অবশেষে চুড়ান্ত ভাবে বাতিল হলো দেশের সবচেয়ে পুরোনো মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের লাইসেন্স। সোমবার টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) বৈঠকে অপারেটরটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। খুব শিগগিরই একটি গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জানা গেছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম মোবাইল অপারেটর বন্ধ হচ্ছে এবং দেশে মোবাইল ফোন অপারেটরের সংখ্যা একটি কমছে। ইতিমধ্যে রবি ও এয়ারটেল একীভূত হয়ে একটি অপারেটর কমে যাওয়ায় মোট মোবাইল অপারেটর ছিল ৫টি। সিটিসেল বন্ধ হওয়ায় এখন তা হলো ৪টি। একটি অপারেটর কমে গেলেও চতুর্থ প্রজন্মের (ফোরজি) নীতিমালায় নতুন একটি অপারেটর সুযোগ রাখা হয়েছে।

এর আগে গত জুনের প্রথম দিকে বিটিআরসি দেশের সবচেয়ে পুরোনো মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করে সরকারের কাছে। অনেক দিন হতে সেবায় না থাকা সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে বিটিআরসি মূলত পুরোনো বকেয়া পরিশোধ না করা, আদালতের নির্দেশ অনুসারে চলতি দেনা যেমন স্পেকট্রাম এবং লাইসেন্স ফি পরিশোধ না করা এবং লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করা ইত্যাদির অভিযোগ তোলে। তবে লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করার আগে কেনো লাইসেন্স বাতিল করা হবে না সে বিষয়ে সিটিসেলকে কারণ দর্শানো নোটিশও পাঠায় বিটিআরসি। সিটিসেল বিটিআরসিকে জানায়, সরকার নয় বরং বিটিআরসিকে হিসাবের অতিরিক্ত টাকা দিয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে তারা আর বিটিআরসিকে নতুন করে কোনো টাকা দেবে না। এর আগে ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর বিটিআরসি সিটিসেলের স্পেকট্রাম বরাদ্দ স্থগিত করে দেয়। যদিও সিটিসেল সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে ৬ নভেম্বরে সিটিসেলের স্পেকট্রাম ফিরিয়ে দেয়া হয়।

ওই বছরের অক্টোবর পর্যন্ত বিটিআরসি সিটিসেলের কাছে মোট পাওনা ৪৭৭ কোটি টাকা বকেয়া ছিল বলে দাবি করে। তবে এর মধ্যে অপারেটরটি পরিশোধ করেছে ২৫৫ কোটি টাকা। অবশিষ্ট ২২২ কোটি পরিশোধ করলেই অপারেটরটি দায় মুক্ত হবে। ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের মার্চের মধ্যে একটি পাওনা পরিশোধের কথা ছিল প্রতিষ্ঠানটির। কিন্তু গ্রাহক না থাকাসহ অন্যান্য নানা কারনে নির্দিষ্ট সময়ে তা পরিশোধ করেনি অপারেটরটি। উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে দেশের প্রথম মোবাইল অপারেটরের লাইসেন্স পেয়ে সিটিসেল ১৯৯৩ সাল থেকে সেবা দিতে শুরু করে। সিটিসেলের ৪৪.৫৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক সিঙ্গাপুরের টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা কোম্পানি সিংটেল। আর ৩৭.৫১ শতাংশ শেয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খানের প্যাসিফিক মোটর্সের নামে রয়েছে। এছাড়া ১৭.৫১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে ফার ইস্ট টেলিকমের হাতে।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.