৫৮তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে (আইএমও) ১১১টি দেশের মধ্যে ২৬তম হয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় সেরা বাংলাদেশ। ১১১ নম্বরে বাংলাদেশ দলের অর্জন দুটি রৌপ্যপদক, দুটি ব্রোঞ্জপদক এবং দুটি সম্মাানজনক স্বীকৃতি। এবারও মাত্র ১ নম্বরের জন্য স্বর্ণপদক থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বাংলাদেশের আসিফ-ই-ইলাহী। চলতি বছর আইএমও’র আসর বসেছে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে।

চলতি বছরের ফলাফলা অনুযায়ী, সিলেটের এমসি কলেজের শিক্ষার্থী আসিফ-ই-এলাহী ২৪ ও চট্টগ্রামের ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের আহমেদ জাওয়াদ চৌধুরী ২৩ নম্বর পেয়ে রৌপ্যপদক পেয়েছে। ঢাকা কলেজের রাহুল সাহা ১৮ ও নটরডেম কলেজের তামজিদ মোর্শেদ রুবাব ১৭ নম্বর পেয়ে পেয়েছে ব্রোঞ্জপদক। এছাড়া বাংলাদেশের অন্য দুজন নটরডেম কলেজের সাব্বির রহমান ১৫ এবং বরিশালের অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়ের এস এম নাঈমুল ইসলাম ১৪ নম্বর পেয়ে সম্মাানজনক স্বীকৃতি পেয়েছে।

IMO 2017এবারের আসরে দক্ষিণ কোরিয়া ১৭০ নম্বর পেয়ে শীর্ষস্থান অধিকার করেছে। এ তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছে চীন ও ভিয়েতনাম। গত দুইবারের চ্যাম্পিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবার চতুর্থ। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ৯০ নম্বর পেয়ে ৫২তম, শ্রীলঙ্কা ৮০ নম্বর নিয়ে ৬২তম, পাকিস্তান ৫৮ নম্বর নিয়ে ৮১তম এবং প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া নেপাল ১১০তম স্থান অর্জন করেছে।

থাইল্যান্ডে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব প্রাপ্তির পর গতবছর ৫৭তম আইএমওতে ভারতের চেয়ে ১ নম্বর কম পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবার ভারতের চেয়ে বাংলাদেশর নম্বর ২০ বেশি। তা ছাড়া মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরবের ওপরে বাংলাদেশের অবস্থান বজায় রয়েছে। দলের ফলাফলে গর্বিত বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘১ নম্বরের জন্য সোনা না পাওয়াটা দুঃখজনক। কিন্তু সেটা আমার আনন্দ কমিয়ে দিতে পারে না। বাংলাদেশ গণিত দলের জন্য আমি গর্বিত।’ তিনি আরও বলেন, নিশ্চয় প্রতিবেশী দেশগুলোকে হারিয়ে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের ৮ ধাপ এগিয়ে নেওয়া যথেষ্ট আনন্দের।

গতকাল শনিবার রাতে পদক বিতরণের মাধ্যমে শেষ হয় এবারের অলিম্পিয়াড। উল্লেখ্য, ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে চলমান ৫৮তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশের ছয় খুদে গণিতবিদ। দলের সঙ্গে আছেন গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ডেপুটি লিডার মুনির হাসান। তিনি জানান, কিছুটা আশাহতের বেদনা কিন্তু ভরপুর আনন্দের সঙ্গে শেষ হয়েছে আমাদের ২০১৭ সালের আইওমও। অনেক কিছু অর্জনের পাশাপাশি অনকে কিছু শেখাও গেল। তিনি উল্লেখ করেন, এই আইএমওর সবচেয়ে বড় পাওয়া হল যে সব দেশ আমাদের পাত্তা দিতো না তাদের সমীহ আদায় করতে পারা। এছাড়া বাংলাদেশের এমন সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছে আইএমও বোর্ডের প্রেসিডেন্ট জেওফ স্মিথ। ধারাবাহিক সফলতা ধরে রাখায় অনেক দেশই এবার বাংলাদেশকে আলাদা করে লক্ষ্য করেছে। এর একটি বড় কারণ কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানির মতো দেশকে পিছনে ফেলা বলেও জানিয়েছেন মুনির হাসান। ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত গণিত উৎসবের মধ্য থেকে তাদের নির্বাচিত করেছে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.