কুমরানে পাওয়া গেল ডেড সী স্ক্রোল
প্রাচীন মানুষরা আগে আমাদের মত লিখবার জন্য কাগজ পেত না। কারণ, কাগজ এত সহজলভ্য ছিল না। তারা লেখার কাজের জন্য যা ব্যবহার করত তাকে বলা হত “স্ক্রল”। এই স্ক্রল তৈরি করা হত পার্চমেন্ট, ব্রোঞ্জ এবং প্যাপিরাসের মাধ্যমে। দ্য ডেড সী স্ক্রল বলতে মূলত বোঝানো হয়ে থাকে কুমরান গুহার স্ক্রল। কারণ, কুমরান গুহা ও এর আশেপাশের কয়েকটি গুহার মাঝে সংরক্ষণ ও লুকিয়ে রাখার জন্য রাখার হত এই স্ক্রল। এই স্ক্রলে অনেক ইহুদিদের গোপন তথ্য ও ইতিহাসের নানা দলিল সম্পর্কে জানা যায়। ১৯৪৬/৪৭, ১৯৫৬, এবং ২০১৭ সালে মোট ১২টি গুহায় ৯৮১টি ভিন্ন ভিন্ন পার্চমেন্টে তৈরি ম্যানুস্ক্রিপ্ট পাওয়া যায়।

গুহা থেকে প্রাপ্ত পার্চমেন্ট
      গুহা থেকে প্রাপ্ত পার্চমেন্ট
কয়েকদিন আগে ইজরায়েলে কুমরানের কাছের যে গুহাটিতে এই নতুন স্ক্রলটি পাওয়া গিয়েছে, তা মধ্য ২০ শতকের দিকে হারিয়ে গিয়েছিল। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা এই স্ক্রলের সাথে পাত্র, কাপড় এবং লেদারের স্ট্র্যাপও খুঁজে পান। তাদের ধারণা হচ্ছে, এই স্ক্রলগুলোকে নিরাপদে রাখবার জন্য এই বস্তুগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল।
১৯৪৭ এবং ১৯৫৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে কুমরানের আশেপাশে মোট ১১টি গুহায় ডেড সী স্ক্রল পাওয়া গিয়েছিল। এই স্ক্রলে যা রয়েছে তা হচ্ছে হিব্রু বাইবেলের যে সংঘ রয়েছে তাদের নানা নিয়ম কানুন, দিনপঞ্জি, মহাকাশ বিষয়ক নানা বার্তা এবং তাদের দিনকাল বিষয়ক নানা ধরণের লেখা। এবার ১২তম গুহায় পাওয়া গেল ডেড সী স্ক্রলের আরো একটি অংশ।

বলে রাখা ভালো, এদের মধ্যে কিছু কিছু স্ক্রল পেয়েছিল বেদুইনরা। কারণ, বিজ্ঞানীরা এই স্ক্রলগুলোর প্রতি যতটা আগ্রহী, অ্যান্টিক ডিলাররা তার থেকেও বেশি উদগ্রীব হয়ে থাকে। এর কারণ হচ্ছে, বাজারমূল্য বেশ চড়া। বেদুইনরা তাদের প্রাপ্ত এই স্ক্রলগুলোকে অ্যান্টিক ডিলারদের কাছে বেশ চড়া দামে বিক্রি করে দেয় এবং বাকিগুলো নানা প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষনার মাধ্যমে উঠে আসছে।

সূত্রঃ live science.com

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.