আমি প্রথমেই বলে নিচ্ছি এই পোস্টটা পাবলিশ করার পর পরীক্ষার কারনে হয়তো আর নেটে আসা হবেনা তাই কারো কোন প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্ভব হবেনা। এ কারনেই আমি এটুজেড সম্পূর্ন বিস্তারিত সহ পোস্টটি লিখছি যেন কারো মনে প্রশ্ন জাগলে সেটার উত্তর এই পোস্টের মাঝেই পেয়ে যান, তাই পোস্টটার আকারও বেশ বড় হবে। আশা করি ধৈর্য্য না হারিয়ে সম্পূর্ন পোস্টটা পড়বেন এবং আপনিও সিমবিয়ান ফোনে বাংলা লিখতে পারবেন। আজ প্রায় মাস তিনেক পর বিজ্ঞানপ্রযুক্তিতে ফিরে ভালই লাগছে যদিও ফেরাটা খুব অল্প সময়ের জন্য 🙁 আর ১২ দিন পর এসএসসি তাই ব্লগিংটাকে আপাতত বিদায় জানিয়েছি। তবে আজ একদিনের জন্য ফিরেছি শুধুমা্ত্র বাংলা লেখার বিষয়টা সবাইকে জানানোর জন্য। নোকিয়ার বিশেষ কিছু ফোন ছাড়া প্রায় সব ফোনেই, বিশেষ করে সিম্বিয়ান ফোনগুলোতে বাংলা লেখার তো কোন পথই নেই এমনকি অপেরামিনি ছাড়া দেখাও সম্ভব না। কিন্তু ছোট্ট কয়েকটা কৌশল অনুসরণ করলে সেটাও সম্ভব। শুধু ফোনেই নয়, ফেসবুক থেকে শুরু করে ব্লগ সহ যেকোন জায়গায় এখন আপনি বাংলা লিখতে পারবেন ফোনের সাহায্যই! 😀

বাংলা
বাংলা

ঘটনার শুরু দু’সপ্তাহ আগে। হঠাৎ করে আমার পিসি নষ্ট হয়ে যায়। তাই রিপেয়ার করতে ইসিএস কম্পিউটার সিটিতে দিয়ে আসি। কিন্তু সেদিন রাতেই প্রথম উপলব্ধি করলাম যেকোন মুহূর্তে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলা লেখাটা কতটা জরুরি! আমার ব্লগ পোস্টগুলোতে অনেকে মন্তব্য করছিল, প্রশ্ন করছিল সবই দেখছিলাম ফোনের অপেরামিনির সাহায্যে কিন্তু উত্তর দিতে পারছিলামনা, বাংলা লেখার জন্য যে আমার কাছে তখন ফোন ছাড়া আর কিছুই নেই! আমার ফোন নোকিয়া ই৭১ যা Symbian S60 V3 অপারেটিং সিস্টেম চালিত। ফোনটিতে বাংলার জন্য কোন সাপোর্ট নেই, এমনকি অপেরামিনি ছাড়া দেখাও যায়না। তাই প্রথমে খুজতে লাগলাম কীভাবে অপেরামিনি ছাড়া বাংলা দেখা যায়। যদি বাংলা দেখা সম্ভব হয় তাহলে অবশ্যই কোনভাবে লেখাটাও সম্ভব হবে। সিম্বিয়ান অপারেটিং সিস্টেমের ফোনগুলো মূলত True Type Font অর্থাৎ .ttf ফন্টগুলো সাপোর্ট করে। তাই যেকোন .ttf বাংলা ফন্ট যদি ফোনটিতে ইন্সটল করে ডিফল্ট ফন্ট হিসেবে বাছাই করে দেয়া যায় তাহলেই কাজ হয়ে যাবে।

এই ভেবে নোকিয়া এবং সিম্বিয়ান সম্পর্কিত ইংলিশ ব্লগগুলো ঘাটাঘাটি করতে শুরু করি। বেশ কিছু পদ্ধতি পেয়েও যাই, তবে কিছু কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করতে গিয়ে উল্টো বিপদে পড়তে হল! প্রথমে Font Router নামের একটি অ্যাপ্লিকেশনের খোজ পাই যেটা ফোনে থাকা যেকোন ফন্টকে ডিটেক্ট করে ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু অ্যাপ্লিকেশনটা ইন্সটল করার পরপরই ফোন বার বার রিস্টার্ট হতে থাকে! উপায় না পেয়ে ফোনটাকে হার্ড ফরম্যাট দিতে হল আর সেই সাথে হারালাম পুরোনো সব অ্যাপ্লিকেশন। তাই সবাইকে আমার একটা উপদেশ, ভুলেও কেউ Font Router ব্যবহার করতে যাবেন না। অ্যাপ্লিকেশনটা ফোনে সংরক্ষিত ডাটার জন্য অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ। ততদিনে অবশ্য আমার পিসি ঠিক হয়ে গেছে। পিসি পেয়ে থেমে যাইনি, মোবাইলে বাংলা লেখার প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই নতুনভাবে আবার ভিন্ন পদ্ধতির খোজ নিতে শুরু করলাম, পেয়েও গেলাম এবং পরীক্ষা করে সফল হলাম। আজ সেই পদ্ধতিটারই বিস্তারিত জানাচ্ছি।

প্রথমেই বলে নিচ্ছি এই পদ্ধতিটি আমি আমার নোকিয়া ই সিরিজের ই৭১ ফোনটিতে পরীক্ষা করে দেখেছি। অর্থাৎ Symbian S60 V3 চালিত যেকোন ফোনেই এই পদ্ধতি অনুসরণ করে বাংলা লিখতে ও দেখতে পারবেন। প্রক্রিয়াটার মূল কাজ হল ফোনের ডিফল্ট ফন্টকে রিপ্লেস করে বাংলা ফন্ট বসানো। এজন্য প্রয়োজন হবে:

১। Symbian S60 V3 চালিত ফোন।

২। কার্ড রিডার ও কম্পিউটার ।

৩। নোকিয়া ফোনের যেকোন ফাইল ম্যানেজার বা এক্সপ্লোরার যার সাহায্যে ফোনের  z: ড্রাইভ বা rom-এ access করা যায়। আমি ব্যবহার করেছি SBSHF Explorer Pro 2.1। আপনি চাইলে এই অ্যাপ্লিকেশনটা ডাউনলোড করুন এখান থেকে: ডাউনলোড SBSHFExplorerPro_2_1.sis আর কোন কারনে ডাউনলোডকৃত ফাইলটি সাপোর্ট না করলে আপনার ফোন থেকে সরাসরি wap.getjar.com এ প্রবেশ করে Explorer লিখে সার্চ দিন। আশা করি আপনার ফোনের সাপোর্টেড ভার্সনটি পেয়ে যাবেন।

৪। যে কোন ইউনিকাড বাংলা ফন্ট এবং সেই ফন্টের সাধারন ও বোল্ড ভার্সন। আমি এখানে vrinda এবং এর বোল্ড ভার্সন vrindab ফন্ট দুটি ব্যবহার করেছি। ফন্টগুলো মূলত উইন্ডোজ সেভেন বা ভিস্তার C:/Windows/Fonts ফোল্ডারে পাবেন। উইন্ডোজ সেভেনে vrinda লেখা ফন্টটাই যখন অন্য কোন লোকেশনে কপি-পেস্ট করবেন তখন একটা ফন্ট থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে vrinda এবং vrindab ফন্ট দুটি চলে আসবে। আর আপনার কম্পিউটারে না থাকলে ফন্ট দুটি ডাউনলোড করুন এখান থেকে:

i) ডাউনলোড vrinda

ii) ডাউনলোড vrindab

Screenshot0015

ব্যস! এবার শুরু করা যাক আসল কাজ। এজন্য প্রথমে SBSHF Explorer Pro 2.1 ইন্সটল করুন। এবার অ্যাপ্লিকেশনটি ওপেন করে ব্যাক এ যেয়ে একেবারে প্রথমে চলে আসুন। সেখানে c, d, e, y এবং z নামে চারটি ড্রাইভ দেখতে পাবেন। অবশ্য ড্রাইভগুলো অন্য লেটারেও থাকতে পারে আপনাকে শুধুমাত্র rom ড্রাইভটি খুজে নিতে হবে। সবগুলো ড্রাইভের পাশেই লেখা আছে সেটা rom, ram নাকি flash ড্রাইভ। rom ড্রাইভ চেনার অন্যতম উপায় হল সেটা সবসময় ১০০% full দেখাবে অর্থাৎ সেখানে আপনি নতুন কিছু যুক্ত করতে পারবেন না। সাধারনত z: ড্রাইভটিই rom হয়ে থাকে, একটু নিচের দিকে গেলেই তা খুজে পাবেন। এবার সেখানে প্রবেশ করে resource-এ যান এবং resource থেকে fonts ফোল্ডারটি খুজে নিয়ে প্রবেশ করুন। প্রবেশ করলে দেখতে পাবেন যে সেখানে ৪টি ভিন্ন ভিন্ন নামের ফন্ট রয়েছে। এবার আপনার কাজ হল ফন্টগুলোর নাম কোন খাতায় বা নোটে লিখে রাখা। আমার নোকিয়া ই৭১ এ ফন্টগুলোর নাম যথাক্রমে:

nohindisnr60.ttf

nohindissb60.ttf

nohinditsb60.ttf

S60ZDIGI.ttf

Screenshot0016

বলে রাখা ভাল যে আপনার ফোনের ফন্টগুলোর নাম ভিন্নও হতে পারে। তবে নামগুলোর প্রথম বা শেষাংশ ভিন্ন হলেও লক্ষ্য করবেন মাঝের তিনটি অক্ষর অর্থাৎ snr, ssb ও tsb অপরিবর্তিত থাকবে এবং এগুলোই ফন্টের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে থাকে। এবার এক কথায় ফন্টগুলোর পরিচিতি বলা যাক, snr এবং ssb মূলত সিম্বিয়ান ফোনের সাধারন ফন্টকে নির্দেশ করে এবং tsb বোল্ড করা ফন্টকে নির্দেশ করে। এবার আপনার কাজ হল S60ZDIGI অর্থাৎ DIGI উল্লেখিত ফন্টটি কপি করে রাখা। কারন এই ফাইলটি রিপ্লেস করার প্রয়োজন নেই তাই এটাকেই কপি করে বসাতে হবে। কপি করতে এক্সপ্লোরারের Edit এ যেয়ে Copy দিন। এবার ব্যাক এ যেয়ে আপনার মেমোরি কার্ডের যেকোন লোকেশনে Edit এ যেয়ে Paste করুন। শেষ হল নাম গ্রহন ও মূল ফন্ট কপি করার কাজ। এবার প্রথমে উল্লেখ করা vrinda ফন্টটির দুটি কপি করুন। এর একটির নাম দিন nohindisnr60 এবং অপরটির নাম দিন nohindissb60। আমি আগেও বলেছি আপনার ফন্টটির নাম ভিন্নও হতে পারে অর্থাৎ যে দুটি ফন্টে snr ও ssb লেখা রয়েছে সে দুটি ফন্টের নামে Rename করুন। এবার vrindab ফন্টটিকে রিপ্লেস করুন nohinditsb60 নামে অর্থাৎ যে ফন্টটির নামের সাথে tsb রয়েছে সেটির সাথে। এবার Fonts নামের একটি ফোল্ডার তৈরি করে আপনার Rename করা ফন্ট তিনটিকে সেই ফোল্ডারে কপি করে নিন, সাথে আপনার মেমোরি কার্ডে কপি করা S60ZDIGI ফন্টটিও একই ফোল্ডারে কপি করে নিন। এবার আপনার ফোনের মেমেরি কার্ডটি কার্ড রিডারের সাহয্যে পিসিতে কানেক্ট করুন। কম্পিউটারের ফোল্ডার অপশন থেকে Show Hidden Files এ দিয়ে দেখুন আপনার মেমোরি কার্ডে Resource নামের কোন ফোল্ডার আছে কিনা। যদি থাকে তাহলে সরাসরি Fonts ফোল্ডারটি Resource ফোল্ডারের ভেতরে কপি-পেস্ট করে দিন। আর যদি না থাকে তাহলে আপনার মেমোরি কার্ডে resource নামের একটি ফোল্ডার  তৈরি করে সেখানে Fonts ফোল্ডারটি কপি করুন। এক কথায় আপনার  Rename করা ফন্টগুলো memorycard:/resource/fonts ফোল্ডারে রাখতে হবে। এবার মেমোরি কার্ডটি ফোনে ঢুকিয়ে ফোনটি রিস্টার্ট দিয়ে দেখুন এবার অপেরামিনি ছাড়াই আপনার বিল্ট-ইন ব্রাউজারে যেকোন বাংলা ওয়েবসাইট দেখতে পারবেন এবং ফোনের কোন মেনু বা নোট বাংলা লেখা থাকলে সেটাও দেখতে পারবেন। আর অপেরামিনিতে opera:config পরিবর্তন না করেও বাংলা দেখতে পারবেন তবে এর একটা সমস্যা হল লেখাগুলো পরিস্কার নয়। আকার অর্থাৎ া বা ি গুলো বর্ণের উপর চলে আসে ফলে দেখতে অসুবিধা হয়। তবে একটু লক্ষ্য করে পড়লেই মানিয়ে নেয়া সম্ভব। তাই আমি মনে করি বাংলা পড়ার জন্য Operamini এর অ্যাড্রেস বারে যেয়ে opera:config লিখে এন্টার করে “Use bitmap font for complex scripts” অপশনটি Yes দিয়ে চালু রাখাই ভাল। অপেরামিনিতেই যখন ওয়েবসাইট ভাল দেখা যায় তাহলে ফন্ট রিপ্লেসিং পদ্ধতিটি নাহয় শুধুমাত্র ফোনের মেনুতে বাংলা দেখা এবং লেখার জন্যই ব্যবহার করুন। তাছাড়া আরো কিছু সমস্যার কথা জানিয়ে দিই, ফন্ট রিপ্লেসের ফলে আপনার ফোনে বিভিন্ন স্পেশাল ক্যারেকটার কাজ নাও করতে পারে। তখন সেগুলো চারকোনা বাক্স আকৃতির দেখাবে। তবে আমি যেটা মনে করি আমার প্রিয় বাংলা হরফকে বাক্স আকারে দেখার চেয়ে কিছু স্পেশাল ক্যারেকটারকে বাক্স আকারে দেখাও অনেক ভাল! আর সতর্কবাণী হিসেবে বলে রাখি, ভুলেও ফন্টগুলো আপনার ফোন মেমোরিতে রিপ্লেস করতে যাবেন না। কারন সেখানে একবার রিপ্লেস করলে আবার অরিজিনাল ফন্টে ফিরে যাওয়া যাবেনা। বিশেষ কোন প্রয়োজনে অরিজিনাল ফন্টে ফিরে যেতে শুধুমাত্র মেমোরি কার্ডটি রিমুভ করে ফোনটি রিস্টার্ট দিলেই চলবে। আবার ঢুকিয়ে রিস্টার্ট দিলেই বাংলা চলে আসবে। আর স্থায়ীভাবে রিমুভ করে অরিজিনাল ফন্টে যেতে আবার কার্ড রিডার দিয়ে মেমোরি কার্ডটি পিসিতে নিয়ে Resource থেকে Fonts ফোল্ডারটি ডিলিট করে দিন।

Screenshot0019

ব্যস! এই হল ফন্ট রিপ্লেসের সম্পূর্ন প্রক্রিয়া এবং কিছু সতর্কবার্তা। এবার আসি মূল কাজ অর্থাৎ লেখা! এই পদ্ধতিটা জানার আগে আমারো মনে হয়েছিল যে সিম্বিয়ান ফোনে বাংলা লেখা হয়তো অসম্ভব! কিন্তু এই সমস্যার সমাধান পেয়েছি অসাধারন একটা অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে। ফোনে বাংলা লিখতে আপনার ফোন থেকে সরাসরি http://www.indisms.in সাইটে যেয়ে সেখান থেকে অ্যাপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করে ইন্সটল করুন। এবার indisms অ্যাপ্লিকেশনটি চালু হলে শুরুতেই আপনাকে ভাষা নির্বাচন করতে বলবে। এবার বাংলা নির্বাচন করুন এবং সেখান থেকে New Messege বা বার্তা নির্মানে যেয়ে Phonetic Mode এ সহজেই বাংলা লিখুন! তাছাড়া আপনি চাইলে অপশনে যেয়ে Language Keypad দিয়ে অন স্ক্রিন কীবোর্ডের মতও বাংলা লিখতে পারেন। এভাবে বাংলা লিখতে সবচেয়ে সুবিধা হবে যাদের ফোনে QWERTY কীবোর্ড আছে, আমার ই৭১-এ লিখতে তাই মোটেও সমস্যা হচ্ছেনা। এখন আপনি হয়তো ভাবছেন আমি তো শুধু অ্যাপ্লিকেশনটির ভিতরেই লেখার কথা বলছি, ফেসবুক বা ইন্টারনেটে কীভাবে লিখবো?! এজন্যও বেশি কিছু করতে হবেনা, অ্যাপ্লিকেশনটার মধ্যে আপনার মনের কথা লেখা শেষ হলে শুধুমাত্র Back-এ দিন এবং Save To Drafts এ দিয়ে অ্যাপ্লিকেশনটা থেকে বেরিয়ে আসুন। এবার আপনার ফোনের  মেসেজ অপশনের ড্রাফটে যেয়ে দেখুন আপনার লেখাগুলো সেভ হয়ে গেছে! এবার সেই ড্রাফটটি ওপেন করে ফোন দিয়ে কপি করে যে কোন স্থানে পোস্ট করুন! এবার যখন যেখানে খুশি সিম্বিয়ান ফোনের সাহায্যই লিখুন বাংলা।

Screenshot0020

এবার কিছু টিপস। এই পদ্ধতিটি আমি কালই জানতে পেরেছি, এই অল্প সময়ে অ্যাপ্লিকেশনটিতে বাংলা লেখার সময় যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি সেগুলো বলছি। Phonetic মোডে কোন কারনে কোন শব্দ মেলাতে না পারলে আমরা সাধারনত দুটো ভিন্ন ভিন্ন শব্দ আলাদাভাবে লিখে পরে দুটোর মাঝে স্পেসটা কেটে দিই। কিন্তু এই অ্যাপ্লিকেশনটায় সেই সুযোগ নেই। মাঝের স্পেসটা কেটে দিলেও দুটো মিলে আবার অন্য একটি শব্দ তৈরি হয়। এর সমাধান হিসেবে আমি বলবো দুটো আলাদা শব্দ লিখে অ্যাপ্লিকেশনটায় লেখা অবস্থায় স্পেসটা না কেটে দুটো আলাদাভাবেই রেখে দিন। পরবর্তিতে যখন Drafts-এ সেভ করবেন তখন ফোনের মেসেজ অপশনের Drafts থেকেই স্পেসটা কেটে দিন। তখন দুটো মিলে আপনার কাঙ্খিত শব্দটি তৈরি হয়ে যাবে কোন সমস্যা ছাড়াই।
এবার আসি লেখার নিয়মে। এ্যাপলিকেশনটার সাহায্যে বাংলা লেখা খুবই সহজ। আকার দিতে চাইলে আপনার কাঙ্খিত বর্ণ শেষে শুধু দুটি a অর্থাৎ aa লিখলেই আকার চলে আসবে। আর দুটি বর্ণ একটার পর একটা লিখলে সেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত বর্ণে পরিণত হয়। এখন ভাবছেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হলে আলাদা করবেন কিভাবে? সেটাও খুব সহজ! আলাদাভাবে লিখতে চাইলে শুধু একটা বর্ণ লেখার পর a দিয়ে আরেকটি লিখুন, তাহলেই দুটি আলাদা থাকবে। অর্থাৎ কোন শব্দ মেলাতে না পারলে বা কোন সমস্যা হলে মাঝে একটি a দিয়ে দিন। আর Phonetic বাংলা লেখার সুবিধার্থে কীম্যাপ দিয়ে দিচ্ছি:

ক k

খ kh

গ g

ঘ gh

ঙ Ng

চ ch

ছ chh

জ j

ঝ jh

ঞ Nj

ট T

ঠ Th

ড D

ড় D~

ঢ Dh

ঢ় Dh~

ণ N

ত t

থ th

দ d

ধ dh

ন n

প p

ফ ph

ব b

ভ bh

ম m

য y

য় Y

র r

ল l

শ sh

ষ Sh

স s

হ h

অ a

আ aa

ই i

ঈ ee

উ u

ঊ oo

ঋ R

এ e

ঐ ai

ও o

ঔ au

ং M

ৎ t_

ঃ H

জ্ঞ gny

ক্ষ x

এছাড়া চন্দ্রবিন্দু সহ আরো কিছু যুক্ত করতে চাইলে অপশনে যেয়ে Language Keypad এ যান। সেখান থেকে # চেপে ডানে বামে নিয়ে দেখুন। আশা করি সব পেয়ে যাবেন।

কিন্তু সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হল যে অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করেছি সেটি একটি ভারতিয় অ্যাপ্লিকেশন। তার চেয়েও দুঃখজনক ব্যাপার এখানে Phonetic এ লেখার সময় বাংলা শব্দের উচ্চারনটাও ইংরেজিতে ভারতীয় বাংলা বা হিন্দী শব্দ উচ্চারনের মত করে লিখতে হয় যা আমার কাছে বেশ খারাপ লেগেছে। যে আমরা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছি, যাদের কারনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সৃষ্টি তাদেরই যদি অন্য কোন দেশের অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে ফোনে নিজের মাতৃভাষা বাংলা লিখতে হয় এবং লেখার সময় যদি হিন্দীকে অনুসরন করে লিখতে হয় তাহলে আর কী-ই বা বলার আছে! সিম্বিয়ান ফোনের সাহায্যে বাংলা লেখার বেশ কিছু বাংলাদেশি অ্যাপ্লিকেশন থাকলেও সেগুলো শুধুমাত্র ওই অ্যাপ্লিকেশনেই কাজ করে। কপি করার কোন পদ্ধতি নেই। আশা করি বাংলাদেশী সিম্বিয়ান অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপাররা বাংলা লেখার অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে নজর দেবেন এবং যারা এই পদ্ধতি অনুসরণ করবেন তারা অবশ্যই ব্যবহার করার পর আপনাদের মতামত জানাবেন, ধন্যবাদ।

বি.দ্র: আপনি চাইলে ফন্ট রিপ্লেস না করেই সরাসরি Indisms অ্যাপলিকেশনটা ইন্সটল করেই বাংলা লিখতে পারেন কিন্তু সেক্ষেত্রে আপনার ফোন মেনুর কোথাও বাংলা লেখা থাকলে অথবা ফোনের নোটস বা কনট্যাক্টস বাংলায় থাকলে সেগুলো আর দেখতে পারবেন না। তাছাড়া বাংলা লেখার পর ফোনের মেসেজ অপশনের ড্রাফটস এ নিলেও বাংলা দেখতে পারবেন না। আর ROM থেকে ফন্ট কপি করার ক্ষেত্রে অসাবধানতাবসত কোন দুর্ঘটনা বা ফন্ট রিপ্লেস করতে যেয়ে ফোনের কোন প্রকার ক্ষতি হলে লেখক বা বিজ্ঞানপ্রযুক্তি কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

comments

55 কমেন্টস

  1. কিন্ত ভাইয়া, ফন্ট নিয়ে এত ঝামেলা করতে গেছো কেন? IndiSMS সফটওয়্যার দিয়ে তো এমনিতেই এই কাজ গুলো করা যায়, কোন ফন্ট ইন্সটল করা ছাড়াই। আমি অবশ্য S60V2 ফোনে দেখেছি।

    • ভাইয়া এস৬০ ভি৩ ফোনে কোন বাংলা ফন্টই নেই ফলে লেখার সময় বাংলা বর্ণমালার বদলে বাক্স দেখায়। আর কিছু কিছু সেটে IndiSMS এ বাংলা দেখালেও পরবর্তিতে যখন ফোনের ডিফল্ট ড্রাফটস-এ নেয়া হয় তখন আবারো বাক্স দেখায়। ফলে লেখা আর বোঝা যায়না। তাই ফন্ট রিপ্লেস করতেই হয়। আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ 🙂

      • তাছাড়া ফন্ট রিপ্লেস না করলে ফোনের মেনুতে বাংলা লেখা থাকলে এবং বাংলায় কোন নোট লিখে ফোনে ওপেন করলেও সেটা দেখা যায়না। শুধুমাত্র বাংলা ইউনিকোড ইন্সটল করার পরই দেখা যায়। আমি এটা আজ নোকিয়া ই সিরিজ এবং এন সিরিজ দুটো সেটেই পরীক্ষা করে দেখেছি।

  2. বুঝেছি, আমাদেরই একটা বানাইতে হবে।

  3. আপনার প্রচেষ্টা প্রশংসার যোগ্য। তবে বাংলা এসএমএস করার জন্য দয়া করে চন্দ্রবিন্দু ব্যবহার করুন। এটি গ্রামীণফোন আলোআসবেই প্রজেক্ট এর প্রথম ১০টির একটি। এটি জাভা ব্যবহার করে আপনাকে সরাসরি ইউনিকোড ফনেটিক এ বাংলা লিখতে দেবে। এটি এখনো নির্মাণাধীন। পেতে যোগাযোগ করুন –

    black_heart@student-partners.com

    • ধন্যবাদ প্রতীক ভাই। আমি পোস্টের শেষে তো এই আক্ষেপটার কথাই জানিয়েছি যে কোন বাংলাদেশী অ্যাপলিকেশন পেলামনা যেটা দিয়ে ইন্টারনেটে বাংলা লেখা যায়। এর আগেও বাংলা এসএমএস এর কিছু দেশী অ্যাপলিকেশন পেয়েছি কিন্তু ওগুলো দিয়ে টেক্সট কপি করা যেতোনা অর্থাৎ শুধু ওই অ্যাপলিকেশনেই লেখা যেত, কপি করে কোথাও পোস্ট করতে পারতামনা। আশা করি চন্দ্রবিন্দুতে সেটা করা যাবে, যদিও আমি জানিনা। চন্দ্রবিন্দুর জন্য যোগাযোগ করছি।

  4. কাহিনি কি রাহাত ভাই ? অনেক দিন আপনার লিখা পাইনা … যাও পেলাম, সেখানে আপনি আবার পরীক্ষার অজুহাত দিচ্ছেন ???? বুজছি , আপনার প্রসেসর গরম হয়ে যাচ্ছে।

    তবে নিজের মোবাইল এর উপরে এমন এক্সপেরিমেন্ট করে আমাদের কে হেল্প করার জন্য অনেক ধন্যবাদ …… খুবি উপকারি একটা পোস্ট …

  5. নকিয়া N8 এ ইন্সট্রাকশনগুলা ফলো করতে গিয়ে ইংলিশটাই দেখা যাচ্ছেনা। পরে এখান(http://tinyurl.com/65v4rqd) থেকে ফন্ট ডাউনলোড করে বাংলা + ইংলিশ মোটামুটি ক্লিয়ার হয়। একেবারে ক্লিয়ার করার কোন উপায় আছে?

    virinda সাপোর্ট করেনা 🙁

    • ভাইয়া আমি তো বলেই দিয়েছি এটা সিমবিয়ান ৩য় প্রজন্মের ফোনগুলোর জন্য, নোকিয়া এন৮ এবং সকল টাচস্ক্রিন সেটগুলো ৫ম প্রজন্মের। তাছাড়া এন৮ এই প্রথমবারের মত সিমবিয়ান ওএস ৩.০ ব্যবহার করা হয় তাই এটা বাকি ফোনগুলো থেকে সম্পূর্ন ভিন্ন। তাই এ ব্যাপারে সাহায্য করতে পারছিনা কারন আমার কাছে সিমবিয়ার ৩ চালিত কোন ফোন নেই 🙁

  6. ভাইরে, আমারটাও ই৭১। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এটা কাজ করবেনা। কারণটা খুবই আজব এবং জটিল।।।

    আমি আমার ই৭১ এ ইনবক্স/সেন্ট আইটেমস্/ড্রাফট থেকে কোন এসএমএস অন করতে পারছিনা। এসএমএসগুলোর প্রথম লাইনটি ইনবক্স এই দেখা যায় কিন্তু এর উপরে ক্লিক করলে জাস্ট কিছুই হয়না! নোকিয়ার কাস্টোমার কেয়ারে যোগাযোগ করেও কোন সমাধান পাইনি। যা করতে বলেছে করেছি এবং আমার বেশ কিছু সফটওয়্যার হারিয়েছি। (কিছু ফেরত পেয়েছি কারণ আগে ব্যাকআপ করে রেখেছিলাম) তারা আমাকে চারবার কল দিয়ে চারবার চারটি তথ্য নিয়েছে এবং শেষবার কল দিয়ে সুন্দরভাবে বলেছে, “আপনার সমস্যার কোন সমাধান আমরা পাইনি। আপনার কাছাকাছি কোন নোকিয়া সেন্টারে ফোনটিকে নিয়ে আসুন। আমরা ঠিক করে দেবার চেষ্টা করবো …” আমার সেটটা ই৭১-০১ … আপাতত এসএমএস দেওয়া নেওয়ার কাজ করছি Conversations সফটওয়্যারটার মাধ্যমে। কিন্তু এটাতে ড্রাফটস্ মেসেজ দেখার কোন সুবিধা নেই। তাছাড়া ব্লুটুথটাও ইউজলেস হয়ে গেছে কারণ ব্লু টুথ দিয়ে কোন ফাইল নিলে সেটা ইনবক্স থেকে আসে আর অপেন করতে পারিনা।

    তোমারতো সামনে এসএসসি পরীক্ষা। পরীক্ষার জন্য অনেক শুভকামনা থাকলো। আমার সমস্যার সমাধান এখন দরকার নেই। ভালভাবে পরীক্ষা দাও। পরীক্ষার পরে ফিরে এসে কোন সমাধান পেলে দিও …

    • শুভকামনার জন্য ধন্যবাদ কিন্তু ভাইয়া আপনার সমস্যাটার কথা শুনে খুবই অবাক লাগলো। এই সমস্যাটা কী ফোন কেনার পর থেকেই নাকি ব্যবহার করার কিছু পরে হয়েছে? যদি ব্যবহার করার পর হয়ে তাকে তাহলে আপনাকে হার্ড ফরম্যাটের কোড দিতে পারি। সেক্ষেত্রে আপনার ফোন মেমোরিসহ মেমোরি কার্ডের সব অ্যাপ্লিকেশন এবং কনট্যাক্ট এর ব্যাকাপ করে নিতে হবে কারন সব মুছে যাবে এবং ফোনটি কেনার সময় যেমন ছিল ঠিক তেমন হয়ে যাবে। আর আপনার ফোনটি কী ই৭১-০১ নাকি ই৭১এক্স? আমি যতদূর জানি ই৭১এক্স সেটটিতে অনেক সমস্যা থাকায় পরবর্তিতে নোকিয়া এই সেটটি বন্ধ করে দেয়।

  7. Vrinda লাগানোর পরে একেবারেই খারাপ অবস্থা হয়েছে। একটা লেখাও ক্লিয়ার না! Siyum Rupali দিলাম। সব বক্স বক্স … ভ্রিন্দা ছাড়া কি আর কোন সমাধান নেই?

    • Vrinda ছাড়া Kalpurush Regular ফন্টটা ব্যবহার করতে পারেন, এটা অনেকটা Solaiman Lipi এর মতই। Solaiman Lipi সব ফোনে সাপোর্ট করেনা, এন সিরিজের কিছু সেটে সাপোর্ট করলেও আমার ই ৭১ এ করেনি, তাই সেটার কথা উল্লেখ করিনি। Vrinda সব সেটে সাপোর্ট করে, সম্ভবত Kalpurush ও সাপের্ট করবে।

  8. রাহাত ভাই, আমার নকিয়া ৬৬৩০। আমার ফোনে ফন্ট ৩টা। সেগুলো 1.Browsereur.grd, 2.CalcEur.grd, 3.Ceurope.grd. এবং আমার ফোনে resource নামে কোন ফোল্ডার নাই। তবে Fonts নামে আছে। আপনি যেগুলো করতে বলেছেন আমি করেছি, কিন্তু কাজ হয়নি। আমি কি করতে পরি? জানাবেন।

    • দুঃখিত ভাইয়া, আপনার ফোন এ পদ্ধতিটা সমর্থন করবেনা কারন আপনার ফোনের ফন্টগুলো .grd কিন্তু এই পদ্ধতিটি শুধুমাত্র .ttf ফন্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

  9. ভাই আমার ৬১২০c তে কাজ করেনা। কি করব বলেন তো।

    • আপনার ফোনের ফন্টগুলো কী ফরম্যাটের সেটা কী জানাবেন ? যদি .ttf হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই সমর্থন করবে আর যদি.grd বা অন্যকিছু হয়ে থাকে তাহলে আপনার ফোনটি এই পদ্ধতি সমর্থন করবেনা।

    • ভাইয়া সেটা পোস্টেই লেখা আছে, একটু ভাল করে বিস্তারিত পড়ুন। ফন্ট দুটি আপনাকে Rename করতে হবে ফোনের আসল ফন্টগুলোর নামে।

  10. লাভ হচ্ছেনা কোন। বাংলা ক্যারেক্টার একটার মধ্যে আরেকটা ঢুকে যায়! সেটে যে হিউজ পরিমাণ স্পেশাল ক্যারেক্টারের সাপোর্ট আছে সেটাও হারাতে হবে!

    এমন কোন সফটওয়্যারের খোজ দিতে পারো যা দিয়ে ফন্টকে জোড়া লাগানো যায়?

    বাংলা লেখার জন্য “চন্দ্রবিন্দু” টাই বেশি ভাল হয়। কিন্তু বাংলাই তো আনতে পারছিনা! লেখাতো দূরের কথা… 🙁

  11. সাবস্ক্রাইব করে নিলাম পরবর্তী মন্তব্যগুলোকে অনুসরণের জন্য…

  12. আমি জানতি চাই সব ফোনের হার্ড ফরম্যাটের কোড

  13. আমি আমার নকিয়া ৫২৩৩ তে অনেক আগে চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু পারিনি। পরবর্তীতে বোল্ট ইন্ডিক ব্রাউজার ব্যবহার করলাম যাতে ব্রাউজারের সাথে ফন্ট ইনস্টল হয়েছিল। খুব ভালভাবে এবং দ্রততার সাথে বাংলা সাইট/ব্লগ ব্যবহার করতাম। কিন্তু গত ১৪ ডিসেম্বর হতে বোল্ট ইন্ডিক তাদের সার্ভিস বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে আবার সেই একই অবস্থা। কয়েকদিন আগে মোবাইলের সফটওয়্যার আপডেট দিলাম এবং দেখলাম যে বাংলা আসছে কিন্ত আকার, ইকারগুলি মূল অক্ষরের সাথে একাকার হয়ে গিয়েছে। একটু সমস্যা হলেও পড়তে পারছি। কিন্তু আমাদের চাই বোল্ট ইন্ডিকের মত একটি সমাধান। আর অপেরা দিয়েতো দেখাই যায়…তবে…তাতো জনেনই।

  14. I simply want to tell you that I’m newbie to weblog and actually savored your web page. Almost certainly I’m likely to bookmark your blog post . You actually come with outstanding articles and reviews. Thanks a bunch for sharing your webpage.

  15. *Great post however , I was wanting to know if you could write a litte more on this subject? I’d be very thankful if you could elaborate a little bit further. Bless you!

  16. Excellent goods from you, man. I’ve understand your stuff previous to and you’re just too excellent. I actually like what you’ve acquired here, really like what you’re saying and the way in which you say it. You make it enjoyable and you still take care of to keep it smart. I can’t wait to read much more from you. This is actually a great website.

  17. Its like you read my mind! You appear to know so much about this, like you wrote the book in it or something. I think that you could do with some pics to drive the message home a little bit, but instead of that, this is great blog. An excellent read. I’ll certainly be back.

  18. Thank you for another informative blog. Where else may I get that type of info written in such an ideal manner? I’ve a undertaking that I am simply now running on, and I have been on the look out for such information.

  19. Thanks so much for giving everyone an exceptionally remarkable possiblity to discover important secrets from this web site. It is always very good and also packed with fun for me and my office friends to visit the blog no less than 3 times in a week to see the newest issues you will have. And definitely, I’m so always fulfilled for the exceptional pointers you serve. Some 2 facts in this posting are clearly the most beneficial we have ever had.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.