়েশনের ক্ষতিকর প্রভাব সরাসরি পড়ছে আপনার মস্তিষ্কে। তবে চাইলে সেই হারটা কমিয়ে আনতে পারেন। সেক্ষেত্রে সরাসরি মোবাইল ফোনে কথা বলা ছাড়ুন। যতটা সময় সম্ভব এয়ারফোন ব্যবহার করুন কম ভলিয়মে।এতে কিছুটা হলেও ঝুঁকিমুক্ত থাকবেন।

৫। ঘুমের সময় না

মোবাইল ফোন ব্যবহারে শুধু কান ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে এমনটা ভাবলে বোকামি হবে। বরং মোবাইল ফোন থেকে নির্গত বিকিরণ আপনাকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলতে পারে যেকোনো সময়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের সময় আপনার মোবাইল ফোনটি যতটা সম্ভব দূরে রেখে ঘুমান। কেননা আপনি যখন ফোনটি ব্যবহার করছেন না তখনও এটি শক্তি বিকিরণ করে যাচ্ছে, যা আপনার মস্তিষ্কের ক্ষতিসাধন করতে পারে নিমিষেই।

৬। নেটওয়ার্ক সিগনাল দেখে নিন

অনেক সময় ফোনে খুব অল্প নেটওয়ার্ক প্রদর্শন করলেও আমরা কথা বলা অব্যাহত রাখি। এটা একদমই ঠিক নয়। কেননা এ সময় মোবাইল ফোন থেকে রেডিয়েশনের মাত্রা বেড়ে যায় বহুগুণ।

৭। কম চার্জে কথা নয়

শুধু দুর্বল নেটওয়ার্কেই নয়, বরং ফোনে কম চার্জ থাকা অবস্থাতেও কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। অল্প চার্জ থাকা অবস্থায় শক্তি বিকিরিত হয় অধিক হারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।

 

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.