অধিকাংশ বড় প্রতিষ্ঠানেই পরিচালনার বেপারটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়। কাজ করার চেয়ে কাজ করানোর দক্ষতার মূল্য সারা পৃথিবীতেই বেশি, কারন সঠিকভাবে পরিচালনা না করলে অনেকগুলো সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে যা সামান্য কয়েকটা পদ্ধতি অবলম্বনেই সমাধান সম্ভব। একটি দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পাঁচটি কাজের কথা (যোগাযোগ, মূল্যায়ন করা,পজিটিভ চিন্তা, শিক্ষগ্রহণ, অফিস রাজনীতি থেকে দূরে থাকা) বলেছিলাম । আজ সহজে সমস্যা সমাধানের উপায় বর্ণনা করবো।

১. সমস্যায় আলোকপাত

তথ্যপ্রযুক্তির কর্মক্ষেত্রঃ পরিচালনাএকটি প্রযুক্তিভিত্তিক দল পরিচালনা একেবারে সহজ কাজ না। একটি দল পরিচালনা করতে গেলে নিজের টেকনিক্যাল দক্ষতার সাথে সাথে নেতৃত্বের দক্ষতার প্রয়োজন হয়। অধিকাংশ পরিচালককে অনেক বেশি সময় কাজহীন থাকতে দেখবেন। তার অর্থ এই নয় যে তারা তেমন কোন কাজ করে না। আমি নিজে কয়েকজন ভাল মানের ম্যানেজারের সাথে কাজ করতে গিয়ে তাদের কয়েকটা কাজের ধারা দেখে বেশ কিছু জিনিস শিখেছি তার মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো তারা সমস্যাটি খতিয়ে দেখে। একটা দলের কোন একজনের একটি সমস্যাকে ছোট করে দেখার কোন অবকাশ নেই, কারন (১) সমস্যাটি আরও কয়েকজনের হতে পারে (২) সমস্যাটি ভবিষ্যতেও হতে পারে (৩) ছোট একটি সমস্যা অনেক বড় বড় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
দল পরিচালনার সময় সমস্যাটির গুরুত্ব বুঝে তার সমাধান করতে হবে। একজন পরিচালক কোন সমস্যার সমাধান নাও করতে পারে না, তবে সমস্যাটি সমাধান করাতে পারতে হবে। তাকে জানতে হবে-কোন ধারনের সমস্যা কাকে দিয়ে সমাধান করতে হবে। সঠিক লোককে দিয়ে সঠিক কাজটি করাতে জানতে হবে।

২. শূণ্যস্থান পূরণ

একটি দল পরিচালককে তার লোকদের বিভিন্ন অবস্থানে কর্মক্ষেত্র ও দায়ীত্ব ভাগ করে দিতে হয়। বেশিভাগ প্রতিষ্ঠানেই লোকবলের বা সঠিক লোকের অভাব দেখা দেয়। আর সেই সময় বড় একটি কাজ সম্পাদনে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
গার্মেন্টস ও ইন্ডাষ্ট্রিয়াল সেক্টরে একজনের কাজ অনেকের ভাগ করে দেওয়া ও পরিচালনার বেপারে দখা যায় কোন একজন একটি প্রসেস বন্ধ রাখলে সম্পূর্ণ কাজটিই স্লথ হয়ে যায়। তাই একটি টিমের একজন সদস্য উপস্থিত না থাকলে কিভাবে সঠিকভাবে কাজটি চলবে তা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।
শূণ্যস্থান পূরণ করতে গেলে অধিকাংশ সময়ই একই দক্ষতার লোক পাওয়া যায় না। তাই আগে থেকেই এক জনকে বিভিন্ন কাজে ট্রেনিং দিয়ে তৈরী করে রাখা যেতে পারে। বেশ কয়েকটি বেসরকারী ব্যাংকের অফিসারদেরকে বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করিয়ে দক্ষ করে রাখতে দেখেছি। নিজেকে অনেক সময় ফিল্ডে নেমে গিয়ে শূণ্যস্থানে বসিয়ে নিতে হতে পারে।তথ্যপ্রযুক্তির কর্মক্ষেত্র পর্ব-৩ঃ পরিচালনা

৩. সংযোজক হিসেবে কাজ করা

ছোট ছোট ইটের গাথুনী থেকে তৈরী হয় বিশাল অট্টালিকা। সিমেন্ট ইটগুলোকে শক্তভাবে আটকে রাখে। একজন পরিচালক অবশ্যই কাজের বিভিন্ন অংশ সমুহের মাঝে একটি সংযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। নিয়মিত যোগাযোগ, ব্যক্তিগত খোজখবর, অফিসের কাজের ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হয়েছে কিনা, কোন সহায়তা লাগবে কিনা ইত্যাদি বেপারে আলোচনা করা যেতে পারে।

বিষয়গুলো আমার বাস্তব জীবনের কর্মক্ষেত্র থেকে নেওয়া। আশা করা যায়, এই বেপারগুলোর দিকে লক্ষ রেখে কাজ করলে ভাল ম্যানেজার হতে সহায়তা করবে।

comments

2 কমেন্টস

  1. পোষ্ট টি থেকে অনেক কিছু শিখার আছে। ধন্যবাদ টিউটো ভাই এমন একটি পোষ্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।

  2. প্রফেশনাল জীবনের সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত নই। আমি নিজেও ছাত্রথাকাকালীন অফিসের কাজের ধারা অনুসারে তেম কিছু জানতাম না।ইদানিং চাকরী করার সুবাদে বেম কিছু বেপার দেখলাম..তাই শেয়ার করলাম, মতামতের জন্য ধন্যবাদ রলিন ভাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.