আর্জেন্টিনার পাতাগোনিয়া নামক অঞ্চলে বিজ্ঞানীরা জুরাসিক যুগের একটি উড়ন্ত ডাইনোসরের ফসিল পেয়েছেন। তারা ধারণা করছেন যে, উড়ন্ত যেসব ডাইনোসর রয়েছে, তাদের মাঝে হয়ত এটিই সবচেয়ে বেশি বয়ষ্ক।

এই অজানা প্রজাতিটির নাম রাখা হয়েছে ‘অ্যালকাউরেন কই’।

আরিয়ানা কারাবাজোল বলেন, ‘এটিকে আমরা সরীসৃপ বলতে পারি না। কারণ, এর দাঁতে ক্র্যানিয়াম রয়েছে এবং তাতে কোন ক্যাভিটি নেই। সম্পূর্ণ ভাবে উড়তে এরা সক্ষম, তীক্ষ্ম লম্বা ঠোঁট রয়েছে পাখির মত।’ আরিয়ানা বিজ্ঞানীদের দলের একজন অন্যতম সদস্য।

অ্যালাকাউরেন কই- এটি একটি প্রাচীন ইন্ডিয়ান শব্দ যার অর্থ হচ্ছে ‘প্রাচীন মস্তিষ্ক’।

কারাবাজোল বলেন, ‘অন্যান্য কাছাকাছি প্রজাতির সাথে এটির মিল খুঁজে বের করতে যাওয়াটা খুবই কঠিন হবে কারণ আমরা সম্পূর্ণ অংশ এখনো উদ্ধার করতে পারি নি। কিন্তু এটির আকৃতি মোটামুটি একটি ইগ্রেটের সমান।’

মেসোজয়িক যুগের প্রাপ্ত যে ফসিল পাওয়া গিয়েছে তাদের সাথে অ্যালাকাউরেনের খুব একটা বৈশিষ্ট্যের মিল নেই। মেসোজয়িক যুগকে বলা হয় সরীসৃপের যুগ।

প্রথম সরীসৃপটি পাওয়া যায় জার্মানীতে যার নাম র‍্যাম্ফোরিনকাস। এটির জীবন শুরু হয়েছিল ট্রায়াসিক যুগ থেকে যা প্রায় জুরাসিক যুগের শেষ পর্যন্ত ছিল। এটি দেখতে প্রায় আজকের যুগের কুমিরের মত, কিন্তু পার্থক্য হচ্ছে এটির একটি লম্বা ঠোঁট রয়েছে। দ্বিতীয়টির নাম হচ্ছে আনহাঙ্গুয়েরা যা পাওয়া গিয়েছিল ব্রাজিলে।

কারাবাজোল বলেন যে প্রাপ্ত এই সরীসৃপটির মাঝে পাখির বৈশিষ্ট্য পুরোপুরিই আছে। তবে আজকের যুগের পাখিরা সমুদ্রে তাদের ঠোঁট দিয়েই মাছ শিকার করতে পারে। তখনকার যুগে আমাদের অ্যালকাউরেনেরও ঠিক এই বৈশিষ্ট্য ছিল।

 

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.