গেইম রিভিউঃ দ্য ডার্কনেস টু
সাধারণত ইভেন্ট, টিউটোরিয়াল বা সংবাদভিত্তিক পোস্ট দিয়ে থাকলেও এবার একটু ভিন্নবিষয় শেয়ার করতে চায় সবার সাথে। এটি সম্প্রতি বাজারে আসা একটি গেমকে নিয়ে। যদিও আমি গেম ভক্ত না, তবুও গেম ভক্তদের জন্য লিখতে বসলাম। সমকালে ও আমার নিজস্ব ব্লগে গেম রিভিউ প্রকাশ করলেও বিপ্রতে এটাই গেম সম্পর্কিত প্রথম পোস্ট। চলুন জেনে নিউ নতুন এ গেমটি সম্পর্কে…
অনেকেই জানি, ফাস্ট পারসন শ্যুটার গেম পছন্দকারীদের কাছে আজো আলোড়িত একটি গেম হিসেবে ‘দ্য ডার্কনেস’। ২০০৭ সালে বাজারে এসে অতিদ্রুত মাত করা এই গেমটির নতুন দ্বিতীয় সিরিজ নিয়ে এসেছে জনপ্রিয় গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল এক্সট্রিম। ২কে গেমসের প্রকাশনায় গেমটি গত ৭ ফ্রেবুয়ারি উত্তর আমেরিকা ও ১০ ফেব্রুয়ারি ইউরোপের বাজারে ছাড়া হয়। যথারীতি জনপ্রিয় লেখক পল জেনকিনের দ্য ডার্কনেস কৌতুকের কাহিনী নিয়ে গেমটি তৈরি হয়েছে। উইন্ডোজ, প্লেস্টেশন থ্রি ও এক্সবক্স ৩৬০ প্লাটফর্মে তৈরি এ গেমটি বাজারে আসার সাথে সাথেই গেমারদের মন জয় করে নিয়েছে। ফার্স্টপারসন শ্যুটার গেম হলেও এতে বাড়তি হিসেবে মানষিক ভীতিদায়ক বিষয়গুলো যুক্ত করা হয়েছে। এক বা একাধিক গেমার একসাথে এটি খেলতে পারবেন।
গেমের কাহিনী: দ্য ডার্কনেস গেমের কাহিনীর প্রায় ২ বছর পরের পেক্ষাপটের কাহিনী নিয়ে দ্য ডার্কনেস টু গেমটি শুরু হয়েছে। এখানে গেমের নায়ক বা গেমার হিসেবে যথারীতিই রয়েছে জ্যাকি এস্টাকেডো। গেমের শুরুতে জ্যাকিকে একটি অন্ধকার কক্ষে একাকি চেয়ারে বসে তার অতীত জীবন ও অন্ধকার জগত সম্পর্কে বলতে দেখা যাবে। এখান থেকে গেমার আগের গেমটিতে কি হয়েছে সেটি বুঝতে পারবে এবং এগিয়ে যেতে পারবে। সে তার প্রয়াত প্রেমিকার ছবির ফুলন্ত ফ্রেম দেখাবে। এখান থেকে কাহিনী আগে ফিরে যাবে। যেখানে জ্যাকিকে একটি কার থেকে বের হয়ে রাজকীয় একটি রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করতে দেখা যাবে। এখানে ওয়েটারের অনুরোধে জ্যাকি স্বর্ণকেশী যুগলের সাথে বসে গল্প শুরু করবে। একমুহুর্তে জানালা দিয়ে কে বা কারা ঐ স্বর্ণকেশী যুগলকে গুলি করে হত্যা করবে। এ ঘটনায় জ্যাকিও পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হবে। এখানে ওয়েটার জ্যাকিকে একটি বন্দুক দিবে শত্রুদের প্রতিহত করার জন্য, এই সময়ে ঐ ওয়েটার নিরাপত্তার জন্য জ্যাকিকে রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরে নিয়ে যাবে। শত্রুরা সেখানেও হামলা চালাবে, তবে সেখান থেকে জ্যাকি কোনোরুপে বেঁচে যাবে। এখানে ভিক্টর নামে একজন তার পোষা সন্ত্রাসীকে জ্যাকিকে মেরে ফেলার আদেশ দিয়ে হারিয়ে যাবে। কিন্তু অন্ধকারে ঐ সন্ত্রাসী জ্যাকিকে খুঁজে পাবে না। এখান থেকেই মূলত অন্ধকারের প্রতি জ্যাকির টান বাড়বে। অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে অবশেষে সে রেস্টুরেন্টের বাইরে চলে আসবে। রাস্তায় চলার পথে আবারো তাকে যুদ্ধ করতে হবে জেনি পাওয়েলকে রক্ষার জন্য। গেমের পরবর্তী কাহিনী হিসেবে যা রয়েছে সেটি হলো সে দ্য ফ্রান্সেটি ক্রাইম ফ্যামিলির ডন হতে চেষ্টা করবে। সে কোনোমতেই তার পুরাতন প্রেমিকা জেনি রোমানোর মৃত্যুর কথা ভুলতে পারে না। তাই প্রতিশোধের আশায় সে নিজের অলৌকিক শক্তির সহয়তায় এগিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে অন্ধকার জগতের উপর তার বিশেষ পড়াশোনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে গুপ্তচর জেনি পাওয়েল। শত্রুদের পরাস্থ করার কাহিনী নিয়েই এগিয়ে চলবে গেমের কাহিনী।
গেমে জ্যাকিকে কয়েকবার পুনজন্ম হতে দেখা যাবে এবং প্রতিবারই সে মৃত প্রেমিকাকে খোঁজার চেষ্টা করবে। তবে এখানে নকল প্রেমিকা হিসেবে আরেকজন হাজির হবে যে জ্যাকিকে পরাস্থ করার চেষ্টা করবে। অবশেষে জ্যাকি নিশ্চিত হবে তার প্রেমিকা সত্যই মারা গেছে এবং গেমের শেষে তাকে কাঁদতে দেখা যাবে।
নূন্যতম যা লাগবে: উইন্ডোজ এক্সপি, ইন্টেল কোর টু ডুয়ো ২ গিগাহার্জ প্রসেসর, ২ গিগাবাইট র্যাম, ২৫৬ মেগাবাইট সমৃদ্ধ এনভিদিয়া জিফোর্স ৮৬০০ জিটি বা এটিআই রেডিয়ন এইচডি ২৬০০ মডেলের গ্রাফিক্স কার্ড, ডিরেক্টএক্স সমর্থিত সাউন্ড কাড ও ১০ গিগাবাইট হার্ডডিক্স স্পেস।
তো দেরি না করে বসে যান ডাউনলোড করতে। ও গেমটি খেলে মতামত জানাতে ভুলবেন না… [বি.দ্র: কপিরাইট সম্পর্কিত বিষয় থাকায় ডাউনলোড লিংক দিলাম না]

লেখাটি পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন ☼
লেখাটি পছন্দ হলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। শেয়ার করার জন্য উপরের বাটনে ক্লিক করুন
পরবর্তী আপডেট পেতে চাইলে আর.এস.এস ফীড অথবা ই-মেইল এর মাধ্যমে সাবস্ক্রাইব করুন
বিজ্ঞান প্রযুক্তি ডট কম এর ফেইসবুক পেইজ বা গ্রুপ অথবা টুইটার প্রোফাইলে যোগ দিন







nice game.ami khelbo