২০১৪ সাল প্রায় শেসের দিকে। আজকে আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবো এই বছরের আলোচিত ১০ সিইএস আবিস্কারের সাথে যেগুলা ছিল বছর জুড়ে সেরা উদ্ভাবনীর তালিকায়। এই বছরে এমন অনেকগুলা ইলেক্ট্রনিক পণ্য বাজারে এসেছে তবে সব গুলা যে বেস্ট বা আশানুরূপ সারা জাগিয়েছে তা কিন্তু না। চলুন কথা না বাড়িয়ে এবার জেনে নেয়া যাক।

১। আইবাই পাওয়ার স্টিম মেশিন- গেমার দের জন্য ২০১৪ সাল ছিল অনেক চমক পূর্ণ। এই বছরে বাজারে এসেছে আইবাই পাওয়ার স্টিম মেশিন নামের এটি গেমস বক্স। যেটি অনেকটা প্লে-স্টেশনের মতো। এটি এই বছরে বাজারে এসেছে আর বাজারে আসার সাথে সাথে জিতে নিয়েছে সর্বচ্চ পুরস্কার। এটির মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আপনি যখন গেমস খেলবেন তখন অনেক বড় পর্দায় খেলতে পারবেন। এটির পিকচার কোয়ালিটি খুবই ভালো। আর রেজুলেসনও অনেক ভালো।

আইবাই পাওয়ার স্টিম মেশিন

২। এলজি ইসি৯৮০০- এলজি নিয়ে এসেছে ৪কে আলট্রা রেজুলেশন স্মার্ট টিভি। যার মাধ্যমে আপনি দেখতে পাবেন অত্যাধুনিক ছবি সাথে সাথে থাকছে সকল স্মার্ট সুবিধা। যেমন মোবাইলের মতো গেমস খেলা, ইন্টারনেট ব্যাবহার করা, ছবি ওঠানো, স্কাইপ দিয়ে কথা বলা ইত্যাদি। এই পর্যন্ত বাজারে যত স্মার্ট টিভি আসছে তাদের সবাইকে ছাপিয়ে গেছে এটি। আর যার জন্য এটি আছে তালিকার দ্বিতীয় নাম্বারে।

এলজি ইসি৯৮০০

৩। ইন্টেল এদিসন- ইন্টেল তৈরি করেছে এদিসন নামের একটি চিপ যেটি দেখতে ছোটো এবং অনেক কাজের। এটি মাল্টিটাস্ক করার জন্য অনেক নাম কুড়িয়েছে এবং ধরা হচ্ছে যে এখন পর্যন্ত বাজারে আশা এটি বেস্ট চিপ।

ইন্টেল এদিসন

৪। স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট প্রো ১২.২- স্যামসাং এর আগে অনেক মডেলের গ্যালাক্সি ট্যাবলেট নিয়ে এসেছে তবে এটি ছিল অন্যান্য গুলোর থেকে সবচেয়ে বেস্ট। এই মডেলটি মূলত যারা পাওয়ার ইউজার তাদের কথা ভেবে তৈরি করা হয়েছে। শক্তিশালী প্রসেসর, বড় ডিসপ্লে, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, মাল্টিটাস্কিং ইত্যাদি সব মিলিয়ে এক অসাধারণ প্রযুক্তি হয়েছে এটি। তাই সবার নজর এখন স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট প্রো এর ওপরে।

স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট প্রো ১২.২

৫। সনি প্লেস্টেশন নাও- সনি বাজারে নিয়ে এসেছে প্লে স্টেশন নাও নামের একটি গেমিং ডিভাইস। গেমস খেলার অভিজ্ঞতা পাল্টানোর জন্য এর আগে সনির অনেক নামডাক শোণা গেছে। তার ধারাবাহিকতায় এই বছরে বাজারে এসেছে এটি। আপনি এটি গেমস খেললে মনে হবে যেন গেমের চরিত্রে আপনি নিজেই বনে গেছেন। এতোটা রিয়ালিটি আছে এর গ্রাফিক্স কোয়ালিটিতে।

সনি প্লেস্টেশন নাও

৬। অকুলাস রিফট ক্রিস্টাল কোভ- গেমস খেলার জন্য এটি আরেকটি প্রযুক্তি। এটি অনেকটা থ্রিডি চশমার মতো। চোখে পরে নেবার পরে আপনি গেমস খেলবেন দেখবেন মনে হবে সবকিছু একেবারে জীবন্ত দেখাবে তারপর। নতুন এই পণ্যটি পেয়েছে তালিকার ৬ নাম্বারে আসার শুজক।

অকুলাস রিফট ক্রিস্টাল কোভ

৭। মস, ডাইনামিক রোবট- এই এমন এক ধরনের রোবট যাকিনা বিভিন্ন খন্ডে বিভক্ত করা থাকে। ছোটো বেলায় আমরা যেমন ম্যাজিক ব্রিকস দিয়ে রোবট তৈরি করতাম এটিও ঠিক তেমনি কিছু। আপনি আপনার ইচ্ছা মতো বিভিন্ন আকৃতির করে রোবট তৈরি করতে পারবেন।

মস, ডাইনামিক রোবট

৮। অদি স্পোর্টস কুয়াট্র লেজারলাইট- এটি অসাধারণ একটি প্রযুক্তি যা গাড়ির লাইট জগতে এক বিপ্লব ঘটিয়েছে। লেজার লাইট মানেই নতুন কোন চমক। সাধারণ লাইটে যে সমস্যাটি হয়ে থাকে যে, লাইটের আলোয় খুব বেশিদূর দেখা যায়না। আর শীতকালে ঘন কুয়াশা পরলে তো কথায় নাই। এই লাইট যেখান থেকে আপনি চালু করবেন সেখান থেকে সামনের প্রায় ৫০০ মিটার পর্যন্ত পরিস্কার দেখা যাবে।

অদি স্পোর্টস কুয়াট্র লেজারলাইট

৯। সনি ৪কে প্রোজেক্টর- আবারো সনির নাম বলা লাগলো কারন সনি এই বছর বাজারে নিয়ে এসেছে ৪কে প্রোজেক্টর। যারা নিজের ঘরে সিনেমা হলের মতো ছবি দেখতে পছন্দ করেন তাদের জন্য এটি বেস্ট একটি প্রোজেক্টর।

সনি ৪কে প্রোজেক্টর

১০। এলজি টাচ এবং হার্ট রেট হেডফোন- এই অভূতপূর্ব হেডফোন দিয়ে একই সাথে গান শুনতে পারবেন আবার হাতে যে ব্রেসলেট ডিভাইস থাকবে সেটির ডিসপ্লে তে দেখাবে আপনার হার্ট বিট রেট কখন কেমন থাকছে।

 এলজি টাচ এবং হার্ট রেট হেডফোন

এই ছিল গত বছরের সবথেকে আলোচিত প্রযুক্তি পণ্য যেগুলা গত বছর জুড়ে বাজার গরম করে রেখেছিলো। আগামী ২০১৫ সালে বাজারে আসার জন্য অনেক পণ্য অপেক্ষাই আছে দেখা যাক আগামী বছর কোন পণ্য গুলা বাজার গরম করে রাখে।

comments

2 কমেন্টস

  1. একটা স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট প্রো ১২.২ পেলে মন্দ হতো না 😛

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.