রিপা দাসঃ একটি গবেষণায় প্রায় ১০২৪টি ছোট ছোট রোবটের নকশা করা হয়েছে যে রোবটগুলোদলবদ্ধ হয়ে পাখির কিংবা মৌমাছির ঝাঁকের মত করে সাগর তলের তারামাছ বা ইংরেজি বর্ণমালা তৈরি করতে পারে। এই ১০২৪টি রোবটকে একত্রে নাম দেয়া হয়েছে “কিলোবোটস” । তাদেরকে এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যেন তারা কীটপতঙ্গের মত আচরণ করতে পারে এবং গ্রুপের সদস্য হিসেবে একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারে।

মৌমাছির ঝাঁক অথবা পশুদের পালের মত করে শত শত রোবট সেনা নিজেদের সহযোগিতায় কোনো মানুষের সাহায্য ছাড়াই যেকোন আকার গঠন করতে পারে। নিকটবর্তী রোবটের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করার জন্য তাদের পৃষ্ঠে স্লাইড কম্পন মোটর এবং ইনফ্রারেড আলো যুক্ত করা হয়েছে। কিলোবোটসের সহযোগীতামূলক ক্ষমতা নিখুঁত করার লক্ষ্যে  গবেষকরা Cooperative Monitoring বৈশিষ্ট্য তাদের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। কিলোবোটস তাদের নিজেদের ভুল সংশোধন করতে পারে। মনে প্রশ্ন জাগছে তো কিভাবে সম্ভব?

মনে করুন জ্যামের কারণে কোথাও একটি রোবট চলার পথে বন্ধ হয়ে গেল। তখন অবশ্যই পুরো রোবটের ঝাঁকের মধ্যে সেই সমস্যার বার্তা সঞ্চালিত হবে এবং এই সমস্যা সমাধান করার জন্যে একে অপরের সাথে কাজ করতে তারা এগিয়ে যাবে।

গবেষক ও লেখক রাধিকা নাগ পাল একটি বিবৃতিতে বলেন, “কিছুস্তরে আপনি আর কাউকে আলাদা করতে পারবেন না বরং আপনি যৌথভাবে একটি সত্তাকে আত্মপ্রকাশ করতে দেখতে পাবেন।”

এই ছোট মেশিন দেখতে একটি পয়সার মত (২সে.মি) কিন্তু এত ছোট হওয়া সত্ত্বেও কিলোবোটস বড় কাজ খুব সহজে করতে পারে।তাদের সমন্বয় দ্বারা তারা শত শত ত্রিমাত্রিক আকার গঠন করতে পারে।

অন্যান্য কীটপতঙ্গের আচরণ অনুকরণ করে তারা সম্মিলিতভাবে পিঁপড়ে,মৌমাছিদের মত উপনিবেশ, সেতু এবং রাফ্টের মত জটিল কাঠামো নির্মাণ করতে পারবে যদি বিপুলসংখ্যায় একসাথে কাজ করে। কিন্তু পৃথক থেকে একটি দলের খেলোয়াড়দের জন্ম হয়না তাই একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারে এমন করে নির্মাণ করা হয়েছে এই কিলোবোটসদের।

রোবট তৈরি খুবই জটিল এবং ব্যয়বহুল কাজ। আর সেটা আরও কষ্টকর হয়ে উঠে যখন আপনি একটি রোবটের সৈন্যনির্মাণের কাজে হাতে দেন। কিন্তু মাইকেল রুবেন ইস্টেন অপেক্ষাকৃত সস্তা এবং সহজভাবে উন্নয়নশীল রোবট নির্মাণের চ্যালেঞ্জ পূরণ করতে পেরেছেন। তাইতো এই রোবটের মাঝে শুধুমাত্র একটি সেন্সর যুক্ত করা হয় তাদের নিকটবর্তী সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা অক্ষত রাখার লক্ষ্যে এবং নিকটবর্তী সঙ্গী থেকে দূরত্ব পরিমাপের জন্য একটি ইনফ্রারেড যোগাযোগ সেন্সর যুক্ত করা হয়। তাদের তিনটি দৃঢ় পায়ের পৃষ্ঠতলের উপর স্লাইড করার জন্য যে দুই স্পন্দিত মোটর জড়িত করা হয় তা তাদের চলার ক্ষেত্রে খুব সহজ উপায় হিসিবে গণ্য হয়েছে। চাকা ব্যবহার করে চলা খুব একটা ভাল হয়না এই কিলোবোটসদের ক্ষেত্রে। যেমন ধরুন, যদি চাকা ব্যবহার করা হত এবং চলার সময় হঠাৎ চাকা খারাপ হয়ে যেত তবে পুরো রোবটের ঝাঁকের উপর এর প্রভাব পরত। তাদের চলার ক্ষেত্রে অনেক অসুবিধার সৃষ্টি হত চাকা যুক্ত করা হলে। একটি রোবট নড়তে না পারলে তার সাথে অন্যরোবটদের অপেক্ষা করতে হত তার সরবার জন্য এবং তারপর সব রোবট সরানো একটি জটিল ব্যাপার হয়ে দাঁড়াত। তাইতো তাদের গঠন আকৃতিতে বিশেষ লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

গবেষকরা কিলোবোটস গঠনে ইনফ্রারেড কমান্ড ব্যবহার করেছেন। এই কমান্ড দ্বারা রোবটদের জানানো হয় কখন কোন আকৃতি ধারন করতে হবে। প্রতি সেকেন্ডে এক সেন্টিমিটার নড়তে পারে তারা কিন্তু ধীর গতির হলেও কাজ ঠিকঠাকমত করে এই ক্ষুদে আকৃতির রোবটগুলো। একটি প্রদত্ত কমান্ডের ভিত্তিতে ১২ ঘন্টার অধীনে আকৃতি গঠন করতে পারে এই ক্ষুদে রোবটের ঝাঁক। মহাকাশে অনেক জিনিস বহন করে নেওয়াটা অনেক সমস্যার ব্যাপার। এই ক্ষেত্রে এই কিলোবোটসগুলো অনেক কাজে আসতে পারে ভবিষ্যতে।

এত উপকারী রোবটদের আরো উন্নত করে ঝাঁকেঝাঁকে নির্মাণের জন্য একটি পরীক্ষা পরিবেশন করা হবে।

প্রকৃতির দিকে তাকালে আপনি দেখতে পাবেন লক্ষলক্ষ পিঁপড়ে একসাথে কাজ করে যাচ্ছে এবং আপনি জানেন যে একটি বহুকোষী জীব গঠিত হয় বহু ট্রিলিয়ান কোষের সমন্বয়ে। ঠিক তেমনিভাবে একটি লক্ষ্য কিংবা কমান্ড দেওয়া মাত্র অসংখ্য রোবট কাজে লেগে যায়।

গবেষকদের ধারণা তারা ভবিষ্যতে অন্য অনেক আউট কারিগরির রোবট নির্মাণ করতে সক্ষম হবেন ।আপনি একটি মিলিয়ন বালি শস্য আকারের রোবটপূর্ণ একটি বালতি হয়ত কল্পনা করছেন এই মুহূর্তে। এই কল্পনা বাস্তব হতে কতক্ষণ।

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.