নিজের ইচ্ছাবলে আপনিও হতে পারেন একজন উদ্যোক্তা

জীবনে একটি সেকেন্ড ইনিংস শুরু করা মানে হচ্ছে একটি নতুন দিনের শুরু, নতুন ভাবে সব কিছু গুছিয়ে আরো একবার যাত্রা করা। তাই বলে আবার ভাববেন না যেন এটি শুধুমাত্র ক্রিকেটের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। যেমন ধরুন স্যাম স্যান্থশের কথাই। শুরুটা করেছিলেন একটি সফটওয়্যার কোম্পানী থেকে। আস্তে আস্তে তা চলে যায় জেনেটিক গবেষণার দিকে। এছাড়াও প্রাচীন বিষয় নিয়ে গবেষণা ও প্রত্নতাত্বিক আবিষ্কারাদি নিয়েও তার আগ্রহ প্রচুর।
তার প্রথম বিজয়ের গল্পটা শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করার মাধ্যমে এবং তিনি এরপর “ক্যালসফট” নামে একটি আইটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। ১৯৯২ সালে চালু করা এই দারুণ প্রতিষ্ঠানটি ২০০৯ সালে বিক্রি করে দেন এবং তার জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেন।
এবার তিনি যে কাজগুলো শুরু করেন তা অনেক প্রশংসনীয়। তিনি একাধারে উদ্যোক্তা ও যারা বিজ্ঞান বিষয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্যোগী হয়ে কাজ করতে চায়, তাদের তিনি অর্থ সাহায্য করবার মাধ্যমে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রাকে আরো ত্বরান্বিত করতে শুরু করেন। এছাড়াও ইতিহাস, গণিত ও নানা ধরণের বিষয়ে তিনি তার আগ্রহ বিস্তার করেন। আজ থেকে ৩০ বছর আগে কম্পিউটার আবিষ্কার হবার মাধ্যমে যেমন মানবজাতির মাঝে এক ধরণের আমূল পরিবর্তন এসেছিল, জেনেটিক রিসার্চের ক্ষেত্রেও স্যাম একটি ভরসার নাম। SciGenom Inc.-নামের গবেষণা ও উন্নয়ন বিষয়ক একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নেন স্যাম ২০১০ সালে।

স্যাম স্যান্থশ
স্যাম স্যান্থশ

“পুরো কাজটি করবার জন্য প্রচুর শ্রম দিতে হয়েছে আমাকে। তিন বিলিয়ন ডলার, ১২ বছরের লালিত শ্রম ও স্বপ্ন বিফলে যেতে পারে না। তাছাড়া পৃথিবীর ১৫টি উন্নত দেশে আমি জিনোম কোড বিষয়ক রিসার্চের জন্য ঘুরেছি। এর ফলে আমার অভিজ্ঞতার ঝুলিটাও বেশ ভারী এবং সাথে সাথে আমি এখন বুঝতে পারি কেমন করে আমাকে আরো সামনে এগিয়ে যতে হবে।
স্টিভ জবস যদি ভারতে আসতেন, তাহলে অবশ্যই তিনি অ্যাপল ফোন তৈরি করার চিন্তাভাবনা করতেন। হয়ত একদিন পারতেনও। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে তার মাথায় ভারতীয় ধ্যান ধারণা ও সে বিষয়ক প্রচারণার কথা ঘুরত। এই অবস্থায় কতটুকু তিনি সফল হতে পারতেন তা নিয়ে আমি বেশ সন্দিহান। কিন্তু আজকের বিশ্বে অ্যাপলের ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখুন। শুরুটা আপনাকে এভাবেই করতে হবে। শুধু স্বপ্নটা নিয়ে এগিয়ে যান। আমিও একদিন আমার জিনোম রিসার্চ সেন্টারের মাধ্যমে সমগ্র মানবজাতিকে আরো একধাপ সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবার স্বপ্ন দেখতে চাই।”- একটি বক্তৃতায় বলেন স্যাম স্যান্থশ।
বর্তমানে তিনি তার রিসার্চ সেন্টারে নানা গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা নিয়ে কাজ করছেন। একই সাথে ইতিহাসের নানা প্রশ্নের উত্তর জানতেও তিনি ঘুরছেন এক দেশ থেকে আরেক দেশে হন্যে হয়ে। আমাদের বর্তমানের তরুণ প্রজন্ম তার থেকে অনেক কিছু শিক্ষা নিতে পারে।

সূত্রঃ The Hindustan Times

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.