পৃথিবীর আদিম যুগ থেকে বর্তমানে আধুনিক যুগ পর্যন্ত অনেক পরিবর্তনের মূলে রয়েছে বিজ্ঞান। আজ বিজ্ঞানের কল্যাণে আমরা খুব সহজেই এক যায়গা থেকে অন্য যায়গাতে যেতে পারছি। মন চাইলেই দুরের প্রিয় মানুষের সাথে ভিডিও কল করে কথা বলতে পারছি। এক যুগ আগেও আমাদের ডাক বিভাগের ওপরে ভরসা করতে হল কিন্তু আজ আমাদের ডাক বিভাগ বিলুপ্তির পথে। এমন অনেক অতীত আছে যেগুলো আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তাঁরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে এমন কিছু প্রযুক্তি আমাদের মাঝে আসবে, যা আমাদের ভবিষ্যত পরিবর্তন করে দিতে পারে।

বিগ ডাটা

Maldivica-Big-Data-Processing-300x500

২০১০ সালে গুগলের এক্সকিউটিভ চেয়ারম্যান “এরিক স্মিডট” বলেন, বিশ্বে প্রতি দুই দিনে প্রায় ৫ এক্সাবাইট ডাটা সংরক্ষিত হচ্ছে। “এরিক স্মিডট” বলেন, আমরা ডাটা তৈরি করছি নাহ, আমরা ডাটা সংরক্ষন করছি এবং লক্ষ্য করছি প্রতিদিন কি পরিমান ডাটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে ২০১৪ সালে নভেম্ভর পর্যন্ত এই ডাটা বৃদ্ধির পরিমান ২০১০ সালের থেকে দ্বিগুনের থেকে বেশি হয়েছে। আগামি বছরে ইন্টেল, আইবিএম, গুগল, ফেসবুক এবং আরো প্রযুক্তি জায়ান্ট কোম্পানী গুলো তাদের ডাটা সংরক্ষনের জন্য একটি পাওয়ারফুল ডিসিশন মেকিং টুল তৈরি করেছে। এই টুলসটির ব্যাবহারের ফলে ডাটা ফিল্টারিং এ অনেক পরিবর্তন আসবে, এর ফলে কোন প্রকারের অপ্রয়োজনীয় ডাটা থাকবে না। টেক জায়ান্ট কোম্পানীগুলো ডাটা সরবরাহের ক্ষেত্রে সুপার কম্পিউটার ব্যাবহার করতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

brain

বর্তমানে প্রযুক্তির সকল ব্যবহারের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সবচেয়ে আধুনিক ধরা হয়। ওয়েভ এপ্লিকেশন থেকে শুরু করে হার্ডওয়্যার পর্যন্ত প্রায় সকল কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যাবহার করা হচ্ছে। যেমনঃ মাইক্রোসফট স্কাইপিতে অটোমেটিক ভয়েজ ট্রান্সলেশনের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। স্কাইপিতে অটোমেটিক ভয়েজ ট্রান্সলেশনের জন্য ব্যাবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে “ব্রুট-ফোর্স কম্পিউটিং” বলে। ইউক্রেন বালক ইউজিন গ্রোষ্টম্যানের “ট্রানিং টেষ্ট”, অর্থাৎ কোন ব্যাক্তি যখন কারো সাথে কোন কথা বলার সময় অন্য কি চিন্তা করছে তাহা এই প্রোগ্রাম এক্সিকিউট করতে পারবে। ইউক্রেন বালক ইউজিন গ্রোষ্টম্যানের “ট্রানিং টেষ্ট” কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটি অন্যতম প্রয়োগ।

রোবট

c21a530a5bf2ae7d9d9c6ea5b901f56c_large

এমন যদি বলা যেত, ২০১৫ সাল হবে মনুষ্য রোবটের পূর্ণতার বছর। তাহলে হয়তো আগামী বছর থেকে আমরা মানুষেরা অবসরে চলে যেতাম, আর আমাদের সকল কাজ রোবট করে দিত। তবে হ্যা, বিশ্বের অনেক বড় বড় ইন্ডাষ্ট্রিতে রোবট ব্যাবহার করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা গত কয়েক দশক ধরে মানুষ্য রোবট তৈরি করার চেষ্টা করে যাচ্ছে, ধারনা করা হচ্ছে, ২০১৫ সাল হবে রোবট যুগের বিপ্লবের বছর। এমআইটির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স ল্যাবরেটরির প্রধান “প্রফেসর জুলি এ. সাহ” বলেন- “আগামী বছরে রোবটের সম্ভবত রোবট ম্যানুফেকচারিং প্রসেসে পরিবর্তন আসতে পারে”।

 

সোর্সঃ টেক ম্যগাজি

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.