আমরা যারা ব্লগ বা এস.ই.ও. নিয়ে কাজ করি তারা ব্যাকলিঙ্ক শব্দটার সাথে পরিচিত। আপনি যদি ব্যাকলিঙ্ক এর সাথে পরিচিত থাকেন তাহলে আপনি অবশ্যই হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিঙ্ক শব্দটির সাথেও পরিচিত। হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিঙ্ক এর উপরে নির্ভর করবে আপনি এস.ই.ও. থেকে কতটুকু লাভবান হবেন। হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিঙ্ক এর মাধ্যমেই আপনার টার্গেটেড কীওয়ার্ডকে সার্চ ইঞ্জিনে ভালো অবস্থায় নিয়ে যেতে পারবেন আর সার্চ ইঞ্জিন থেকে আপনি ভালো পরিমান ভিজিটর পাবেন।

আমরা শুধু বলেই থাকি হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিঙ্ক, কিন্তু অনেকেই জানি না আসলে হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিঙ্ক কি? একটা ব্যাকলিঙ্ক এর কি কি গুন থাকলে বুঝবো যে সেইটা হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিঙ্ক।

চলুন দেখে নেওয়া যাক হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিঙ্ক এর কিছু বৈশিষ্ট্য।

  • ব্যাকলিঙ্কটি অবশ্যই হাই পেজরেঙ্ক ওয়েবসাইট/ব্লগ থেকে হতে হবে
  • ব্যাকলিঙ্কটি অবশ্যই হাই ডোমেইন অথরিটি এবং পেজ অথরিটি সাইট থেকে হতে হবে
  • কোন মতেই ব্যকলিঙ্কটা পেইড হতে পারবে না
  • এমন সাইট/ব্লগ থেকে ব্যাকলিঙ্ক হতে হবে যাদের প্রতিদিন অনেক বেশী পরিমান ভিজিটর হয়
  • কন্টেন্ট থেকে ব্যাকলিঙ্ক
  • ডু-ফলো ব্যাকলিঙ্ক
  • নন-রেসিফোকাল ব্যাকলিঙ্ক

এইবার চলুন দেখে নেওয়া যাক কিভাবে হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিঙ্ক তৈরী করবেন।high quality backlinks

১. সিমিলার সাইট/ব্লগে কমেন্টস করা

এখন পর্যন্ত ব্লগ কমেন্টিং হচ্ছে হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিঙ্ক এর সবচেয়ে বড় একটি উৎস। আপনি খুব সহজেই আপনার ব্লগ/সাইট এর নিশ অনুযায়ী ব্লগ খুঁজে বের করে সেখানে কমেন্টস করার মাধ্যমে হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিঙ্ক করতে পারবেন। আপনি যদি অন্যদের ব্লগে ভালো কমেন্ট করতে পারেন তাহলে সেখান থেকে অনেক রেফারেল ভিজিটরও পাবেন। গুগলে সার্চ করেই আপনার ব্লগ/সাইট রিলেটেড নিশ ব্লগ খুঁজে পাবেন।

২. আর্টিকেল সাবমিশন

আর্টিকেল সাবমিশন আরেকটি গুরুত্বপূর্ন মাধ্যম যার সাহায্যে অনেক হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিঙ্ক করা সম্ভব। এইটা অনেকটা গেষ্ট পোষ্টিং এর মতো এবং আপনি যদি ব্লগিং বা এস.ই.ও. তে নতুন হয়ে থাকেন তাহলে এটি হয়তবা আপনার জন্য কিছুটা কঠিন হতে পারে। কারন আর্টিকেল সাবমিশন এর জন্য ভালো আর্টিকেল লিখতে হয়। এছাড়া এতে কিছুটা ধৈর্য্য আর সময় দরকার হয়।

* আর্টিকেল সাবমিশন সাইট লিষ্ট

৩. গেষ্ট পোষ্টিং

গেষ্ট পোষ্টিং এর কথা শুনলে অনেকেই ভয় পান কারণ বেশিরভাগ ক্ষেতে এটি আর্টিকেল সাবমিশন থেকেও বেশি কঠিন। আপনি যদি ভালো কন্টেন্ট রাইটার না হন আর অন্যান্য ব্লগারদের সাথে আপনার ভালো যোগাযোগ না থাকে তাহলে সহজে আপনি ভালো কোন ব্লগে গেষ্ট পোষ্টিং করে হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিঙ্ক তৈরী করতে পারবেন না। এছাড়া আপনি গুগলে সার্চ করে আপনার সাইট এর নিশ রিলেটেড ব্লগ/সাইট খুঁজে বের করতে পারেন যা সহজেই গেষ্ট পোষ্ট অ্যাপ্রোভ করে।

৪. ডিরেক্টরি সাবমিশন

অনেকেই বলে এখন আর ডিরেক্টরি সাবমিশন থেকে এখন আর হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিঙ্ক পাওয়া যায় না। কিন্তু আপনি যদি সঠিকভাবে ডিরেক্টরি সাবমিশন করতে পারেন তাহলে হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিঙ্ক পাওয়া সম্ভব। ডিরেক্টরি সাবমিশন করার সময় অবশ্যই মনে রাখবেন যে ডিরেক্টরি যাতে হাই পেজ র‍্যাঙ্ক, এলেক্সা র‍্যাঙ্ক, ডোমেইন অথরিটি এবং পেজ অথরিটি এর হয়।

* হাই পেজ র‍্যাঙ্ক ডিরেক্টরি সাইট লিষ্ট

৫. সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে লিঙ্ক শেয়ার করা

সোশ্যাল মিডিয়ে সাইটে লিঙ্ক শেয়ার করার মাধ্যমে আপনি সহজেই আপনার সাইট/ব্লগে অনেক রেফারাল ভিজিটর পেতে পারেন। সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ারিং যে শধু মাত্র রেফারেল ভিজিটর এর জন্য তা কিন্তু নয়, এটি সার্চ ইঞ্জিনে আপনার সাইট/ব্লগের র‍্যাঙ্কিং এ ও অনেক সাহায্যে করবে। এছাড়া অনেক সোশ্যাল মিডিয়া সাইট থেকে হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিঙ্ক ও পাবেন।

* হাই পেজ র‍্যাঙ্ক সোশ্যাল মিডিয়া সাইট লিষ্ট

৬. ডকুমেন্টস শেয়ারিং

ডকুমেন্টস শেয়ারিং করে সহজেই হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিঙ্ক তৈরী করা যায়। আপনার ব্লগ/সাইট এর নিশ রিলেটেড কিছু ইবুক, পি.ডি.এফ. ফাইল এবং প্রেসেন্টেশন তৈরী করে সেইগুলা বিভিন্ন হাই পেজ র‍্যাঙ্ক, এলেক্সা র‍্যাঙ্ক ও ডোমেইন অথরিটির ডকুমেন্টস শেয়ারিং সাইট এ পাবলিশ করতে পারেন। ডকুমেন্টস গুলো তৈরী করার সময় সেগুলার মধ্যে আপনার সাইট এর ব্যাকলিঙ্ক দিয়ে দেন, তাহলেই সহজেই হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিঙ্ক পেয়ে যাবেন।

* ডকুমেন্টস শেয়ারিং সাইট লিষ্ট

৭. ব্লগ এর আর.এস.এস. ফিড সাবমিশন

ডিরেক্টরি সাইট এর মত অনেক সাইট রয়েছে যেখানে আপনি আপনার ব্লগ এর আর.এস.এস. ফিড এর লিঙ্ক সাবমিট করতে পারবেন। এতে করে যখনই আপনার ব্লগে নতুন কোন পোষ্ট দিবেন তখন সয়ংক্রিয়ভাবে পোষ্ট এর লিঙ্কগুলো ঐ আর.এস.এস. ডিরেক্টরিতে চলে যাবে আর আপনি পেয়ে যাবেন কোয়ালিটি ব্যাকলিঙ্ক।

৮. ভিডিও মার্কেটিং

হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিঙ্ক করার জন্য ভিডিও মার্কেটিং এখনকার সময়ের জনপ্রিয় আরেকটি উপায়। আপনার ব্লগ/সাইট এর টপিক অনুযায়ী কিছু ভিডিও টিওটোরিয়াল তৈরী করুন তারপর সেগুলা জনপ্রিয় কিছু ভিডিও শেয়ারিং সাইট যেমন ইউটিউব, ডেইলিমোশন, ভিমো ইত্যাদি তে সাবমিট করে সেখান থেকে ব্যাকলিঙ্ক পেতে পারেন।

৯. প্রেস রিলিস সাবমিশন

এইটা অনেক পুরাতন একটি টেকনিক কিন্তু এখনো হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিঙ্ক করার জন্য অনেক কাজে দেয়। কিছু হাই পেজ র‍্যাঙ্ক এবং ডোমেইন অথরিটি এর প্রেস রিলিস সাইট খুঁজে বের করুন তারপর সেইগুলাতে আপনার ব্লগ/সাইট সম্পর্কে ইউনিক প্রেস রিলিস সাবমিট করুন যাতে সহজেই পাবলিশ হয়ে যায়।

* প্রেস রিলিস সাবমিশন সাইট লিষ্ট

১০. ফোরাম পোষ্টিং

ফোরাম পোষ্টিংও ব্যাকলিঙ্ক তৈরী করার অনেক পুরাতন এবং জনপ্রিয় একটি উপায় যার মাধ্যমে সহজেই ব্যাকলিঙ্ক করা যায়। অনেকের মতে ফোরাম এর ব্যাকলিঙ্ক এখন আর এস.ই.ও. তে কোন প্রভাব ফেলে না। কিন্তু আপনি যদি যথাযথ ভাবে ফোরাম পোষ্ট করতে পারেন তাহলে এখনো ফোরাম এর ব্যাকলিঙ্ক হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিঙ্ক এর কাজ করে।

* হাই পেজ র‍্যাঙ্ক ফোরাম লিষ্ট

comments

4 কমেন্টস

  1. ধন্যবাদ, অনেক কিছু জানার ছিল। আমরা অনেকে অনেক কিছুই জানি না। আপনা এই পোস্টটি দ্বারা অনেকে কিছু তথ্য জানতে পারলাম।

  2. দেরি করে রিপ্লে দেওয়ার জন্য দুঃখিত। আমি অনলাইনে ছিলাম না গত কয়েকদিন।
    যাইহোক, https://genhost.in/ এর ৪টা ডোমেইন থেকে ১১টা ব্যাকলিঙ্ক আছে, আর পেজ রেঙ্ক এর জন্য শুধু মাত্র ব্যকলিঙ্ক-ই শুধু মাত্র ফ্যাক্টর না, আরো অনেক ফ্যাক্টর আছে।

  3. SEO সম্পর্কে অনেক কিছু জানলাম । আরো বিস্তারিত জানতে চাই । কিভাবে?

  4. ডিরেক্টরি সাবমিশন করলে কি গুগল থেকে পেনালাইজড হবার সম্ভাবনা আছে?

LEAVE A REPLY

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.