বর্তমান বাজারের অধিকাংশ স্মার্টফোনের ব্যাটারিই নন-রিমুভেবল। স্মার্টফোনে সাধারনত লিথিয়াম আয়ন প্রযুক্তির ব্যাটারি ব্যবহৃত হয় যার ক্ষমতা সাধারণত ১০০০ রিচার্জ সাইকেল পর্যন্ত হয়। অর্থাৎ ১০০০ বার রিচার্জ পর্যন্ত ব্যাটারি স্বাভাবিক থাকে। ফলে দিনে একবার করে চার্জ করলে ব্যাটারির গড় আয়ু হবে সাধারণত দুই থেকে তিন বছর। কিন্তু সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে দেখা যায় যে, ছয়-সাত মাসেই ব্যাটারির চার্জধারণ ক্ষমতা কমে যায়। সেক্ষেত্রে ব্যাটারী নষ্ট হলে সার্ভিস সেন্টারে যাওয়া ছাড়া আর উপায় থাকে না। কিছু নিয়মকানুন মেনে চললেই ব্যাটারি অনেকদিন ব্যবহার করা সম্ভব।

12966428_935814199850004_724084551_n

১. প্রথমত,ব্যাটারির চার্জ 0  থেকে ১00%  একটানা করা উচিত নয়।  এতে ব্যাটারির কোষগুলোর উপর ধকল পড়ে এবং দুর্বল হয়ে যায়। তাই এক দুইবার পাঁচ মিনিটের বিরতি দিয়ে চার্জ দেয়া উত্তম। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যটারির চার্জ ২৫-৩০% এ নামা মাত্রই চার্জে লাগানো উচিত ।

২. ফোনের সাথে দেয়া অরিজিনাল চার্জার ব্যবহার করতে হবে। অন্য চার্জার ব্যবহারের  ক্ষেত্রে ওরিজিনাল চার্জারের সাথে আউটপুট কারেন্ট ভিন্ন হলে কোন সমস্যা নেই শুধু আউটপুট ভোল্টেজ এক হলেই চলবে ।

৩. ব্যাটারি যত সম্ভব ঠান্ডা রাখা উচিত। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, একটি লি-আয়ন ব্যাটারি গড়ে ৩২ ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রায় বছরে তার সর্বোচ্চ ক্ষমতার ৫% পর্যন্ত হারায়। ৭৭ ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রায় বছরে ২০% এবং ১০৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রায় বছরে ৩৫% চার্জ পর্যন্ত হারায়।

৪.নিয়মিত চার্জিং ডিসচার্জিং এর ফলে ব্যাটারি সেল বা কোষগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে মাসে একবার ব্যাটারির চার্জ সম্পুর্ণভাবে শেষ করে একবারে ফুলচার্জ করুন। এতে দুর্বল কোষগুলোর চার্জধারণ ক্ষমতা পুনর্জিত হবে।খেয়াল রাখতে হবে যেন, মাসে একাধিকবার এরকম না করা হয়।

৫. ওভারচার্জিং অর্থাৎ ব্যাটারির চার্জ ১০০% হওয়ার পর চার্জে লাগিয়ে রাখা যাবে না।এতে করে ওভারহিটিং অর্থাৎ ব্যাটারি গরম হয়ে যায় এবং চার্জধারণ ক্ষমতা কমে যায়।এখনকার অধিকাংশ ফোনেই অবশ্য ওভারচার্জিং প্রোটেকশন সার্কিট থাকে যা ফোনকে ওভারচার্জিং থেকে সুরক্ষিত রাখে।

৬. চার্জে লাগানো অবস্থায় স্মার্টফোন ব্যবহার করা যাবে না।চার্জ অবস্থায় ফোন ব্যবহার করলে ব্যাটারির ওপর অত্যধিক চাপ সৃষ্টি হয় ফলে ব্যাটারি গরম হয়ে যায় যা ব্যাটারি কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

৭.ওয়্যারলেস চার্জিং থেকে বিরত থাকুন।ওয়্যারলেস চার্জিং প্রযুক্তি অনেক সুবিধাজনক হলেও এ প্রযুক্তিতে তাপের অপচয় হয় যা ব্যাটারিকে উত্তপ্ত করার জন্য দায়ী।

৮. বর্তমানের অনেক ফোনেই কুইকচার্জ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে।এটি অনেক প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি হলেও এর নিয়মিত ব্যবহার না করাই উত্তম। কেননা লি-আয়ন ব্যাটারি তুলনামুলক ধীরগতিতে এবং সামঞ্জস্যপুর্ণ গতিতে টেকসই হয়।

লেখকঃ ইশতিয়াক আহমেদ শাওন,

আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.