আইইই এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই ট্যাটু হবে অস্থায়ী। অর্থাৎ চাইলেই উঠিয়ে ফেলা যাবে। ব্যবহারকারী তার ত্বকের ওপর এটি লাগিয়ে নিতে পারবেন। এই ট্যাটু আসলে এক সূক্ষ্ম ইলেকট্রনিক যন্ত্র। এটি দেহের ঘাম বিশ্লেষণ করে রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা পরীক্ষা করবে। এই তথ্য স্মার্টফোন বা স্মার্টওয়াচের মাধ্যমে জানিয়েও দেওয়া হবে।ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকরা বিশেষ এক ধরনের ট্যাটু আবিষ্কার করেছেন। এটি দেহে বিষাক্ত উপাদানের মাত্রা নির্ণয় করবে।

প্রযুক্তিটি আসলে একটা ছোট সার্কিট বোর্ড যা ত্বকে সেঁচে থাকবে অন্যান্য ট্যাটু পেপারের মতোই। এই পেপারে সিলভার এবং সিলভার ক্লোরাইড ইলেকট্রোডস কিঞ্চিৎ পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। ট্যাটুর জেল স্ট্রিপ এক ধরনের রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে যা ত্বকে ঘামের সৃষ্টি করে। এই ঘাম বিশ্লেষণ করে ট্যাটুর সেন্সর। এনজাইমের মাত্রা পরীক্ষা করে দেখা হয় দেহে অ্যালকোহল রয়েছে কিনা।আইইই আরো জানিয়েছে, স্মার্টফোন বা স্মার্ট ঘড়িকে তথ্য পাঠাতেও সক্ষম এই ট্যাটু। ব্লুটুথের মাধ্যমে কাজটি করা হবে।

নয় জনের দেহে ট্যাটুটি পরীক্ষা করা হয়েছে।যন্ত্রটি সফলভাবে তাদের দেহে অ্যালকোহলের মাত্রা নির্ণয় করে। ভবিষ্যতে এ ট্যাটুর ব্যবহার আরো নানা খাতে ছড়িয়ে দেওয়ার চিন্তা করছেন বিজ্ঞানীরা। যদিও এই ট্যাটুর একটি আবারো ব্যবহারযোগ্য নয়। তারা আরো গবেষণা চালাচ্ছেন যেন এটাকে আরো বেশি টেকসই করা যায়।

বিজ্ঞানীরা আরো একটি সংস্করণ বানানোর চেষ্টা করছেন যেটা ২৪ ঘণ্টা কারো দেহের অ্যালকোহলের মাত্রা পরীক্ষা করবে।আরো আশাপ্রদ বিষয় হলো, এর নানা ব্যবহারের কথা চিন্তা করে বাণিজ্যিক উৎপাদনের দিকে যাওয়া যায়। এই ট্যাটু তৈরিতে নামমাত্র অর্থ ব্যয় হয়। কাজেই অনেক কম দামে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা বারে এর ব্যবহার কাজে লাগতে পারে। গাড়ি চালনার ক্ষেত্রে কারো দেহে বিপজ্জনক পরিমাণ অ্যালকোহল রয়েছে কিনা তা সহজেই মাপা যাবে।

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.