মেঘ একটু ডাকলেই আমরা হন্তদন্ত হয়ে ছুটি নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য। শরীরটা ভিজিয়ে ফেললে গায়ে ঠান্ডা বসে যাবে যে! আবার কেউ এসবের তোয়াক্কা না করেই দু’হাত সামনে বাড়িয়ে বরণ করে নিতে চান বৃষ্টিকে।তবে প্রথম ও দ্বিতীয়, উভয় পক্ষই একমত হবেন যে বজ্রপাতের আওয়াজ শুনলেই একটু নড়েচড়ে বসব আমরা।বজ্রপাতে কেই বা আর নিজের প্রাণটা খোয়াতে চায় বলুন?

তবে বিজ্ঞানীরা এ সমস্যারও একটি সমাধান বের করবার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি তারা ভেনেজুয়েলার একটি অঞ্চলে গিয়ে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাচ্ছেন যা পৃথিবীর অন্যান্য যে কোন অঞ্চল থেকে বেশি বজ্রপাতের মুখোমুখি হয়।তারা এমন একটি উপায় বের করতে চাইছেন যাতে কম করে তিন মাস আগে হলেও বজ্রপাত কোথায় এবং কখন হবে, তা যেন নির্ণয় করা যায়।

তারা ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলীয় স্থান লেক মারাকাইবোর দিকে যাচ্ছেন যে অঞ্চলে বছরে প্রায় ২০০টিরও অধিক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে থাকে।গবেষণাটি পরিচালনা করবেন নিউ জার্সির প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মুনোজ ও তার দল। তারা আগামী ৩ বছর সে অঞ্চলের আবহাওয়া ও বজ্রপাত পর্যালোচনা করবেন, প্রতি ৩ মাস অন্তর ৭২ ঘন্টা করে একটি ছক কষবেন যা তাদের গবেষণার ফলাফল প্রদানে সহায়তা করবে।

মুনোজ ও তার দল প্রাপ্ত তথ্যকে তাদের অনুমিত বজ্রপাত মডেলের সাথে তুলনা করবেন।তারা আশা করছেন যে তাদের প্রাপ্ত ফল হতে তারা এমন একট ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন যা ভেনেজুয়েলার ঐ অঞ্চলকে নানাভাবে সাহায্য করতে পারবে। গ্রামীন জীবন, কৃষিকাজ, তেল ও গ্যাস শিল্প এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এই পূর্বাভাস পদ্ধতি আমূল পরিবর্তন আনতে পারবে বলে তাদের বিশ্বাস।

“বজ্রপাত কোথায় কেমন করে হবে তা কি আগাম আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব? আমরা এটিকে শুধু সম্ভবই করে তুলছি না, বরং সাথে সাথে এটিও দেখাতে সমর্থ হয়েছি যে পৃথিবীর এই অঞ্চলে এটি খুবই কার্যকর একটি প্রক্রিয়া”, বলেন মুনোজ।

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ বিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু ডাউডি বলেন যে পৃথিবীর অন্যান্য স্থানে এই প্রক্রিয়াটি ঈষৎ কঠিন হবে। কারণ, সকল স্থানে ভেনিজুয়েলার মত এমন বজ্রপাতপ্রবণ অঞ্চল নয়।তাদের তাপমাত্রায় অঞ্চল ভেদে বিভিন্ন। নানা ধরণের উপাত্ত সংগ্রহ ও তা বিশ্লেষণে খুবই ঝামেলা পোহাতে হবে বৈকি।তিনি তার একটি গবেষণায় দেখিয়েছেন যে অঞ্চল ও প্রাকৃতিক অবস্থাভেদে নানা অঞ্চলে বজ্রপাতের ধরণ ও সংখ্যা বিভিন্ন হয়ে থাকে। পৃথিবীর উষ্ণ থেকে উষ্ণতর হয়ে যাওয়া বিপুলাংশেই নির্ভর করে থাকে এই তাপমাত্রার পরিবর্তনের ওপর, যার প্রভাব ফেলে বজ্রপাতও।

 

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.