শীতে রক্ষা করুন ছোট বাচ্চাকে

একটি শিশু যখন জন্ম নেয়, তখন বাবা মায়ের মনে নানা ধরণের আনন্দ উচ্ছ্বাস দেখা দেয়। সন্তানকে ঘিরে তাদের নানা ধরণের পরিকল্পনা থাকে। যদি আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, তাহলে দেখতে পাই যে, বাবা মায়েরা শিশুকে প্রথম থেকেই একটি প্রতিযোগিতার মধ্যে ফেলে দেন। কি করে ডাক্তার হতে হবে বা কি করে ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে।
বলিউডের “থ্রি ইডিয়টস” ছবির দিকে যদি তাকাই, তাহলেই দেখব একটি বাচ্চা জন্মাবার পর কি করে তাকে একটি প্রতিযোগিতার মধ্যে ফেলে দেয়া হয়; যা মোটেই কাম্য নয়।
ওহাইয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু গবেষক ৩-৭ বছরের বাচ্চাদের বলেছেন “মানসিক গঠনে” বেড়ে উঠবার জন্য সবচেয়ে উপযোগী। এই সময়টার মধ্যেই শিশুকে সব কিছু শিক্ষা দেয়া প্রয়োজন। তার মন মনন গড়ে তোলা প্রয়োজন। আজ তাই কিছু টিপস দেয়া হল ৩-৭ বছরের বাচ্চাদের সাথে বাড়িতে আপনি কি ধরণের ব্যবহার বাড়িতে করবেন (দ্বিতীয় পর্ব):

৬) ধৈর্য্য না হারিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিনঃ
বাচ্চারা সবসময় প্রশ্ন করে আপনাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে। এটিই স্বাভাবিক। ধৈর্য্যচ্যুতি কখনো ঘটাবেন না বা “এতো প্রশ্ন কেন করছ”- এই জাতীয় কথা কখনো তাকে বলবেন না। এটি বললে সে মন খারাপ করবে এবং তার কৌতুহলের নিবৃত্তি ঘটবে না। যতক্ষণ পারেন তার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যান।

৭) প্রশ্নের উত্তর না জানলে বলুন “আমি এটা জানি না”:
বাচ্চা প্রশ্ন করলে যদি তার উত্তর না জানেন, তাহলে সুন্দর করে উত্তর দিন যে এটি আপনি জানেন না। কিন্তু কখনো তার প্রশ্ন এড়িয়ে যাবেন না। কিংবা প্রশ্নের উত্তর যদি না জানেন, তাহলে তাকে বলে দিন যে আপনি পরবর্তীতে তার প্রশ্নের উত্তর দেবেন।

৮) বাচ্চাকে বোঝান যে পরিবারে সে গুরুত্বপূর্ণঃ
বাচ্চাদের মাঝে এক ধরণের ইচ্ছা কাজ করে যে, তাকে গুরুত্ব দেয়া হোক। পরিবারে সেও একজন গুরত্বপূর্ণ ব্যক্তি, এটি সে বুঝতে চায়। তাকে তার অনুযায়ী কাজ দিন। তোয়ালেটি এগিয়ে দাও, এক গ্লাস পানি এনে দাও, আমাকে আজকের পত্রিকাটি এনে দাও- এই ধরণের ছোটখাট কাজ তাকে দিয়ে করিয়ে বুঝিয়ে দিতে পারেন যে আপনি তার ওপর নির্ভরশীল।

৯) যতক্ষণ বাচ্চার সাথে থাকবেন, মোবাইল বের করবেন নাঃ
বাচ্চার সাথে যতক্ষণ আছেন, তাকে পূর্ণ সময় দিন। তার সামনে কখনো মোবাইলে কথা বলবেন না। যদি তার সামনে আপনার কোন ফোন আসে এবং সেটি যদি গুরুত্বপূর্ণ না হয়, তাহলে ফোনটি বের করে কথা বলুন। ফোনদাতাকে জানিয়ে দিন যে আপনি আপনার বাচ্চার সাথে আছেন।খানিক পর যোগাযোগ করবেন। এতে আপনার বাচ্চা খুশি হবে।

১০) বন্ধুত্বের মর্ম শেখানঃ
অনেক বাচ্চা অন্যান্য সমবয়সী বাচ্চাদের সাথে খারাপ আচরণ কিংবা হিংসাত্মক আচরণ করে। এর ফলে বাচ্চাদের মাঝে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। আপনি আপনার বাচ্চাকে বোঝান যে বন্ধুত্বের মর্ম কি। তাকে অন্যান্য বাচ্চাদের সাথে খেলতে পাঠান, খাবার ভাগাভাগি করে খেতে শেখান। এর ফলে আপনার বাচ্চার মাঝে সামাজিকতা বোধ বেড়ে উঠবে। তবে সে কার সাথে মিশছে সেদিকে দৃষ্টি রাখুন।

সূত্রঃ Wikihow.com

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.