মেয়েদের যে ৭টি গুন একজন ডিজাইনারের মাঝে থাকা উচিত
ছোট বেলা থেকে মেয়েদের গুছিয়ে চলার বেপারটা দেখে আসছি। নিয়মিতই ওদের এই গুছিয়ে চলাটা আমার কাছে বিরক্তের কারন ছিল। কোথাও এক সাথে বের হতে গেলে কয়েক ঘন্টা সাজগোজেই আপচয় হয়ে যাবে। কি ভয়ানক বেপার বলুন তো! এক দিনে আমার বান্ধবী যে পরিমানে প্রসাধনী ব্যবহার করে তা হয়তো আমি মাসেও করি না। আর যে কোন বেপারেই ওদের রয়েছে একটা খুতখুতে ভাব। টাকার নোট দিলেও তারা ভাল ভাবে দেখে আর নতুন নোটের প্রতি রয়েছে ওদের অস্বাভাবিক রকমের অপ্রয়োজনীয় চাহিদা।
কিন্তু এ বেপারগুলোকে আমি একটু পজিটিভ ভাবে দেখলাম যখন ডিজাইন করতে গেলাম। আমার দরকার ছিল একটু সমালোচক, একটু গুছিয়ে চলা লোক। তাহলে মেয়েদের কাছ থেকে কি কিছু শিখে নেয়া যায় নাকি…বলুন তো..।
সময় সচেতনতা

কোন দিন ডেটিং এর সময় দেয়া থাকলে একেবারে আগেই হাজির। আসলে ওদের তো কোন কাজ নেই তাই হয়তো তারাতারি এসে পরে। ওয়েব ডিজাইনার হতে হলে নাকি সময় সচেতনাতা শিখতে হবে মেয়েদের কাছে। যাক.. তাহলে শিখে নেব।
পরীক্ষা নিরীক্ষা
ঐ যে বলেছিলাম, যে কোন বিষয়ে খুতখুতে স্বভাব। যা এনে দেন তাই পরীক্ষা করে দেখবে। কোন তরকারীতে পোকা আছে তা ওদের কাছে না গেলে বুঝতেই পারবেন না। আপনি না হয় ডিজাইনার। একটা ডিজাইন করে ফেলেছেন। এখন যদি ভাল করে না দেখেন তাহলে কি চলবে?
রং সচেতনতা
আমার বড় দুই বোন। ওরা সব সময় একই রঙের জিনিস এক সাথে পড়তো। আমি ছোট ছিলাম তাই হা… করে তাকিয়ে থাকতাম। কানের, নাকের, গলার গহনা, হাতের চুরি, জামা, ওড়না এমন কি জুতার মধ্যেও নাকি একই রকমে রঙের ডিজাইন প্রয়োজন। মার্কেটে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যায় মিলানো যায় না সহজে। ইদানিং কালের ভাল ভাল ওয়েব ডিজাইনারদের মাঝেও এই বেপারটা দেখতেছি। প্রতিটি ডিজাইনের লগো, আইকন, ফেভিকন, থিমের ডিজাইন, কনটেন্ট ও ফন্টের রঙের মাঝে বেশ একটা রঙের মিল। মনে হয় এটা ওই সব মেয়েদের কাছ থেকেই শিখেছে ওরা।
সামাজিকতা
নতুন এলাকাতে গেলাম কিছু দিন আগে। আমার বোনেরা আসে পাসের অন্যান্য মেয়েদের সাথে বেশ ভাল এক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করে ফেলেছে। আমি কারো সাথে পরিচিত হতেই পারি নি। পরীক্ষার হলে ম্যাডাম গার্ড দিতে এলে আমার বিরক্তের অন্ত ছিল না। আমি জানি ..মেয়েরা একটু বেশি-ই বক বক করে।আজ কাল মোবাইল ফোনে মেয়েরা মিস কল দিয়ে দিয়ে ছেলেদেরা টাকা শেষ করে শুধু ওদের বক বক স্বাধ মিটায়।
কিন্তু এই বেশি বেশি বক বক করাটা নাকি আজ কাল নেটওয়ার্কিং এর জন্য ভাল। ফেসবুক টুইটার,ম্যাসেঞ্জারে সারাদিন বক বক করে নাকি আনেক লাভ হয়। অনলাইনের একটা ধন্দাও নাকি এর মধ্যে লুকিয়ে থাকে.. কি ভয়ানক!!!
গুছিয়ে রাখা

দশ বছরের ব্যাচেলর জীবনে কখনো গুছিয়ে থাকি নি। সে দিন খালাম্মা বেড়াতে এলো । আমরা তো আমাদের মতোই সব কিছু এলো মেলো রাখি। অপরিস্কার জীবনটাই আমাদের স্বাভাবিকতা। কয়েক ঘন্টার মধ্যে খালাম্মা আমাদের ঘরের চেহারাটাই পাল্টে দিল।
ওয়েব ডিজাইনারদেরও নাকি গুছিয়ে রাখতে হয়। সিএসএস এর বক্স বানিয়ে বানিয়ে কনটেন্টগুলোকে ভাজ ভাজ করে রাখা খুব দরকারী। আরএই কাজ টা করতে পারলেই তো ওয়েব ডিজাইনের ৯০ ভাগ শেখা হয়ে যায়।
দামাদামি
বাজারে ইদানিং মেয়েদের আনাগোনা বেড়েছে। কারন ছেলেরা নাকি ভাল জিনিস পছন্দও করতে পারে না, বেশি দাম দিয়ে কিনে ফেলে। দোকানদাররাও জানে মেয়েরা অনেক দামাদামি করে।
কয়েক জনের ওয়েব বানিয়ে দেওয়ার অফার পেলাম, কিন্তু আমি দামের বেপারে কিছুই বলি নি। “ঠিক আছে বানিয়ে দেব টাকা পয়সার বেপারে কিছু বলতে হবে না।” কাজ শেষে যা দিল-তা রীতি মতো অপমানজনক। তাই মেয়েদের কাছ থেকে দামাদামিটা শিখেই নিতে হবে -ভাবছি।
ক্রিয়েটিভিটি

মেয়েরা কি ক্রিয়েটিভ? আমার অফিসের বন্ধু বলে-”মেয়েদের মাঝে নাকি ক্রিয়েটিভ কিছু নাই” কিন্তু কয়েকটা বান্ধবীর ক্লাস হ্যান্ড নোট দেখে মনে হলো একটু বেশিই ইউনিক। যাই হোক। বেশ কিছু ইউনিক আইডিয়া পেতে মেয়েদের কাছে গেলে আসুবিধা কোথায়?
ভাবছি কোন একটি ডিজাইনের কাজ শেষ করার আগে কোন এক মেয়ে মানুষকে সমালোচনা করার জন্য দিব। … বেপারটা কি একটু বাড়াবাড়ি নাকি?
তাহলে আজ মনের স্বাদ মিটিয়ে মেয়েদের বিরুদ্ধে বললাম। সমালোচনা করতে ভুলে গেলে চলবে না।
আমার অন্যান্য লেখা:
ওয়েব হোস্টিং কেনার আগে যে সব বিষয় ভেবে দেখবেন
নতুন প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজন প্রযুক্তিহীনতা
এরকম আরও কিছু পোস্টঃ
- একজন ভাল ওয়েব ডিজাইনারের পরিচ্ছন্নতা, দক্ষতা এবং সৃজনশীলতা
- কয়েকটি অসাধারন লোগো ডিজাইন টিউটোরিয়াল
- লোগোর গোপন কথাঃ ১২ টি বাস্তব উদাহরণ
- ১৫টি অসাধারন ডিজাইনের বিজনেস কার্ড
- ইন্টারনেটে ফটোশপ শেখার জন্য ৬টি অসাধারন ওয়েব সাইট
- গ্রাফিক্স ডিজাইনের গতিময় এক সফটওয়্যার ‘ইউলিড ফটোইম্প্যাক্ট’
- ফটোশপ ম্যানিয়াঃ পর্ব ১ – ফটোশপের প্রাথমিক ধারণা

লেখাটি পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন ☼
লেখাটি পছন্দ হলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। শেয়ার করার জন্য উপরের বাটনে ক্লিক করুন
পরবর্তী আপডেট পেতে চাইলে আর.এস.এস ফীড অথবা ই-মেইল এর মাধ্যমে সাবস্ক্রাইব করুন
বিজ্ঞান প্রযুক্তি ডট কম এর ফেইসবুক পেইজ বা গ্রুপ অথবা টুইটার প্রোফাইলে যোগ দিন






টাইটেল দেখে ই হতবাক
কিছু লোক মেয়ে আর ছেলেদের সমান মনে করে। বেপারটা আমার কাছে আজও পরিস্কার না। কিভাবে সবাই সমান। যেখানে একজন ছেলেই বুদ্ধিমত্বার দিক থেকে আরেকজন ছেলের সমান না।
সহমত।
পুরো লেখাই একমত কিন্তু “”কোন দিন ডেটিং এর সময় দেয়া থাকলে একেবারে আগেই হাজির।”"
এইটা মানি না
তারমানে সাম্য ভাইয়ের ডেটিং বিষয়ক ব্যাপক অভিজ্ঞতা আছে
মনে হচ্ছে বিষয়টা নিয়ে ব্যপক বিতর্ক চলবে। আগেই সাবধান হয়ে যাচ্ছি। বান্ধবীকে পোস্টটি পড়ার আমন্ত্রন করতে পারেন।
সে এক বিরাট ইতিহাস…………………………………
ক্রিয়েটিভিটির ব্যাপারে আপনার বন্ধুর সাথে একমত। ছেলেদের ক্রিয়েটিভিটি এবং গভীরভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা মেয়েদের চাইতে অনেক বেশি। আর সময় সচেতনতা খুব একটা নেই। টিউটো ভাই এর মতে, “কোথাও এক সাথে বের হতে গেলে কয়েক ঘন্টা সাজগোজেই আপচয় হয়ে যাবে”
সৌন্দর্যের বেপারে মেয়েদের ক্রিয়েটিভিটি মনে হয় একটু-ই বেশি। অধিকাংশ মেয়েদের হাতের লেখা সুন্দর (মনে হয়) ফ্যাশন ডিজাইনেও কিছু কিছু মেয়েদের কাজ অতুলনীয়।
তরক বিতক দেখি ভালোই চলছে সব কিছু মেয়েদের সাথে তুলোনা করা হলোতো তাই সবাই মজা করলো।টিটো ভাই ধন্যবাদ আপনাকে।
আমি তো ভাবছিলাম লেখাটা দিলে গন ধোরাই খেতে হবে। যাই হোক আজকের জন্য রক্ষে…
টিউটো ভাইয়ার পোস্টগুলো সবার থেকে আলাদা। পড়ে বেশ মজা পাচ্ছি
)
কথাগুলো কিন্তু আসলেই সত্য। ছোটবেলা থেকে আম্মু আর আপুর সাথে থেকেই বড় হয়েছি, এখনও আছি। তাই এটা আমার থেকে ভাল খুব মানুষই জানে
টিপু ভাই, জটিল পোস্ট দিলেন। মজা পাইলাম পইড়া
হা হা হা, বেশ মজার তো!
ভাই আপনার এই পোস্টটা ভালোই লাগল, আসলে নিজের উপরই হাসি উঠছে।