সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ফেসবুকের প্রতি আগ্রহ কমছে তরুণদের! বিষয়টি নিয়ে বেশ চিন্তায় আছে ফেসবুক কর্তারা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমাগত ভাবে তরুণদের আকৃষ্ট করার বিষয়টি আগের মতো করতে পারছে না ফেসবুক। বিষয়টি এমন, স্কুল কিংবা কলেজের কোন শিক্ষার্থী যদি অনলাইনে যায় সেটি অন্য বন্ধুদের জন্যও অনলাইনে যাওয়ার আমন্ত্রণের মতো। আবার যদি এক বন্ধু অনলাইন ছেড়ে দেয় বা নির্দিষ্ট কোন ওয়েবসাইটে না যায় দেখা যাচ্ছে অন্য বন্ধুরাও সে ওয়েবসাইটে বা অনলাইনে যাওয়া বন্ধ করে দিচ্ছে।

তবে এমন তথ্য মনগড়াও নয়। গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চের মতে, তরুণরা প্রচণ্ডভাবে ফেসবুকের বদলে ভিডিও দেখার জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইউটিউবে ঝুঁকে পড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে তরুণদের প্রায় ৮৫ শতাংশই নিয়মিত ভাবে ফেসবুক ছেড়ে ইউটিউব ব্যবহার করে। ফেসবুক ব্যবহারের জন্য ১৩ থেকে ১৭ বছরের কিশোর-তরুণদের মধ্যে ফেসবুক এখন আর সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম নয়। শুধু তাই নয়, তালিকার প্রথম তিনটির মধ্যেও ফেসবুকের নামও নেই! তালিকার শীর্ষে থাকা ইউটিউবের পরেই রয়েছে ইন্সটাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটের স্থান।

এ ঘটনাটি দেখানো হয়েছিল ফেসবুক নিয়ে ২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া দি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক‘ নামের চলচ্চিত্রেও। সেখানে মার্ক জাকারবার্গের চরিত্রের একটি সংলাপেই ছিল এমন “স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা অনলাইনে যায়, কারণ তাদের বন্ধুরা অনলাইনে। তাই একজন সরে পড়লে, অন্যরাও সরে পড়ে।”

যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুক ব্যবহার করছে এমন তালিকায় কিশোরদের অবস্থান চতুর্থ। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী ৫১ শতাংশ তরুণ-তরুণী এখনও ফেসবুক ব্যবহার করছে। ব্যবহারের হার কমা শুরু হয় ২০১৫ সাল থেকে। সে বছর থেকে ফেসবুক ২০ শতাংশ ব্যবহারকারী হারিয়েছে। তবে ফেসবুক কর্তপক্ষের কাছে আশারবানীও রয়েছে। গবেষণায় উঠে এসেছে অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের কাছে এখনও জনপ্রিয় ফেসবুক।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিবিএইচ ইনসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে তরুনদের মধ্যে ফেসবুক আকর্ষণ কমে যাচ্ছে বলে যে জল্পনা চলছিল, সর্বশেষ গবেষণায় তা সত্য বলে প্রমাণিত হচ্ছে। ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ জানিয়েছেন, ২০১৭ সালের শেষ তিন মাসে ফেসবুকে কাটানোর সময় ৫ কোটি ঘণ্টা কমেছে।

ফেসবুকে বিভিন্ন বয়সীদের গতিবিধি, বিশেষ করে তাদের বাবা-মা এবং গুরুজনদের অবস্থানের কারণে অনেক তরুণ-তরুণী এই প্লাটফর্ম ছেড়ে চলে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের জন্য অনেকে আর ফেসবুক ব্যবহার করে না। এক্ষেত্রে ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট এবং ইনস্টাগ্রামের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার অন্যতম প্রধান কারণ- এসব প্ল্যাটফর্মে ছবি এবং ভিডিওর প্রাধান্য।

তবে তরুণদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা হারালেও, সামগ্রিকভাবে এখনও ফেসবুক সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ২০১৮ সালের প্রথম তিন মাসে নতুন চার কোটি ৮০ লাখ মানুষ প্রতিদিন ফেসবুকে ঢুকছে।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.