পুরনো অলংকার সর্বদা আকর্ষণ করে প্রত্নসন্ধানীদের ছবি সূত্রঃ গুগল

সংগ্রাহককারীদের জন্য কিংবা যারা ঐতিহাসিক বিভিন্ন আর্টিফ্যাক্ট বা নিদর্শন খুঁজতে পছন্দ করেন তাদের জন্য একটি চমকপ্রদ সংবাদ রয়েছে।
দুজন নবিশ প্রত্নতাত্ত্বিক মেটাল ডিটেক্টরের সাহায্যে ইংল্যান্ডের একটি পুরনো জমি থেকে দুই হাজার বছরের পুরনো একটি স্বর্ণের টর্ক খুঁজে পেয়েছেন। মেটাল ডিটেক্টর হচ্ছে ধাতব বস্তু খুঁজে পাবার জন্য একটি যন্ত্রবিশেষ। সাধারণত ভূমির নিচে লুকিয়ে থাকা কোন ধাতব বস্তু খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

স্বর্ণালংকারটির পরিচয়ঃ

প্রাপ্ত স্বর্ণের টর্ক বা নেকলেস  ছবি সূত্রঃ লাইভ সাইন্স
প্রাপ্ত স্বর্ণের টর্ক বা নেকলেস
ছবি সূত্রঃ লাইভ সাইন্স

কার্বন টেস্টে জানা গিয়েছে যে এই টর্কটি ব্রেসলেট কিংবা নেকলেস হিসেবে ব্যবহার করা হত। খ্রিস্টপূর্ব ৪০০-২৫০ অব্দের মধ্যে এটির ব্যবহার প্রচলিত ছিল এবং ব্রিটেনে প্রাপ্ত লৌহযুগের মধ্যে এটি অন্যতম পুরনো একটি আর্টিফ্যাক্ট। লন্ডন ব্রিটিশ মিউজিয়ামের কিউরেটর জুলিয়া ফার্লে বলেন,
“এই নেকলেসটির ধাঁচ দেখে বোঝা যাচ্ছে যে ঐ সময়কার কোন ধনী এবং আর্থিকভাবে স্বচ্ছল কোন নারীর শরীরে এটি শোভা পেত।” তিনি আরও বলেন যে, এই নারী হয়তবা ইউরোপিয়ান কোন অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন।

অলংকারটি পাওয়ার পর থেকে একদল প্রত্নতাত্ত্বিক স্টক-অন-ট্রেন্ট সিটি কাউন্সিলের পক্ষ থেকে উক্ত স্থানে একটি খনন কর্ম চালান। কিন্তু এই কাজের ফলে কোন পুরনো কবর কিন্তু রত্নভাণ্ডারের সন্ধান পাওয়া যায় নি, যার ফলে তারা নিশ্চিতভাবেই বলতে পারবেন যে এটি কোথা হতে এসেছে। এখন তারা এটি সম্পর্কে নিশ্চিত নন। তারা আরো গবেষণা করতে চান।
ফার্লে তার দেয়া একটি মতামতে বলেন যে,
“এই অলংকারটির সাহায্যে একটি জিনিস সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত যে, ব্রিটেনের লৌহযুগের সময়কার কামারেরা এই ধরণের অলংকার তৈরিতে পারদর্শী ছিল।”

মেটাল ডিটেক্টরে যারা খুঁজে পেলেনঃ

২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে দুই নবিশ প্রত্নসন্ধানী মার্ক হ্যাম্বলটন এবং জো ক্যানিয়া স্বর্নালংকারের একটি বাক্স খুঁজে পান। কিন্তু এতদিন গবেষণা কাজের জন্য ঐ বাক্স সম্পর্কে কোন তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয় নি। আগামী তিন সপ্তাহ এটি দর্শক প্রদর্শনীর জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে মার্ক ও ক্যানিয়ার মত যারা নবিশ প্রত্নসন্ধানী রয়েছেন, তাদেরকে মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করে খনন কার্য চালানোর অনুমতি দেয়া হয়। তবে এখানেও কোথা আছে। যদি কারো ব্যক্তিগত ভূমির ওপর খননকার্য চালানো হয়, তবে তার অনুমতি সাপেক্ষে এই কাজটি করা যেতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে তারা সরকারী সুযোগ সুবিধাও পাবেন। অনেক সময় নবিশ ও প্রফেশনাল প্রত্নসন্ধানীদের সাথে এটি নিয়ে বেশ একচোট কথা কাটাকাটি হতেও দেখা যায়।

যারা যারা কোন সম্পদ খুঁজে পাবেন, তাদের অবশ্যই তা সরকারের কাছে হস্তগত করতে হবে। তবে কৃতিত্বের ভাগটা তারা অবশ্যই পাবেন।

সূত্রঃ লাইভ সাইন্স

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.