ব্যানার অ্যাডভার্টাইজিং এর ধারনা এবং এর ২৫টি মৌলিক বিষয় নিয়ে ই-বুক
ওয়েব ব্যানার অথবা ব্যানার এড, ওয়েবসাইটে অ্যাডভার্টাইজিং এর একটি রূপ। ব্যানার অ্যাডভার্টাইজিং সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই। বিজ্ঞাপনদাতা তাদের পণ্য অথবা তাদের ওয়েবসাইটকে ব্যানার অ্যাডভার্টাইজং এর মাধ্যমে ওয়েবে তুলে ধরতে পারেন। ব্যানার গুলো মূলত তৈরী করা হয়ে থাকে জেপিজি, জিআইএফ এনিমেশন, পিএনজি, ফ্ল্যাশ এনিমেশন ইত্যাদি ফরম্যাটে। ব্যানার গুলো ওয়েবসাইটের এমন একটি নির্দিষ্ট পেজে স্থাপন করা হয় যেখানে উৎসাহজনক উপাদান যেমন-একটি সংবাদপত্রের আর্টিকেল অথবা একটি মতামত অংশ রয়েছে।
ব্যানার অ্যাডভার্টাইজিং এর লাভ কীঃ
বিজ্ঞাপনদাতা তার পণ্যে অথবা ওয়েবসাইটের প্রচারের জন্য যে ওয়েবসাইটে তার বিজ্ঞাপন প্রচার করবেন সেই ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট প্রোভাইডারকে নির্দিষ্ট অনুপাতে কিছু অর্থ প্রদান করে থাকেন।আমাদের দেশের প্রথম সারির ওয়েবসাইটগুলোতে বিজ্ঞাপনদাতারা এককালীন বা মাসিক ভিত্তিতে অর্থ প্রদান করে থাকেন।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে সমস্ত এড গুলো একটি সেন্ট্রাল এড সার্ভার থেকে বিলি করা হয়ে থাকে।বিজ্ঞাপনদাতা তাদের লগফাইল গুলো স্ক্যান করে বুঝতে পারেন যে কত জন ভিজিটর কন্টেন্ট প্রোভাইডারের ওয়েবসাইটে থাকা তাদের এড গুলোতে ক্লিক করেছেন এবং সেই অনুপাতেই বিজ্ঞাপনদাতা কন্টেন্ট প্রোভাইডারকে অর্থ প্রদান করে থাকেন।এখানে ব্যাপারটি বিজ্ঞাপনদাতা ও কন্টেন্ট প্রোভাইডারের সীমাবদ্ব থাকে।
আর একটি উদাহরণ দেওয়া যাক গুগল এডসেন্স দিয়ে। এডসেন্স হল গুগল পরিচালিত একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন। এটি মূলত একটি লাভ-অংশিদারী প্রকল্প যার দ্বারা ব্যবহারকারী তার ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত বিজ্ঞাপনের বিষয়বস্তু থেকে অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হন। একটি ওয়েবসাইটের মালিক কিছু শর্তসাপেক্ষে তার সাইটে গুগল নির্ধারিত বিজ্ঞাপণ প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। আজকের অনলাইন বিশ্বে এই বিষয়টি ব্যপক সাড়া জাগিয়েছে। ২০১০ সালের First Quarter এ, গুগল $২.০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছিল ($৮.১৬ বিলিয়ন বার্ষিক), অথবা অ্যাডসেন্সের মধ্য দিয়ে মোট রাজস্ব ৩০% আয় করেছিল। এডসেন্স গুগলের বিজ্ঞাপন প্রচার প্রোগ্রাম। এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে গুগল তৃতীয় পরে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন ওয়েবমাস্টার এবং ব্লগের মালিকদের নিকট বন্টন করে। ওয়েবসাইটে গুগল এডসেন্স বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের মাধ্যমে ওয়েবমাস্টাররা অর্থ উপার্জন করতে পারে। বিজ্ঞাপণদাতাদের নিকট থেকে প্রাপ্ত অর্থের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ওয়েবমাস্টরদের মাধ্যমে বিতরণ করে গুগল। গুগল অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে যেকেউ অর্থ আয় করতে পারে। প্রচুর বাংলাদেশী ব্লগার এবং ওয়েবসাইটের মালিক গুগল অ্যডসেন্সের বিজ্ঞাপণ প্রদর্শণের মাধ্যমে বর্তমানে অর্থ আয় করছেন। বিজ্ঞাপনদাতারা গুগলের এডওয়ার্ডস সার্ভিসের মাধ্যমে এডসেন্সে বিজ্ঞাপন দেন এবং এডসেন্সের মাধ্যমে কন্টেন্ট প্রোভাইডাররা তাদের সাইটে বিজ্ঞাপন গুলো প্রচার করে থাকেন। এডসেন্সের এড দেওয়ার মাধ্যম হল ব্যানার অ্যাডভার্টাইজং।এডসেন্সের এড এর ব্যানার গুলোর আকারও বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে।কোনটি চিত্রভিত্তিক আবার কোনটি টেক্সচুয়াল। নিচে এর কিছু উদাহরন দেখুন


স্ট্যান্ডার্ড সাইজের ব্যানারঃ
আইএবি (ইন্টারঅ্যাক্টিভ অ্যাডভার্টাইজিং ব্যুরো) কতৃক প্রদত্ত স্ট্যান্ডার্ড ব্যানার সাইজের চিত্র নিচে দেখুন


বোল্ড করা সাইজ গুলো আইএবি (ইন্টারঅ্যাক্টিভ অ্যাডভার্টাইজিং ব্যুরো) এর Universal Ad Package এর অন্তর্ভুক্ত
সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ
Prodigy (online service) অনলাইন অ্যাডভার্টাইজিং এর প্রর্বতক। তখন এই কোম্পানিটির মালিক ছিল IBM ও SEARS।Prodigy ১৯৮০ সালে SEARS এর দ্রব্যকে তুলে ধরার জন্য অনলাইনে অ্যাডভার্টাইজিংকে ব্যবহার করা শুরু করে,তারপর অন্যান্য বিজ্ঞাপনদাতাদের নিকট থেকে বিজ্ঞাপন নিত। ৯০’ তে Prodigy অন্যতম প্রতিযোগী ছিল AOL।১৯৯৩ সালে Global Network Navigator (GNN) সর্বপ্রথম ক্লিকেবল এড বিক্রি করেছিল Heller, Ehrman, White and McAuliffe বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায় একটি ল-ফার্ম। GNN প্রথম বাণিজ্যিকভাবে সমর্থিত ওয়েব প্রকাশনা ছিল। HotWired একটি বৃহত্তম ওয়েবসাইট ছিল যারা কর্পোরেট বিজ্ঞাপনদাতাদের বিজ্ঞাপন গুলো বৃহৎ পরিমানে বিক্রি করত। Andrew Anker ছিলেন এর প্রথম CEO।২১ শতাব্দিতে নতুনভাবে অনলাইন অ্যাডভার্টাইজিং এর দ্বার উন্মোচিত হয় ইয়াহু সার্চ মার্কেটিং, OVERTURE, গুগল এডওয়ার্ডস। বর্তমানে এগুলো ব্যপক সফলতা অর্জন করেছে।
সবইতো হল কিন্তু এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ব্যানার ডিজাইন করা। মনে রাখা দরকার ব্যানার যত আকর্ষনীয় হবে ভিজিটর ব্যানারে ক্লিক করতে ততই আকৃষ্ট হবেন।সঠিক দিক নির্দেশনা অনুসরণ করে ব্যানার ডিজাইন করলে আমি মনে করি সফলতা পাওয়া যাবে। আর এই দিক নির্দেশনা গুলো পেতে ডাউনলোড করুন নিচের ই-বুকটি। এই ই-বুকটিতে ব্যানার অ্যাডভার্টাইজিং এর ২৫টি মৌলিক বিষয় সুন্দরভাবে আলোচনা করা হয়েছে। ডিজাইনারদের বেশ কাজে লাগবে।

আমার যতটুকু ধারণা ছিল ঠিক ততটুকু ধারণা দিয়ে পোস্টটি সাজানোর চেষ্টা করেছি। ভাল লাগলে অবশ্যই মতামত জানাবেন। আর সামনে আমার পরীক্ষা তাই সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন।
—সুস্থ থাকুন, ভাল থাকুন এই কামনা করি—
এরকম আরও কিছু পোস্টঃ
- চালু হল প্রাইমারী এবং সেকেন্ডারী লেভেলের বইগুলো নিয়ে ই-বুক ওয়েবসাইট
- এইচটিএমএল৫ শেখার জন্য সাতটি ওয়েব সাইট এবং ই-বুক
- উবুন্টু ব্যবহারকারীদের জন্য কিছু ই-বুক
- ই-বুক ডাউনলোডঃ ‘লেখার সময় পরিহার্য ১০০টি ভুল’
- নতুন ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগারদের জন্য দারুন একটি ই-বুক
- ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগারদের জন্য দুইটি প্রিমিয়াম ই-বুক
- গুগল চালু করলো বহু প্রতীক্ষিত ই-বুক স্টোর

লেখাটি পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন ☼
লেখাটি পছন্দ হলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। শেয়ার করার জন্য উপরের বাটনে ক্লিক করুন
পরবর্তী আপডেট পেতে চাইলে আর.এস.এস ফীড অথবা ই-মেইল এর মাধ্যমে সাবস্ক্রাইব করুন
বিজ্ঞান প্রযুক্তি ডট কম এর ফেইসবুক পেইজ বা গ্রুপ অথবা টুইটার প্রোফাইলে যোগ দিন






দারুন হয়েছে আমার আনেক কাজে লাগবে।ধন্যবফদ
ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে মন্তব্যর জন্য……।।
ভালো পোষ্ট। দারুন হয়েছে।
অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
তথ্যপূর্ন পোস্ট। অনেকের কাজে লাগবে।
আশা করি এরকম আরো কিছু তথ্যপূর্ন পোস্ট আপনাদের দিতে পারব। ধন্যবাদ ভাইয়া।