পুরুষ নারীদের চাইতে বেশি ঘামে, এই ধারণা ভুল ছবি সূত্রঃ লাইভ সাইন্স

বিজ্ঞানের শাখায় মানুষের শারীরবৃত্তীয় ক্ষেত্রে মজার একটি প্রশ্ন রয়েছে।তা হচ্ছে, পুরুষরা কি নারীদের চেয়ে বেশি ঘামে?
অস্ট্রেলিয়ার একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে লৈঙ্গিক কারণে নয় বরং একজন মানুষ তার ওজন, উচ্চতা ও দৈহিক গড়নের কারণে বেশি ঘেমে থাকে।যাদের উচ্চতা বেশি, তারা বেশি ঘেমে থাকে।এক্ষেত্রে তাদের শরীর বেশি ঘামতে ‘সাহায্য’ করে থাকে।
এক্সপেরিমেন্টাল ফিজিওলজি নামক একটি জার্নালে প্রকাশ করা হয় যে,শরীরকে ঠান্ডা করবার জন্য দুই ধরণের প্রক্রিয়া রয়েছে।

ঘেমে যাওয়া তাদের মধ্যে একটি। শরীরের চামড়ার সাথে লেগে থাকা ঘাম যখন বাষ্পীভূত হয়ে যায়, তখন তা শরীরকে ঠান্ডা করতে সাহায্য করে থাকে।
অপরটি হচ্ছে শরীরে যদি রক্ত প্রবাহের মাত্রা অত্যাধিক হয়ে থাকে।যদি চামড়ার তলের সাথে উষ্ণ রক্ত বেশিমাত্রায় প্রবাহিত হয়, তাহলে শরীর আপনিই ঠান্ডা হতে থাকে।

পুরুষরা বেশি ঘামে, এমনটি মনে করবার কোন কারণ নেই ছবি সূত্রঃ লাইভ সাইন্স
পুরুষরা বেশি ঘামে, এমনটি মনে করবার কোন কারণ নেই
ছবি সূত্রঃ লাইভ সাইন্স

শন নটলি, উক্ত গবেষণার অন্যতম একজন প্রধান বলেন,
“এতদিন মনে করা হত লৈঙ্গিক কারণে আমাদের শরীরে ঘামের প্রবাহ কিংবা মাত্রার তারতম্য হয়ে থাকে।কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে যে বিষয়টি মোটেও তা নয়। আপনি পুরুষ হন কিংবা নারী, আপনি কতটুকু ঘামছেন তা আপনার শারীরিক গড়নের ওপর নির্ভর করে।”

এই গবেষণায় আরো উঠে আসে যে, যেসব নারী পুরুষ উচ্চতায় খাটো, তারা শরীরকে ঠান্ডা করবার জন্য ঘামের চাইতে রক্ত প্রবাহের ওপর নির্ভর করে থাকেন বেশি। অন্য কথায় বলতে গেলে তাদের ঘামের পরিমাণ উচ্চতায় যারা লম্বা, তাদের চাইতে বেশি হয়ে থাকে।

৩৬ জন পুরুষ ও ২৪ জন নারীকে নিয়ে উক্ত গবেষণাটি করা হয়েছে। কক্ষের তাপমাত্রা ছিল ৮২.৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট ও উষ্ণতার পরিমাণ ছিল ৩৬ শতাংশ।
এই তাপমাত্রায় দেখা যায় যে শরীর বেশ স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি তাপ গ্রহণ করে নিচ্ছে এবং শরীরকে অতিরিক্ত গরম হতে দিচ্ছে না।

এই গবেষণায় যা যা উঠে এলঃ

১) এই গবেষণায় যা যা উঠে এল তা হচ্ছে, গবেষকেরা সম্পূর্ণ উচ্চতা ও ওজনের একটি অনুপাতের সাথে ঘামের পরিমাণ কতটুকু হচ্ছে, তার একটি সামঞ্জস্য বের করবার চেষ্টা করেছেন।

২) রক্ত প্রবাহের সাথে ঘামের নির্গত হবার তারতম্য কি,তা বের করবার চেষ্টা করেছেন।

৩) তারা একটি মজার তথ্য দিয়েছেন। পুরুষের গড় উচ্চতা নারীদের চাইতে বেশি তাই ধারণা করে নেয়া হয়ে থাকে পুরুষেরা নারীদের চেয়ে বেশি ঘামে। কিন্তু আদতে তা সত্য নয়।

সূত্রঃ লাইভ সাইন্স

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.