ইউরোপের সবচেয়ে বড় স্টার্টআপ প্রযুক্তি ইভেন্ট ‘স্ল্যাশ ২০১৬ গ্লোবাল ইমপ্যাক্ট এক্সিলারেটর’-এ অংশগ্রহণের জন্য প্রথমবারের মতো দুজনকে ফিনল্যান্ডে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় আয়োজক এম-ল্যাব।বাংলাদেশ থেকে স্ল্যাশ গ্লোবাল ইভেন্টে অংশগ্রহণের জন্য বিজয়ী হয়েছে ‘এরএক্স৭১ লিমিটেড’ এবং ‘টেন মিনিট স্কুল’ নামে দুটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ। বাংলাদেশে মোট ৭৭ জনের মধ্যে থেকে জুরী বোর্ড কয়েকধাপে যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার জন্য ৩ জনকে এবং সেখান থেকে স্ল্যাশ কর্তৃপক্ষ ২ জনকে মনোনিত করে।আগামী ২২ নভেম্বর ১ ডিসেম্বর ফিনল্যান্ডের হেলসিংকিতে অনুষ্ঠিতব্য এই ইভেন্টে অংশ নিয়ে বিশ্বের বড় বড় অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে নিজেদের উদ্ভাবনী প্রকল্প তুলে ধরতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন বিজয়ীরা। সেখান থেকে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকল্প পছন্দ হলে মিলতে পারে অর্থায়নসহ অন্যান্য সহায়তা। এবছর ১০০টির বেশি দেশ থেকে হেলসিংকিতে ১৫ হাজার দর্শনার্থী স্ল্যাশ গ্লোবাল ইমপ্যাক্ট এক্সিলারেটরে অংশ নেবে।

স্লাশের ওয়েবসাইটে সম্প্রতি ‘জিআই্এ’ প্রতিযোগি হিসেবে ফিনল্যান্ডের বৈশ্বিক ইভেন্টে নির্বাচিত প্রতিযোগিদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। বৈশ্বিক এই বড় আয়োজনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের দায়িত্ব পেয়েছে এম-ল্যাব। এমসিসি লিমিটেডের এই সহযোগি প্রতিষ্ঠান মোবাইলঅ্যাপ ভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরীতে দক্ষতা উন্নয়ন ও কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি তাদের বৈশ্বিক পর্যায়ে তুলে ধরার মাধ্যমে উদ্ভাবনের সর্বোচ্চ বিকাশের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নিয়েছে। আর এই লক্ষে এম-ল্যাব, স্ল্যাশ এবং ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে গত ২৬ আগষ্ট ঢাকায় শুরু করে ‘স্ল্যাশ ২০১৬ গ্লোবাল ইমপ্যাক্ট এক্সিলারেটর’ শীর্ষক ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতা। প্রযুক্তি বোদ্ধা জুরি বোর্ড সদস্যরা দুটি প্রকল্পকে হেলসিংকির বৈশ্বিক ইভেন্টের জন্য নির্বাচিত করে।

এই আয়োজন সম্পর্কে স্ল্যাশের হেড অফ গ্লোবাল অপারেশন্স ওলগা বালাকিনা বলেন, ‘আমরা স্ল্যাশ গ্লোবাল ইমপ্যাক্ট এক্সিলারেটর ইভেন্টে বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো অর্ন্তভূক্ত করতে পেরে আনন্দিত। এই অঞ্চলের স্টার্টআপ প্রযুক্তিগুলো বৈশ্বিক পর্যায়ে গিয়ে সমগোত্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজেদের তুলে ধরতে পারবে, পারস্পারিক মতবিনিময়ের সুযোগ পাবে। এছাড়া বিশ্বের বড় বড় ভেঞ্চার ক্যাপিট্যাল কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে অর্থায়নও পেতে পারেন। সবচেয়ে প্রভাবশালী এই ইভেন্টে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো ভালো করবে বলে আশা করি।’

এ প্রসঙ্গে এম-ল্যাবের সমন্বয়ক নাজমুল হাসান বলেন, ‘এম-ল্যাবের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে মোবাইলভিত্তিক স্টার্টআপকে বিকশিত করতে দক্ষতা ও উন্নয়ন এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করা। সেই দায়বদ্ধতা থেকে আমাদের দেশের উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রথমবারের মতো স্ল্যাশ গ্লোবাল ইমপ্যাক্ট এক্সিলারেটর ইভেন্টে অংশ নিয়ে সাফল্য দেখাবে।’

আরএক্স৭১ এর সহ প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন  বলেন, স্ল্যাশের বৈশ্বিক ইভেন্টে বাংলাদেশের উদ্যোগ হিসেবে আরএক্স ৭১ অংশ নেবে এটা গর্বের বিষয়। এই ধরনের ইভেন্টে এবারই প্রথম আমরা অংশ নিচ্ছি। গত ২ বছরের বেশি সময় ধরে ৬০ জনের বেশি উদ্যমী তরুণ মিলে গবেষণালব্ধ তথ্য দিয়ে এই সার্ভিসটি আমরা চালু করা হয়েছে। গত মে মাসে সার্ভিসটি চালু করার পর আমরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। এই ৫ মাসে সাড়ে তিন লাখ মানুষ প্রায় ৪৫ লাখের বেশিবার আমাদের সার্ভিস নিয়েছে। এতদিন আমরা নিজস্ব ফান্ডিংয়ে চলেছি। এখন মানুষের কাছে সেবাটি পৌঁছানোর জন্য বড় অঙ্কের বিনিয়োগ দরকার। বিশ্বের বড় বড় বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই আমরা স্ল্যাশ’কে বেছে নিয়েছি।

নিজাম উদ্দিন বলেন, আরএক্স৭১ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের স্বাস্থ্যগত সমস্যার সমাধান দেবার চেষ্টা করে থাকে।  যেমন আমাদের অন্যতম একটা সমস্যা হলো, কোন ডাক্তার এর কাছে যাব, এইটা বুঝতে না পারা। এমনকি অ্যাপটি আপনার শারীরিক ও মানসিক লক্ষণের ভিত্তিতে আপনার সম্ভাব্য রোগের তালিকা দেওয়ার সঙ্গে রোগের বিস্তারিত তথ্যও দেবে।

‘টেন মিনিট স্কুল’ হচ্ছে ১০ মিনিটে কোনো বিষয়ে কিছু শিখতে চাওয়া বা নিজের দক্ষতা যাচাই করার একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। এই সাইটটিতে অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক  থেকে শুরু করে আইবিএ, মেডিকেল, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সহ¯্রাধিক ‘কুইজ’ পরীক্ষার প্রশ্ন পাওয়া যায়। দ্রুত ফল ও র‌্যাংকিং দেখার সুবিধাও আছে। এখানে পরীক্ষা প্রস্তুতি নেওয়ার ব্যবস্থা আছে। টিউটোরিয়াল ভিডিওগুলোর দৈর্ঘ্য ১০ মিনিটের কম। এখানে লাইভ ক্লাশে অংশগ্রহনের সুযোগও আছে। এর ওয়েবলিংক (http://10minuteschool.com) ।

টেন মিনিট স্কুলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আইমান সাদিক বলেন, স্লাশ গ্লোবাল ইভেন্টে অংশ গ্রহন একটি বড় সুযোগ। আর আমরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বড় বড় ভেঞ্চার ক্যাপিট্যাল কম্পানির দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করবো। বাংলাদেশের আমাদের উদ্ভাবনী স্টার্টআপকে পর্যায়ে নিয়ে যেতে সহায়তার জন্য আমরা এম-ল্যাবকে ধন্যবাদ জানাই।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.