আমাদের দেশে অনেক চেষ্টা করেও প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করা যায়নি। এর পেছনে আর্থিক লাভের বিষয় তো আছেই আরো আছে আমাদের বদঅভ্যাস। ব্যবসায়ী শ্রেণী এটা চালিয়ে যায় অতি মুনাফা লাভের আশায় আর সাধারণ মানুষ এটা পছন্দ করে দামে স্বল্পতা এবং বারবার ব্যবহারের সুবিধার জন্যে।

 

ফলে হাতল যুক্ত প্লাস্টিকের ব্যাগ দূর হলেও হাতল ছাড়া প্লাস্টিকের ব্যাগের ব্যবহার বেড়েছে আগের চেয়ে বহুগুণে! ফলে পরিবেশে দূষণের মাত্রা বেড়েছে অনেক গুণ। বেড়েছে জলাবদ্ধতা।

 

দিনকে দিন প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। এইদিকে যেমন খুব একটা নজর নেই সরকারের তেমনি নেই পরিবেশবাদীদেরও। আজকাল সুন্দরবন নিয়ে যতটা প্রতিবাদ আসছে তার দশ ভাগের একভাগ আওয়াজ যদি প্লাস্টিকের জন্যে উঠতো তবে আমাদের চারপাশের পরিবেশ আরো সুন্দর করা যেত।

 

উন্নত বিশ্বে এ ধরনের প্লাস্টিকের ব্যবহার খুবই নগন্য। যাও আছে সেগুলো নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড মেনে প্রস্তুত হয় এবং ব্যবহারও হয় গুটিকয়েক জায়গায়। তারপরেও তারা চাচ্ছে প্লাস্টিকের ব্যবহার একেবারেই জিরো পর্যায়ে আনতে। একই সঙ্গে প্লাস্টিকের প্যাকেটের কারণে সৃষ্ট অপচয় রোধও একটা লক্ষ্য।

 

তাই আমেরিকার বিজ্ঞানীরা প্লাস্টিকের ব্যবহার বিশেষ করে খাবার প্যাকেটের ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের বিকল্প ব্যবহার এবং প্লাস্টিকের কারণে খাদ্য অপচয় রোধে দুধের উপাদান দিয়ে তৈরি করেছে এক ধরনের প্যাকেজিং পেপার যা দেখতে হুবহু প্লাস্টিকের মতোই কিন্তু এটি খুবই স্বাস্থ্যসম্মত এবং খাওয়ার যোগ্য!

 

হ্যাঁ, আপনি ঠিকই পড়েছেন এই প্যাকেট আপনি খেয়ে ফেলতে পারবেন। এটা প্রোটিনযুক্ত। ফলে খাবারের অপচয় রোধে এর বিকল্প নেই। কারণ আপনি পনির, মাখন বা এ ধরনের খাবারের প্যাকেট যখন প্লাস্টিক বা অন্য কোনো উপাদান দিয়ে করবেন তখন এই প্যাকেটে লেগে নষ্ট হয় অনেকটা খাবার। আর যদি আপনি পুরো প্যাকেটসহই খাবার খেতে পারেন তবে আর অপচয়ের সম্ভাবনা থাকবেনা। একই সঙ্গে এটা পরিবেশ রক্ষা করবে। তাছাড়া বাঁচাতে পারবে সাধারণ কাগজও। কারণ চাইলে আপনি টি-ব্যাগ হিসেবেও একে ব্যবহার করতে পারবেন ফলে পুরো টি-ব্যাগই কিন্তু চায়ে পরিণত হবে। শুধু থেকে যাবে চা পাতা।

 

এমনি ভাবে স্যুপের প্যাকেট বা অন্যান্য খাদ্যের প্যাকেট হিসেবেও চমৎকার বিকল্প হতে পারে এটা প্লাস্টিকের। এটা একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা করবে তেমনি এটা প্লাস্টিকের চেয়ে ৫০০ গুণ ভালোভাবে খাবার সংরক্ষণ করে। এটা দারুন কার্যকর অক্সিজেন বা বাতাস রোধে। ফলে খাবার থেকে বাতাস দূরে রেখে এটা খাবারকে দীর্ঘ মেয়াদে ভালো রাখে।

 

তাই যদি এর ব্যাপক ব্যবহার করা যায় তবে পরিবেশ থেকে বিলুপ্ত হতে পারে প্লাস্টিকের মতো ক্ষতিকর বস্তু যা কাগজের বিকল্প হিসেবে রক্ষা করতে পারবে গাছকেও। একই সঙ্গে খাদ্যদ্রব্যও থাকবে আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার রিসার্চারস এর বেশ কিছু গবেষক এই গবেষণায় অংশ নেন। তারা এর ব্যাপক ব্যবহারের জন্যে যা যা করার দরকার তা নিয়ে কাজ করছেন। যদি এর উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কমানো যায় এবং এর উৎপাদন প্রক্রিয়া সহজতর ভাবে করা যায় তাহলে ভবিষ্যত পৃথিবীর জন্য তা হতে পারে বিরাট সুখবর।

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.