অধ্যাপক ড. স্টিফেন হকিংস

সকলের জন্য উন্মুক্ত হলো বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসের পিএইচডি থিসিস। গত ২৩ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর‌্যন্ত হয়ে যাওয়া ইন্টারন্যাশনাল ওপেন একসেস সপ্তাহ ২০১৭ উপলক্ষ্যে হকিংসের এ থিসিস উন্মুক্ত করা হয়। চলতি বছর এ সপ্তাহের স্লোগান ছিল ‘ওপেন ইন অর্ডার টু..’। বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী ও গণিতজ্ঞ স্টিফেন উইলিয়াম হকিংসের পিএইচডি থিসিস ‘প্রপার্টি অব এক্সান্ডিং ইউনিভার্স’। ১৯৬৬ সালে সম্পন্ন করা স্টিফেন হকিংসের এ থিসিসটি এতদিন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি অব স্কলারলিতে ছিল। ওপেন একসেস সপ্তাহ উপলক্ষ্যে এ থিসিসটি উন্মুক্ত হওয়ায় এখন যে কেউ এ থিসিস একসেস ডাউনলোড করতে এবং পড়তে পারবেন। ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরি অফিস অব স্কলারলি কমিউনিকেশন এক বার্তায় জানায়, ‘আমরা অধ্যাপক স্টিফেন হকিংসের অনুমতি নিয়েই তার পিএইচডি থিসিস সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দিলাম। এখন থেকে এ থিসিসটি ইউনিভার্সিটি অব ক্যাম্ব্রিজের ওপেন একসেস সংগ্রহশালা ‘অ্যাপোলো’তে পাওয়া যাবে।’

স্টিফেন হকিংস

বিষয়টি নিয়ে স্টিফেন হকিংস বলেন, ‘আমার পিএইচডি থিসিস ওপেন একসেসের মাধ্যমে উন্মুক্ত হওয়ার ফলে আশা করছি সারাবিশ্বের অনেকেই এ থিসিস পড়তে ও এ বিষয়টি আরো ভালো ভাবে জানতে পারবে। পৃথিবীর যে কেউ শুধুমাত্র আমার থিসিসটি পড়তেই পারবে তা নয় বরং নিজেদের নানা গবেষণায়ও কাজে লাগাতে পারবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি গর্ববোধ করি একজন তরুন পিএইচডি গবেষক হিসেবে ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটিতে কাজ করতে পেরেছি যেখানে কাজ করেছেন স্যার আইজ্যাক নিউটন, জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল এবং আলবার্ট আইনস্টাইনের মতো বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা।’

ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরি অফিস অব স্কলারলি কমিউনিকেশনের উপ প্রধান ড. আর্থার স্মিথ বলেন, ‘পিএইচডি থিসিস গবেষণা ও জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে দারুন সহায়ক হতে পারে। সে চিন্তা থেকেই ওপেন একসেস ভিত্তিক গবেষণায় উৎসাহি হয়ে আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। এর মাধ্যমে বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি ও মেডিসিন বিষয়গুলোতে হওয়া দারুন সব থিসিস গবেষণা সকলের জন্য উন্মুক্ত হবে যাতে আরো অনেকে এসব বিষয়ে আরো উন্নত গবেষণা করতে পারেন।’

তিনি উল্লেখ করেন, চলতি মাস থেকেই ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির সকল পিএইচডি গবেষকদের নিজেদের থিসিসের ডিজিটাল কপি জমা নেওয়া হবে এবং যেসব গবেষক ওপেন একসেসে নিজেদের থিসিস উন্মুক্ত করতে রাজি হবেন তাদের থিসিস অধ্যাপক হকিংসের থিসিসের মতো করেই সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। আমরা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই বিশেষ করে এখন পর‌্যন্ত নোবেল পাওয়া ৯৮জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে একই অনুরোধ জানাবো।

ওপেন একসেস

অ্যাপোলোর লাইব্রেরি সার্ভিসের পরিচালক ড. জ্যাসিকা গার্ডনার বলেন, ৬০০ বছর পুরোনো ইতিহাস সমৃদ্ধ ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরি। এখানে এখন পর‌্যন্ত ২০ হাজার ডিজিটাল তথ্য, ১৫ হাজার গবেষনা নিবন্ধ, ১০ হাজার মূল্যবান গবেষণা সংক্রান্ত ছবি, দুই হাজার ৪০০ থিসিস রয়েছে। শুধু তাই নয়, এ লাইব্রেরিতে আছে আইজ্যাক নিউটন ও চার্লস ডারউইনের মতো বিজ্ঞানীদের মূল গবেষণার কপি যা আমরা ডিজিটালি করার কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি অধ্যাপক হকিংসের মতো এক সময়ে এ গবেষণাপত্রগুলোও ওপেন একসেস সকলের জন্য উন্মুক্ত করা যাবে।

শারীররিক ভাবে ভীষণরকম অচল এবং এক প্রকার মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত স্টিফেন হকিংস গত ২০০৯ সালে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির সারাবিশ্বের অন্যতম সম্মানজনক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিত্তিক ‘লুকাসিয়ান প্রফেসর অব ম্যাথমেটিক্স’ থেকে অবসর নেন। এ পদে এর আগে স্যার আইজ্যাক নিউটনও দায়িত্ব পালন করেন। উন্মুক্ত হওয়া স্টিফেন হকিংসের পিএইচডি থিসিস পাওয়া যাবে প্রপার্টি অব এক্সান্ডিং ইউনিভার্স  অথবা প্রপার্টি অব এক্সান্ডিং ইউনিভার্স ঠিকানায়।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.