জমজমাট ডিজিটাল আইসিটি মেলা
একদিকে বিকেলের শীতের তীব্রতা। অন্যদিকে মঙ্গলবার সাধারণত রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকে। কিন্তু গত মঙ্গলবার মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের চিত্র ছিল ভিন্ন রকম। প্রতিদিনই এরকম চিত্র ঘটছে সেখানে। কারণ দেশের অন্যতম কম্পিউটার ও প্রযুক্তিপণ্যের এ বাজারে চলছে ‘ডিজিটাল আইসিটি ফেয়ার ২০১২’। প্রযুক্তির মাধ্যমে সবুজ পৃথিবীর স্বপ্নে ‘গো গ্রিন উইথ আইসিটি’ স্লোগানে গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া মেলা চলবে আগামী সোমবার পর্যন্ত পড়ন্ত।

প্রযুক্তিপণ্যের প্রসার ও সবুজ পরিবেশবিশিষ্ট ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে গত চার বছর ধরে ডিজিটাল আইসিটি মেলা করে আসছে মাল্টিপ্ল্যান সেন্টার দোকান মালিক সমিতি। এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে মার্কেটের ৪৬০ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। মার্কেটের তৃতীয় থেকে দশম তলা পর্যন্ত ৯৬ হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে আয়োজিত এ মেলায় বিশ্বের স্বনামধন্য বিভিন্ন আইসিটি ব্র্যান্ড পৃষ্ঠপোষকতা করছে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলছে।
প্রযুক্তি পণ্যের সম্ভার : প্রযুক্তি পণ্যের সম্ভার : মেলায় শোভা পাচ্ছে বিশ্বসেরা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটার, ট্যাবলেট পিসি, ডিজিটাল ক্যামেরা, এলসিডি ও এলইডি মনিটর, টিভিকার্ড, পেনড্রাইভ, মেমোরি কার্ড, ইন্টারনেট মডেমসহ নানা প্রযুক্তিপণ্য। সরকারি প্রতিষ্ঠান টেশিস উদ্ভাবিত দোয়েল ল্যাপটপের সবক’টি মডেল পাওয়া যাচ্ছে মেলায়। তবে অগ্রিম বুকিংয়ের ভিত্তিতে এগুলো বিক্রয় করা হচ্ছে। বুকিংয়ের পরদিন এগুলো ক্রেতার কাছে সরবরাহ করছে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান। মেলা উপলক্ষে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নতুন কয়েকটি পণ্য এসেছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাসার নিয়ে এসেছে অ্যাসপায়ার সিরিজের পাঁচটি নতুন মডেলের ল্যাপটপ। কোর আই থ্রি থেকে কোর আই সেভেন প্রসেসর সমৃদ্ধ এসব ল্যাপটপের দাম ৪৮ থেকে ৮৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। রয়েছে প্রায় ৯০ হাজার টাকা দামের অ্যাসার আইকোনিয়া ডুয়ো। হিউলেট প্যাকার্ড [এইচপি] ব্র্যান্ডের নতুন অল ইন ওয়ান পিসি মডেলের ডেস্কটপ কম্পিউটার এনেছে ডেস্কটপ আইটি লিমিটেড। কম্পিউটারটির মনিটরের সঙ্গেই রয়েছে সিপিইউ, ওয়েবক্যামসহ প্রয়োজনীয় সব সুবিধা। আসুস পণ্যের পরিবেশক গ্লোবাল ব্র্যান্ড মেলায় এনেছে টাচনির্ভর কয়েকটি নতুন মডেলের ই-টপ পিসি। অনেকটা ট্যাবলেট পিসির আদলে তৈরি এ ই-টপগুলো কিবোর্ড ছাড়াই পর্দায় টাচ করে কাজ করা যায়। ভিন্ন মডেলের ই-টপ পিসিগুলোর দাম প্রায় ৩২ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া ২০ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ই-সিরিজের ইন্টেল অ্যাটম প্রসেসর সমৃদ্ধ ইবি-১০০৭ মডেলের বক্স পিসি। এশিয়া কম্পিউটার বাজার নিয়ে এসেছে আসুস ও ডেল ব্র্যান্ডের নতুন দুটি মডেলের ল্যাপটপ। কোর আই থ্রির এ ল্যাপটপগুলোর দাম যথাক্রমে ৪২ হাজার ৫০০ ও ৪৩ হাজার টাকা। স্টারটেক অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এনেছে সনি ব্র্যান্ডের কয়েকটি মডেলের ডিজিটাল ক্যামেরা। এ ছাড়া এসেছে কোর আই ফাইভ ও কোর আই সেভেনের ল্যাপটপ।
ছাড় ও পুরস্কার : মেলায় সর্বনিম্ন ৯ হাজার টাকায় কম্পিউটার বিক্রি করছে সুহৃদ কম্পিউটার লিমিটেড। জুম আলট্রার বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে মেলার প্লাটিনাম স্পন্সর সিটিসেল। ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটার কিনে ৫০০ টাকা রিচার্জ করলেই পাওয়া যাবে প্রি-পেইড সংযোগসহ জুম আলট্রা মডেম। এ প্যাকেজে আরও থাকছে বিনামূল্যে ১ মাসের সাবস্ক্রিপশন, ১.৫ গুণ পর্যন্ত স্পিড ও ১ জিবি অতিরিক্ত ব্যবহার সুবিধা। অ্যাসারের বিপণন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক মিলন জানান, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিটি ল্যাপটপের সঙ্গে একটি মডেম ছাড়াও নির্দিষ্ট পরিমাণ ছাড় দিচ্ছে। একইভাবে ধারা কম্পিউটার, গ্লোবাল টাচ, গ্লোবাল ব্র্যান্ডসহ প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই প্রতিটি পণ্যে মূল্যছাড় ও পুরস্কার দিচ্ছে। প্রতিটি স্টার পিসির দামে বিশেষ ছাড়সহ ৪ গিগাবাইটের পেনড্রাইভ দিচ্ছে। সনি ভাইয়ো ল্যাপটপের সঙ্গে থাকছে ১৬ গিগাবাইট পেনড্রাইভ। মোবাইল কেয়ার প্রতিটি গ্রামীণফোন, কিউবি মডেম কিনলেই দিচ্ছে একটি করে মাউস প্যাড ও মগ। এশিয়া কম্পিউটার বাজার মূল্য ছাড়ের পাশাপাশি প্রতিটি ল্যাপটপের সঙ্গে একটি স্পিকার গিফট দিচ্ছে।

বাড়তি আয়োজন : মেলায় আগতদের জন্য বাড়তি আয়োজন রয়েছে। গত বুধবার মাল্টিপ্ল্যান কম্পিউটার সেন্টারের ১৪ তলায় তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে দিনব্যাপী শিক্ষার্থীদের বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় রাজধানীর সেরা কলেজগুলো। এ ছাড়া বিশেষ আয়োজনের মধ্যে রয়েছে সেমিনার, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, রক্তদান কর্মসূচি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ছাত্রছাত্রীদের বিনোদনের জন্য রয়েছে গেমিং জোন। মেলা চলাকালীন ৫ ঘণ্টা পর পর প্রবেশ টিকিটের ওপর র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আয়োজক কমিটির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারছে। digitalictfair.com সাইটে মেলার বিস্তারিত তথ্য আপডেট করা হচ্ছে।
সবুজ প্রযুক্তির জন্য ভালোবাসা : বিশ্বব্যাপী পরিবেশ বিপর্যয় রোধে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তিকে সার্থক ব্যবহারে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে এবারের মেলার প্রতিপাদ্য নির্বাচন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মাল্টিপ্ল্যান সেন্টার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও মেলার আহ্বায়ক তৌফিক এহেসান বলেন, সচেতনতার অভাব ও মানুষের বৈরী আচরণের কারণে জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। পৃথিবী বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। তবে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহারে এ বিপর্যয়কর পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এ বিষয়ে সচেতনতার জন্য মেলায় সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বরোপ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশেষ সেমিনারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নতুন প্রজন্মের উৎসাহ : মেলা ঘুরে দেখা গেছে তথ্যপ্রযুক্তিকে বেশ আগ্রহের সঙ্গেই নিচ্ছে নতুন প্রজন্ম। বিশেষ করে তরুণ-তরুণী ও স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মেলার বিষয়ে আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। তারা পুরো মার্কেটের দোকানগুলো ঘুরে ঘুরে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে জানছে, যাচাই করছে। কেউবা পরিবারের অভিভাবকদের সঙ্গে এসে এসব পণ্য কিনে নিয়ে যাচ্ছে। তারা জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে এ নতুন প্রজন্ম। ল্যাপটপ কিনতে আসা আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থী আরিফ হোসাইন জানায়, কয়েক মাস ধরেই এমন একটি মেলা থেকে ল্যাপটপ কেনার আশায় ছিলাম। কারণ মেলায় মূল্য ছাড়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সুবিধা থাকে। মেলার বেচাকেনা সম্পর্কে দোকান মালিক সমিতির কোষাধাক্ষ এসএম আনোয়ার আইউব বলেন, বেচাকেনা ভালোই চলছে। তবে দোকান মালিকদের প্রত্যাশা, বাকি দিনগুলোতে আরও জমে উঠবে মেলা ।

লেখাটি পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন ☼
লেখাটি পছন্দ হলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। শেয়ার করার জন্য উপরের বাটনে ক্লিক করুন
পরবর্তী আপডেট পেতে চাইলে আর.এস.এস ফীড অথবা ই-মেইল এর মাধ্যমে সাবস্ক্রাইব করুন
বিজ্ঞান প্রযুক্তি ডট কম এর ফেইসবুক পেইজ বা গ্রুপ অথবা টুইটার প্রোফাইলে যোগ দিন






রংপুরেও সম্ভবত আইসিটি ফেয়ার হতে যাচ্ছে আগামী ফেব্রুয়ারীতে। গতকাল ফেয়ার ওর্গানাইজারদের সাথে প্রোপজাল মিটিং করলাম।
খুব ভালো। আশাকরি আপনাদের আয়োজন সফলভাবে বাস্তবায়িত হোক! আর রঙপুর শহরকে ডিজিটাল শহর হিসেবে ঘোষনা করার দাবি সাথে একমত পোশন করলাম।
আমি একে সফল উদ্দগ বলে ধরে নেব
হুম.. অনেকটা সফল উদ্যোগ…