লিখব লিখব করেও লিখা সম্ভব হচ্ছে না। এর মাঝে আবার একজন কে (নাহ কয়েক জন কে) দেখলাম যারা বিপ্র ‘র অনেক লেখকের লিখা নিজের বলে কিছু বাংলা ফোরামে লিখছে। সে সমস্ত পোস্ট গুলো তে কিছু বলতে গেলেই আপনার পোস্ট টিকে ডিলিট তো করছেই আবার ব্যান্ড করার হুমকি দেয়। ভাব খানা এমন যে তাদের ফোরাম কি এক মহা মহা পবিত্র স্থান। সেখানে ব্যান্ড হয়ে গেলে জাত কুল যেন সব চলে যাবে। যাই হোক এগুলো মনের কষ্টের কথা।

আজ আপনাদের সাথে, আমি একটি অসাধারন গ্রাফিক্স কার্ড নিয়ে কথা বলতে যাচ্ছি। অসাধারন আমি এ জন্য বলছি যে, আমার সাম্প্রতিক প্রকাশিত দুটি গেম প্রিভিউ এ (মর্ডান ওয়ার ফেয়ার ৩ এবং ব্যাটেল ফিল্ড ৩) থেকে আপনারা দেখে থাকবেন, স্বয়ং এনভিদিয়া বলে দিয়েছে (বিশেষ করে ব্যাটেল ফিল্ড ৩ এর জন্য) জিটিএক্স ৫৭০ ব্যবহার করার জন্য। অন্য দিকে এনএফএস রান এর জন্য বলা ছিল জিটিএক্স ৫৬০ র কথা। আমি খুবই চিন্তায় ছিলাম যে আমার গ্রাফিক্স কার্ড কি এমন লোড সামলাতে পারবে কি না?

গেম ইন্সটল করা হলো, এবং দেখা গেল, শুধু যে চলছে তাই না, বরং আমি গেম গুলোর আল্ট্রা সেটিংস দিয়েও সুন্দর মতন খেলতে পারছি (এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন তবে এনভিদিয়া এমন একটি কথা লিখল ?? কারন আছে, সেটি অন্য একটি পোস্ট এ লিখব, ইনশাল্লাহ।)।
এতক্ষন ধরে শুধু কথাই বলে যাচ্ছি, কিন্তু আমি আমার গ্রাফিক্স কার্ড টির মডেল এর কথা কিন্তু এখনো বলি নাই !!! এটি হচ্ছে, এক্স এফ এক্স এর, জি-ফোর্স জিটিএক্স ৪৬০ (XFX GeForce GTX 460)। আগেই দেখেছেন আমি কার্ড টিকে অসাধারন বলেছি।

টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন এর বাহিরেও, এই কার্ড টী কিন্তু NVIDIA ‘র সাথে XFX এর করা সর্ব শেষ কার্ড। এবং আমি যতক্ষন কার্ড টি কে না দেখছিলাম, ততক্ষন আমি নিজেও ঠিক বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, XFX , NVIDIA’র GTX460 টা করেছে। অন্য দিকে, আমি মনে হয় আমার কোন একটি পোস্ট এ লিখব (লিখব এ জন্য যে, পোস্ট টি এখন সম্পূর্ন হয় নি, সামনে আসছে…) আমার অনেক দিন একটি রেফারেন্স কার্ড ব্যবহার করার শখ। XFX GeForce GTX 460 কার্ড টি কিন্তু আমার সেই শখ টি কে পূরণ করেছে। কিভাবে? কার্ড টি আসলে সম্পূর্ন ভাবেই একটি রেফারেন্স কার্ড। শুধু মাত্র উপরে XFX এর দুটি স্টিকার না থাকলে, এটা রেফারেন্স মডেল।

সাধারনত আসুস, গিগাবাইট, এক্স এফ এক্স, ইভেগ, এরা জিপিইউ (GPU) টি কেনে NVIDIA অথবা REDION থেকে, পরে তারা তাদের নিজস্ব ডিজাইন করা পিসিবি (PCB- printed circuit Borad) এ তা বসিয়ে গ্রাফিক্স কার্ড বানায়। তবে যতদূর মনে হয়, XFX GeForce GTX 460 কার্ডটি, XFX এর (nvidia) সর্ব শেষ কার্ড হওয়ায়, তারা কোন ধরনের ঝামেলায় না গিয়ে, সরাসরি রেফারেন্স কার্ড এর উপরে XFX এর স্টিকার বসিয়েই বিক্রি করেছে (আমার শখ তো মিটল, তবে পরে জানতে পেরেছিলাম, অনেকেই রেফারেন্স পিসিবি কেই নিজেদের স্টিকার লাগিয়ে সেল করে…)।

আসুন এবার কার্ড টির টেকনিক্যাল স্পেক টি দেখে নেইঃ
গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট মডেলঃ জিএফ ১০৪ (GF104)
গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট স্পীডঃ ৬৭৫ মেগাহার্জ
কুডা (CUDA) কোরঃ ৩৩৬
Shader: ১৩৫০ মেগাহার্জ
ভিডিও মেমোরিঃ ১০২৪ মেগাবাইট, ডিডিআর ৫ (DDR5) – ২৫৬ বিট
পাওয়ারঃ ১৬৫ ওয়াট
এস এল আই (SLI)ঃ ১ টি

কার্ড টিকে আপনার কম্পিউটার এ লাগাবার জন্য আপনার থাকতে হবেঃ
১। PCI Express অথবা PCI Express 2.0 সমর্থিত মাদারবোর্ড।
২। দুটি ৬-পিন এর PCI Express Supplementary Power Connectors । না থাকলেও কোন সমস্যা নেই, কেননা কার্ড টির সাথেই, আপনাকে দুটি ৪-পিন টু ৬-পিন PCI Express Supplementary Power Connectors দিয়ে দিবে।
৩। কমপক্ষে ৪৫০ ওয়াট এর পাওয়ার সাপ্লাই, যাতে ৩৮ এম্পেয়ার এর ১২ ভোল্ট সাপ্লাই থাকে।
৪। অপারেটিং সিস্টেম, উইন্ডোজ সেভেন, ভিস্তা অথবা এক্সপি।

লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে আপনার পাওয়ার সাপ্লাই, ৪৫০ ওয়াট এর তখনি দরকার হবে যখন আপনার কম্পিউটার এর প্রসেসর টি হবে, ইন্টেল এর কোর আই সেভেন (প্রথম প্রজন্ম) ৩.২ গিগাহার্জের।

আউটপুটঃ
XFX GeForce GTX 460 কার্ড টির আউটপুট গুলো হচ্ছে,
১। ২টি DVI-I কানেক্টর।
২। ১টি 1.3a Mini- HDMI কানেক্টর।

সামান্য সমস্যা হয়ে যাচ্ছে, যাদের মনিটর গুলোতে DVI পোর্ট নেই তাদের জন্য। যদিও গ্রাফিক্স কার্ড এর বক্স এ লিখা আছে, একটি DVI থেকে VGA এডাপ্টার দেয়া আছে, কিন্তু আমি আমার গ্রাফিক্স কার্ড এর বক্স এর সাথে তা পাইনি, সুতরাং কি আর করা, ৫৫০ টাকা দিয়ে (বাজারে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা করে পাওয়া যায়) একজনের কাছ থেকে অরিজিনাল XFX এর এই এডাপ্টার টি কে কিনে নিতে হয়েছে।

ফিচারঃ
আসুন এবার দেখে নেয়া যাক, কার্ড টির ফিচার গুলো;
১। এনভিদিয়া ইউনিফাইড আর্কিটেকচার।
২। ডিরেক্ট কম্পিউট ৫.০ সাপোর্ট।
৩। OpenCL সাপোর্ট।
৪। এনভিদিয়া PhysX টেকনোলজি।
৫। এনভিদিয়া CUDA টেকনোলজি।
৬। এনভিদিয়া 3D Vision সারাউন্ড রেডি।
৭। এনভিদিয়া PureVideo HD টেকনোলজি।
৮। OpenGL 3.2 সাপোর্ট।
৯। উইন্ডোজ সেভেন এবং ডিরেক্ট এক্স ১১ সমর্থিত।

একটা কথা না বললেই নয়। কার্ড টির একটি বিশেষ ফিচার লক্ষণীয়, (যদিও প্রায় সকল কার্ডেই এই ফিচার টি আছে) আপনার কম্পিউটার যখন কোন গ্রাফিক্স বেসড কাজ করছে না। অর্থাৎ কোন গেম বা হাই কনফিগারেশন গ্রাফিক্স এর প্রয়োজন হয় এমন কাজ করছে না, তখন কিন্তু কার্ড টি তার ক্ষমতা কে অনেক অনেক কমিয়ে দেয়, এতে করে পাওয়ার সাপ্লাই থেকে পাওয়ার কঞ্জাম্পশন অনেক কম হয়।

নিজেই দেখুন;

GPU Core Clock [50.6 MHz]
GPU Memory Clock [67.5 MHz]
GPU Shader Clock [101.0MHz]
GPU Temperature [32.0 °C]
Fan Speed [40 %]
Fan Speed [1680RPM]
Memory Used [67 MB]
GPU Load [2%]
Memory Controller Load [4%]
Video Engine Load [0 %]
VDDC [0.8750 V]

আর যখন আমি মর্ডান ওয়ার ফেয়ার ৩ খেলছি, তখন;

GPU Core Clock [675.0 MHz]
GPU Memory Clock [900.0 MHz]
GPU Shader Clock [1350.0 MHz]
GPU Temperature [38.0 °C]
Fan Speed [40 %]
Fan Speed [1710 RPM]
Memory Used [365 MB]
GPU Load [68 %]
Memory Controller Load [14%]
Video Engine Load [0 %]
VDDC [0.9870 V]

আমার কাছে কার্ড টিকে ভালো লাগার আরো একটি কারন আছে। আর সেটি হচ্ছে, এই কার্ড টি একেবারেই ডিফল্ট অবস্থাতে আছে, অর্থাৎ, কার্ড টিকে কোন ধরনের ওভার ক্লকিং করা হয়নি। আপনার যখন যেভাবে খুশি, নিজের মতন করে ওভার ক্লকিং করে নিতে পারবেন। আমি কার্ড টি কে ওভার ক্লকিং করে নিয়েছিলাম, অসাধারন। দেখুন;

আশা করি XFX Geforce GTX 460 কার্ড এর রিভিউ টি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে। রিভিউ টি পড়ে যারা ভাবছেন, কিনে ফেলবেন কার্ড টি, তাদের জন্য একটু দুঃসংবাদ আছে, কার্ড টি এই মুহূর্তে বাজারে নেই। আর আগেই বলেছি, এটা ছিলো XFX এর, NVIDIA চিপ সেট এর সর্ব শেষ , তাই এটা আরো দুষ্প্রাপ্য…

বলতে ভুলেই গিয়েছিলাম, XFX GeForce GTX 460 সম্পর্কিত কোন তথ্য আপনি XFX এর ওয়েবসাইট এ পাবেন না !!!

কার্ডটির বাজার দরঃ ১৫,৭০০ (রায়ান্স কম্পিউটার) / ১৬,৩০০ (ইউ সি সি) (আমার কেনা হয়েছিল, ৩রা মার্চ ২০১১)
ওয়ারেন্টিঃ ২ বছর।

সবাই ভালো থাকবেন …

comments

6 কমেন্টস

  1. রিয়াজুল ভাই এইডা কি ঠিক হইলো ? 🙁 এই গ্রাফিক্স কার্ড এর এত্ত কথা বইলা শেষে বোম ফাটাইলেন যে এইটা বাজারে নাই 😯 এখন আমরা কি করমু বলেন তো। আবার দাম দেখলেই তো গেমস্‌ খেলার কথা উইড়া যায় 😛

    • আরে ভাই, একেবারেই যে নাই তা কিন্তু না। খুঁজলে এখনো একটা দুইটা পাবেন আশা করি … দাম টা বেশি আমার কাছেও মনে হত… কিন্তু এই কার্ড টি দিয়ে ব্যাটেল ফিল্ড ৩ খেলার পরে মনে হয়েছে… GTX570 তো আর কিনতে হচ্ছে না … 😀

  2. আমার একটা সিস্টেম আছে। মাত্র কিনলাম।

    Processor- AMD Phenom2 X4 965 Black Edition
    MainBord- msi 890GXM G-65
    Ram- 4GB DDR3 1333
    Graphics Card- XFX AMD Radeon 6670 1 GB DDR3
    Power Supply- Thermaltake Genuine 500w TR2
    Casing- Thermaltake Dokker
    Monitor- ViewSonis 19 inch with DVI

    অনুগ্রহ করে আপনি কি জানাবেন, গেমিং এর জন্য আপনি একে ১০ এর মাঝে কত দিবেন?

  3. ইমেইলে নিউজলেটার পাওয়া মাত্র চলে এলাম। যাক! আপনার শখ মিটলো জেনে খুশি লাগছে 😆 শেডার ক্লক তো এমনিতেই বেশী, তার উপর ওভারক্লক করেছেন। গরম কেমন হচ্ছে? 😀

    ভালো থাকুন, আর নিয়মিত এমন পোস্ট দিতে থাকুন 😛

    • আপনাকে অনেক ধন্যবাদ শাওন ভাই। আমি সাধারনত OC করি না। শুরু মাত্র পোস্ট টি লিখার জন্য OC করেছিলাম। গরমের কথা যদি বলেন তো, এই পরিমাণ OC করাতে GPU এর তাপমাত্রা প্রায় ৪৫+ হয়ে যায় (যদি ৪০% ফ্যান স্পীড রাখেন) …

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.