আমার শিল্প প্রতিষ্ঠানটিকে যদি আমার অর্থ উৎপাদনের কারখানা হিসেবে চিন্তা না করে, পৃথিবীর উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের একটা অংশ হিসেবে চিন্তা করি তাহলে এই পৃথিবীর ক্ষতির কথা আমাদের চিন্তায় আসবে। সৃষ্টি কর্তা প্রচুর অর্থ সম্পদ আপনাকে দেয়ার সাথে সাথে এই সম্পদের সঠিক সদব্যবহারের দায়িত্বও কিন্তু দিয়েছে, আর আপনি যদি সেই কাজটি সঠিক ভাবে করতে পারেন তবেই আপনি সুখী আর তা না হলে একটু চিন্তা করে দেখুন কোথায় আপনার সুখ? আপনার কোটি কোটি টাকা আছে অন্যদিকে আপনাকে প্রায়ই এলাকার মাস্তানদের চাঁদা দিতে হয়, আপনার ছেলেটি একা কোথাও যেতে পারে না, আপনার দ্বারে প্রতিদিনই ২০ জন ভিক্ষুক হাত পেতে ফিরে যায়, আপনার আত্নীয় অথবা প্রতিবেশী চিকিৎসার অভাবে প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে।

…………………………………………………………………………….

যদি চিন্তা করা হয় আমরা যা কিছু করছি আমাদের পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখার জন্য এবং সুন্দর আগামীর অনুকূল পৃথিবী গড়ার জন্য, তাহলে সমগ্র মানব জাতি একটি উদ্দেশ্যকে সফল করার জন্য এক অদৃশ্য সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ হবে। p6এই পৃথিবীতে আমাদের অবস্থান ক্ষণস্থায়ী কিন্তু এই পৃথিবীটা দীর্ঘস্থায়ী, তাছাড়া আমাদের পূর্বসূরীরা আমাদের জন্য এই পৃথিবীকে তাদের সাধ্য অনুযায়ী অনুকূল করে তৈরি করে দিয়ে গেছেন। আমাদেরও উচিৎ আগামীর জন্য একে প্রস্তুত করে রেখে যাওয়া।

ভবিষ্যতের অনুকূল একটা সুন্দর পৃথিবীর জন্য যে অনেক বেশি কিছু করতে হবে তাও কিন্তু নয়। আমরা যদি যাই করি না কেন সেটা করার আগে মানষিকভাবে চিন্তা করি, আমার এই কাজটি এই সুন্দর এই পৃথিবীর জন্য তাহলেই অনেক কিছু করা হয়ে যাবে।

গতানুগতিক ভাবে আমরা যা করে চলেছি

প্রকৃত পক্ষে আমরা এই পৃথিবীর শক্তি এবং সম্পদকে কাজে লাগিয়ে বেঁচে আছি, আমাদের চাহিদা, সুখ, স্বাচ্ছন্দ, বিনোদনের ব্যবস্থা করছি নানা রকম গবেষণা চালাচ্ছি কৌতুহল নিবারণের জন্য, নতুনকে পাবার জন্য। আর এসব করতে গিয়েই অনেক বেশি ক্ষতি করে ফেলছি। ফলাফল হিসেবে আমাদেরকে সম্মুখীন হতে হচ্ছে নানা রকম বিপর্যয়ের।

p8ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ,  খড়া, বৃষ্টি, বণ্যা ইত্যাদি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য আমরাই দায়ী, দায়ী আমাদের সৃষ্ট দূষণ। নতুন নতুন শিল্পের বিকাশের জন্য প্রতিনিয়ত আমরা গবেষণা করে যাচ্ছি, যে কিভাবে মুনাফা লাভের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করা যায়, অথচ সেই হারে দূষণ রোধের জন্য কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি না। পরিবেশ বিপর্যয় রোধে যে সকল আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, সেখানেও দেখা যায় শিল্পোন্নত ধনী দেশ গুলোর প্রাধাণ্য। শিল্পোন্নত ধনী দেশ গুলো দূষণের জন্য সর্বাধিক দায়ী হলেও তারা ক্ষমতার প্রভাবে নিজেদের স্বর্থ ঠিকই মিটিয়ে চলেছে এসব আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে। অনুন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো শোষিতই থেকে যাচ্ছে।

একটা সুন্দর পৃথিবীর জন্য আমাদের যা করা উতিৎ

সুন্দর সমৃদ্ধ আগামীর পৃথিবী গড়ার জন্য আমাদেরকে জ্ঞন বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে উন্নত প্রযুক্তির উদ্ভাবনের চেষ্টা অবশ্যই করতে হবে, পাশাপাশি প্রতিকূলতা পরিহার করার জন্য উন্নত প্রযুক্তির দ্বারা দূষণ এবং দূর্ঘটনা রোধেও পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। আমরা একটু সচেতন হলেই অনেক ধরণের ধূষণ রোধ করতে পারি। এজন্য আমাদের মানষিকতার পরিবর্তন হয়াটা অধিক জরুরী।

p4আমার শিল্প প্রতিষ্ঠানটিকে যদি আমার অর্থ উৎপাদনের কারখানা হিসেবে চিন্তা না করে, পৃথিবীর উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের একটা অংশ হিসেবে চিন্তা করি তাহলে এই পৃথিবীর ক্ষতির কথা আমাদের চিন্তায় আসবে। সৃষ্টি কর্তা প্রচুর অর্থ সম্পদ আপনাকে দেয়ার সাথে সাথে সাথে এই সম্পদের সঠিক সদব্যবহারের দায়িত্বও কিন্তু দিয়েছে, আর আপনি যদি সেই কাজটি সঠিক ভাবে করতে পারেন তবেই আপনি সুখী আর তা না হলে একটু চিন্তা করে দেখুন কোথায় আপনার সুখ? আপনার কোটি কোটি টাকা আছে অন্যদিকে আপনাকে প্রায়ই এলাকার মাস্তানদের চাঁদা দিতে হয়, আপনার ছেলেটি একা কোথাও যেতে পারে না, আপনার দ্বারে প্রতিদিনই ২০ জন ভিক্ষুক হাত পেতে ফিরে যায়, আপনার আত্নীয় অথবা প্রতিবেশী চিকিৎসার অভাবে প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে।

আসুন আমরা সবাই আমাদের কর্মকান্ড গুলিকে এই পৃথিবীর জন্য উৎস্বর্গ করি, আমাদের সাধ্য অনুযায়ী ব্যস্ত থাকি ভবিষ্যতের অনুকূল একটা সুন্দর পৃথিবীর জন্য।

comments

6 কমেন্টস

  1. ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর উপস্থাপনা করার জন্য:-)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.