হ্যাকিংয়ের আগে ও পরে করনীয়ঃ দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব

লেখাটি আপনার পছন্দ হয়েছে?

চলছে বাংলাদেশ ভারত সাইবার যুদ্ধ। সীমান্তে নির্যাতন ও হত্যাকান্ড বন্ধ, টিপাইমুখ বাধ বন্ধসহ বেশ কযেকটি মানবিক অধিকারের দাবিতে বাংলাদেশি সাইবার যোদ্ধারা এ যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। তারা ২০ হাজারের অধিক ভারতীয় ওয়েবসাইট হ্যাক ও সার্ভার ডাউন করেছে বলে জানা গেছে। বিপরীতে ভারতীয় কিছু হ্যাকারগ্রুপও চার শতাধিক বাংলাদেশি সাইট হ্যাক করেছে। তাই সময় এসেছে নিজের ওয়েবসাইট, ইমেইল, সামাজিক যোগাযোগ সাইট বা ইন্টারনেটে ব্যবহৃত ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ডের  নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। হ্যাকিং নিয়ে গত ১৮ জানুয়ারি বিপ্রতে হ্যাকিংয়ের ধারাবাহিকতা নতুন বছরেও…. বোধদয় হবে কবে? শিরোনামে একটি লেখা প্রকাশিত হয়। সর্বশেষ গত ৩১ জানুয়ারি হ্যাকিংয়ের আগে ও পরে করনীয়ঃ প্রথম পর্ব শিরোনামে আরেকটি লেখা পোস্ট করি। পুরো লেখাটি অনেক বড় হওয়ায় পাঠকদের সুবিধার্তে এটি দুটি পর্বে ভাগ করি। আজ দ্বিতীয় শেষ পর্বে জানাবো হ্যাকিংয়ের শিকার হলে কি করনীয়….

হ্যাকিংয়ের পরে:

হ্যাকিং হবার পর প্রায় সকলেই করনীয় বিষয় নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। মনে রাখতে হবে হ্যাকিং মানেই শেষ হয়ে যাওয়া নয়। এরপরেও করনীয় অনেক কিছুই আছে। ফিরে আসার অনেক পথই খোলা আছে। আসুন জেনে নিই হ্যাকিংয়ের শিকার হবার পর কিভাবে আবারো নতুনভাবে যাত্রা শুরু করা যায়।

পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা: হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছেন জানার পরপরই করনীয় হলো যতো দ্রুত সম্ভব পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফেলা। এক্ষেত্রে অবশ্যই আগের পাসওয়ার্ড থেকে সম্পূর্ন ব্যতিক্রম কোনো শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।

সম্প্রতি ব্যবহার করা অ্যাপস, প্লাগ-ইন নিষ্ক্রিয় করা: হ্যাকিংয়ের আগে কোন অ্যাপস, প্লাগ-ইন অথবা এক্সটেনশন ব্যবহার করেছেন সেটি নিষ্ক্রিয় বা আনইনস্টল করা উচিত। কারণ এগুলো থেকেই হ্যাকারা আপনার ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড পেয়ে থাকতে পারে। তাই যতো দ্রুত সম্ভব এগুলো ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত।

বন্ধুদেরকে অবহিত করা: হ্যাকিংয়ের শিকার হলে বিশেষ করে মেইল এবং সামাজিক যোগাযোগ সাইটের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে সেটা সম্পর্কে অতি দ্রুত বন্ধুদেরকে ও আপনার কন্ট্যাক্ট লিস্টে অবহিত করা উচিত। এতে তারা আপনার মতো যাতে স্ক্যামের শিকার না হয় সেবিষয়ে সতর্ক হতে পারবে।

সাইটটি অফলাইনে নেয়া: আপনার নিজস্ব ব্লগ বা সাইট যদি হ্যাকিংয়ের শিকার হয় তাহলে যতো দ্রুত সম্ভব সাইটটি অফলাইনে নেয়া উচিত। এতে সাইটটির রিডার বা ভিজিটর, ক্লায়েন্ট অথবা কাস্টমাররা হ্যাকিং হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে। হ্যাকিং অবস্থায় সাইটটি চালু থাকলে এতে যারা ভিজিট করতে আসবে তাদের বিভিন্ন তথ্য হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ পেতে পারে হ্যাকাররা। এছাড়া কারিগরি ত্রুটি সেরে সাইটটি চালু হলে পুনরায় ভিজিটর পাওয়া সম্ভব। তবে আপনার সাইটের মাধ্যমে কোনো ভিজিটর হ্যাকিংয়ের শিকার হলো সে আর কখনো ফিরে আসবে না। এই খারাপ ভাবমূর্তি কাটতে নাও পারে অথবা অনেক সময় লাগতে পারে। তাই হ্যাকিং হলে যতো দ্রুত সম্ভব সাইটটি অফলাইনে নেয়া উচিত।

ওয়েব হোস্টিং কোম্পানিকে জানানো: বেশিরভাগ ওয়েব হোস্টিং কোম্পানিকে অবহিত করলে তারা নিজেদের থেকে সাইটটি পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। প্রায় প্রতিটি ওয়েব হোস্টিং সেবাদাতাদের কাছে তাদের গ্রাহকদের সাইটের ব্যাকআপ থাকে। এছাড়া কিছু কিছু কোম্পানি সাইট মালিককে এই কাজটি করার এখতিয়ার দিয়ে দেন। তাই যাই হোক না কেনো আপনার সাইটটি ফিরিয়ে আনতে অবশ্যই হ্যাকিংয়ের বিষয়ে হোস্টিং কোম্পানিকে অবহিত করতে হবে। একইসাথে করনীয় বিষয়গুলো জেনে নিতে হবে।

গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ: আপনার সাইটটি যদি ই-কমার্স বা বিজনেস সাইট হয় তাহলে ক্ষতি কমাতে প্রথম ও প্রধান কাজ হলো অতি দ্রুত ও সৎভাবে গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ করা। তাদের সাথে খোলাখুলিভাবে বলা আসলে কি হয়েছে। এতে কি পরিমান ক্ষতি হতে পারে এবং এ থেকে তাদের কি ব্যবস্থা নেয়া উচিত হবে সেটি সম্পর্কে জানানো ভালো। এরফলে তারা আপনার ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত ইউজার নেম, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন ছাড়া অন্যসক তথ্যের বিষয়ে সচেতন হবে। একইসাথে আপনি জানিয়ে দেবেন সাইটটি সমস্যা সমাধানে আপনারা কতোটা আন্তরিক।

পরবর্তী হ্যাকিং হওয়া প্রতিরোধ করা: হ্যাকিংয়ের শিকার হলে ভোগান্তির শেষ থাকে না। আপনি কি কারণে হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছেন সেটি জেনে বিষয়টি নিয়ে সিরিয়াস হন। এরমধ্যে থাকতে পারে দৃর্বল পাসওয়ার্ড, দুর্বল সাইট স্ক্রিপ্ট অথবা পুরাতন সফটওয়্যার ব্যবহার। সমাধানের পথটি খুজুন এবং দুর্বল বিষয়টিতে নিরাপত্তার পরিমান কয়েকগুন বাড়িয়ে দিন। সতর্ক হন আর যেনো হ্যাকিং নামক যন্ত্রনা, ভোগান্তি, ক্ষতির শিকার না হতে হয়!

বি.দ্র: আমি হ্যাকিং বিশেষজ্ঞ নই, আবার বিজ্ঞও নই। তাই লেখাটি তৈরিতে কপিপ্রেস ডটকম সাইটে প্রকাশিত একটি ইংরেজি নিবন্ধের সহায়তা নিয়েছি। সামান্য বর্ধিত করে এখানে বাংলায় প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি। ভুল থাকলে অবশ্যই শোধরানোর সুযোগ দিবেন।

এরকম আরও কিছু পোস্টঃ

FavoriteLoadingলেখাটি পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন ☼

শেয়ার করুন

লেখাটি পছন্দ হলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। শেয়ার করার জন্য উপরের বাটনে ক্লিক করুন

পরবর্তী আপডেট পেতে চাইলে আর.এস.এস ফীড অথবা ই-মেইল এর মাধ্যমে সাবস্ক্রাইব করুন

বিজ্ঞান প্রযুক্তি ডট কম এর ফেইসবুক পেইজ বা গ্রুপ অথবা টুইটার প্রোফাইলে যোগ দিন

নতুন লেখা সরাসরি ই-মেইলের মাধ্যমে পেতে নিচের বক্সে আপনার ই-মেইল ঠিকানা লিখুন

লেখকঃ বদরুদ্দোজা মাহমুদ তুহিন সম্পর্কে কিছু কথা...
লেখক তথ্যপ্রযুক্তি প্রিয় সাংবাদিক! নিক নেম তুহিন মাহমুদ। আছেন দৈনিক সমকালে ফিচার রিপোর্টার হিসেবে। এছাড়াও বিভিন্ন অনলাইন সংবাদপত্রে লেখালেখি করেন। ব্লগিংয়ে যাত্রা খুব অল্প কয়েকদিনের। তার সম্পর্কে জানতে ক্লিক করতে পারেন ফেসবুক অথবা ভিজিট করতে পারেন তার পার্সোনাল ব্লগে

মতামত সমূহ

8 টি মতামত “হ্যাকিংয়ের আগে ও পরে করনীয়ঃ দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব”
  1. সেইরকম লিখছেন! পুরাই উরাধুরা; আপনার এইরকম লেখা সবসময় পিডিএফ করে রাখি :mrgreen:
    ধন্যবাদ :smile: 8)

  2. দাদু says:

    দারুন কাজের পোস্ট,অসংখ্য ধন্যবাদ।

  3. hedaet says:

    http://www.hedaet.com- মন, মাটি ও মানুষের কল্যাণে আমাদের অগ্রযাত্রা

  4. সুমন says:

    আমি ফেইসবুক ওপেন করতে গেল বক্সটি আসে। মোবাইলে কোন মেসেজও আসছে না।

    http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/asksumon0000_1335810459_1-Die.jpg

    এর সমাধান কি হবে কেহ বলবেন কি ? খুব উপকার হবে। প্লিজ …

আপনার মতামত দিন

দয়া করে বাংলায় মতামত দিন। ইংরেজীতে দেয়া মতামত মুছে ফেলা হতে পারে

মতামত এর সাথে আপনার ছবি যোগ করতে চাইলে এখানে যান gravatar!