নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) মৎস্য ও সামুদ্রিক বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন এবার দেশের গন্ডি পেরিয়ে ব্রুনাই সমুদ্র এলাকা থেকে Victoriopisa bruneiensis নামে আরো একটি অমেরুদণ্ডী প্রাণীর প্রজাতি আবিষ্কার করেছেন। প্রজাতিটির সংগ্রহের স্থান ব্রুনাই-এর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়।
এর আগে এ বছর ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে Nephtys bangladeshi নামে পলিকীটের একটি নতুন প্রজাতির সন্ধান দিয়েছিলেন তিনি।
প্রাণীজগতের আর্থোপোডা পর্বের Amphipoda বর্গের অর্ন্তগত ও Victoriopisa গণভূক্ত আবিষ্কৃত প্রজাতিটি দেখতে চিংড়ি সদৃশ।স্বচ্ছ বর্ণের এই ক্ষুদ্র প্রজাতিটি দৈর্ঘে ১০.৮ মিমি। অন্যান্য Amphipods এর মতো তিন খণ্ডে বিভক্ত দেহের দুই পার্শ্বে চৌদ্দ জোড়া হাঁটার পা (walking legs) আছে I যা হাঁটা ছাড়াও সন্তরণ, খাবার সংগ্রহ ও অন্যান্য জৈবিক কাজে ব্যবহৃত হয়। প্রজাতিটি ব্রুনাই নদীর মোহনা থেকে কৌশলে সংগ্রহ করা হয়। উপকূলীয় জলাশয়ের খাদ্যচক্রে এরা অন্যতম উপাদান।
WORMS (World Register for Marine Species) এর দেয়া তথ্য অনুযায়ী এই পর্যন্ত প্রায় দশ হাজার Amphipods আবিষ্কৃত হয়েছে। তবে এই প্রজাতির আগে Victoriopisa গণভূক্ত মাত্র তিনটি প্রজাতি ছিল।
ড. বেলাল বলেন, ২০১৫ সালে অষ্ট্রেলিয়ান মিউজিয়াম রিসার্চ ইন্সটিটিউট এ পোস্টডক্টরাল গবেষণাকালীন বিশিষ্ট Amphipod taxonomist, Dr. Lauren Hughes-সহ এই নতুন প্রজাতিটি সনাক্ত করেন। প্রজাতিটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের জন্য গবেষণার ফলাফল গত বছর (2015) নিউজিল্যান্ড থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞান সাময়িকী Zootaxa তে পাঠানো হয়। যা চলতি মাসের প্রথম তারিখে প্রকাশিত হয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে(HOSSAIN, M. BELAL, and LE HUGHES. “New species Victoriopisa bruneiensis and Apocorophium acutum (Chevreux, 1908) from Brunei (Crustacea: Peracarida: Amphipoda).” Zootaxa 4117, no. 3 (2016): 375-386) । এই প্রজাতিটির শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য হলো : Victoripisa গণভুক্ত এরই শুধু এক জোড়া চোখ রয়েছে, মাথায় পাশ্বীয় cephalic lobe নেই কিন্তু শেষ প্রান্তে সরু সিটা আছে। এছাড়া epimera নামক খন্ডের পশ্চাতবক্ষীয় অংশে ছোট ও সূক্ষ কাঁটা রয়েছে।
ডঃ বেলাল বলেন আমাদের এই পৃথিবীর তিন চতুর্থাংশের বিশাল জলরাশির মাত্র পাঁচ ভাগের মত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞান ভিত্তিক গবেষণা হলে আমাদের এই উপকূল থেকেও আরো নতুন নতুন প্রজাতি শনাক্ত করা সম্ভব।
ড. বেলাল হোসেন কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার কেন্দুয়া গ্রামের মৃত আব্দুস সোবহান ভূঁইয়া ও দেলোয়ারা বেগমের প্রথম পুত্র। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেরিন সাইন্স বিভাগে স্নাতক, যুক্তরাজ্যের হাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স এবং ব্রুনাই দারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। সম্প্রতি Australian Museum Research Institute থেকে Postdoctoral গবেষণা সম্পন্ন করেন।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.