“ডিজিটাল বাংলাদেশ” স্বপ্নটিকে বাস্তবে রূপায়িত করার জন্য প্রয়োজন বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ দক্ষ জনশক্তি। আর এ দক্ষ জনশক্তি গঠনের জন্য প্রয়োজন বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি বিষয়ক দীর্ঘমেয়াদী বাস্তব এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণ।করণ প্রতিনিয়ত প্রযুক্তিজগতে নতুন নতুন আধুণিক প্রযুক্তির আবির্ভাব ঘটছে, প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ দেশ গুলোর মধ্যে চলছে এক দূরন্ত প্রতিযোগিতা।এ প্রতিযোগিতার দৌড়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি এবং সে অবস্থানকে সামনের সাড়িতে নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজন প্রযুক্তিগত বিষয় গুলোর উপর গভীর জ্ঞান, যা একজন প্রযুক্তিমনা ব্যক্তি দীর্ঘমেয়াদী বাস্তব এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে অর্জন করতে পারে। এখন প্রশ্ন হল আমাদের প্রযুক্তিগত বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের সুযোগ কতটুকু?

আমাদের প্রযুক্তিগত বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের সুযোগ

মনে করুন কম্পিউটার সম্পর্কে আপনার মোটামঠি ধারণা আছে। এখন আপনি চিন্তা করলেন কোন একটি বিষয় ভালভাবে আয়ত্ব করে সেই বিষয়ের উপর প্রফেশনাল ক্যারিয়ার গড়তে। এই চিন্তাটি যদি সত্যিই আপনি নিজে করে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে আকর্ষণীয় মূল্যে বাড়ির কাছাকাছি বেশ কিছু সেন্টারে আকর্ষণীয় কিছু দীর্ঘ মেয়াদী প্রশিক্ষণ গ্রহণের অফার। আপনার, আমাদের দেশের ট্রেনিং সেন্টার সমূহ সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা লাভ হবে যদি এ ধরণের কোন কোর্সে ভর্তি হন। আসলে স্বাভাবিক ভাবেই দীর্ঘ মেয়াদী কোর্স গুলোতে শিক্ষার্থী সংখ্যা কম হয়। ফলে ট্রেনিং কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নানা ধরণের অনিয়ম চোঁখে পড়ে।

যা কিছু আপনি প্রত্যক্ষ করবেন

  • শিক্ষার্থী সংখ্যা কম হওয়ায় ট্রেনিং কার্যক্রম শুরু হতে বিলম্ব।
  • প্রয়োজনের তুলনায় ট্রেনারদের সংখ্যা কম।
  • অদক্ষ ট্রেনার দ্বারা ট্রেনিং কার্যক্রম পরিচালনা করা।
  • ল্যব এবং লাইব্রেরী সুবিধা প্রয়োজনের তুলনায় নগন্য।
  • নিম্নমানের ট্রুটিপূর্ণ এবং পুরাতন যন্ত্রাংশ দ্বারা ট্রেনিং কার্যক্রম পরিচালনা করা।
  • প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেই।
  • ট্রেনিং সেন্টারের পরিবেশ শিক্ষাউপযোগী নয়।
  • মাঝে মাঝেই নানাবিধ কারণে ট্রেনিং কার্যক্রম বন্ধ থাকা।
  • নির্দিষ্ঠ কাঠামো অনুযায়ী পরিচালনা না করা অথবা অনিয়ম।
  • ট্রেনিং কার্যক্রম বাস্তব এবং প্রজেক্ট ভিত্বিক না হয়ে তাত্বিক বিষয়গুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা।
  • তুলনা মূলক টিউশন ফি অনেক বেশি।

 

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টিতে করণীয়

আমাদের দেশে ট্রেনিং সেন্টার গুলোর অব্যবস্থাপনা আমাদের প্রযুক্তি শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। এতে করে ট্রেনিং সিস্টেমের দোষ দিয়ে লাভ নেই। আমাদেরকে প্রযুক্তি বিস্তারে এগিয়ে আসতে হলে অবশ্যই ট্রেনিং সিস্টেমকে উন্নত করতে হবে। ট্রেনিং ব্যবস্থাকে দীর্ঘ মেয়াদী করে বিভিন্ন লেভেলে ভাগ করতে হবে।সরকারী-বেসরকারী প্রতিটা প্রতিষ্ঠানের ট্রেনিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নূন্যতম একটি কাঠামোর অওতায় নিয়ে আসতে হবে। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় স্বল্প খরচে, উন্নত এবং আধুনিক যন্ত্রাংশের সংমিশ্রনে সজ্জিত অত্যাধুনিক ল্যাবের মাধ্যমে টেকনোলজির বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিং সেবা প্রদানের ব্যাস্থা করতে হবে। যেখানে মাল্টিমিডিয়ার সাহায্য নিয়ে উপযুক্ত বিষয়ে প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ দ্বারা ট্রেনিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রযুক্তি জ্ঞান এবং প্রযুক্তি চর্চাকে জনগণের দুয়ারে পৌছে দেয়ার জন্য বিভিন্ন অঞ্চলে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি বিষয়ক লাইব্রেরী এবং ল্যব সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রযুক্তি বিষয়ক পার্ক স্থাপন করতে হবে। তাহলেই দেশের জনগণ প্রকৃত জ্ঞন অর্জনের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে তার প্রকৃত প্রয়োগ ঘটিয়ে প্রযুক্তি জগতে নিজের  অবস্থান শক্ত করতে পারবে।

………………………………………………………………………………..

আজ এ পর্যন্তই। সকলের জন্য শুভকামনা রইল ।

comments

5 কমেন্টস

  1. পোষ্টটি প্রকাশের সাথে সাথেই মোবাইলে পড়ছি। অনেক ঝড়ঝাপটা এখনো আমাদের পেহাতে হবে। আর একটি কথা আমি সব সময়ই বিশ্বাস করি। দেশের সরকারকে চাপ/দোষ না দিয়ে যদি ব্যক্তিগতম উদ্যোগে আমরা কাঠামো ও অবকাঠামো উন্নয়ন করতে পারি তাহলে খুব শীগ্রই ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা দেখতে পারবো। 🙂

    • কিন্তু প্রতিটা ট্রেনিং সেন্টারের একটা নুন্যতম মানদন্ড এবং নুন্যতম কাঠামো থাকা উচিৎ, আর এটার জন্য অবশ্যই সরকারী উদ্দোগের প্রয়োজন আছে। আপনার দুইটা কম্পিউটার থাকলো আর আপনি একটা ট্রেনিং সেন্টারের মালিক হয়ে গেলেন এটা তো সকলের কাঙ্খিত হতে পারে না। আমার বিশ্বাস আপনিও এ বিষয়টির সাথে একমত হবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.