আধুনিক এই সময়ে স্মার্টফোন মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। একটি দিনও যেন স্মার্টফোন ছাড়া চলে না। স্মার্টফোনের জন্য কিডনি বিক্রির খবর পাওয়া গেছে আগে। বাবা-মায়ের কাছে স্মার্টফোন চেয়ে না পেয়ে আত্মহত্যার প্রচেষ্টার উদাহরণও রয়েছে। স্পষ্টতই তাই স্মার্টফোনের ওপর মানুষের অনুরাগ ও নির্ভরতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এরই যেন চূড়ান্ত এক উদাহরণ তৈরি করলেন মার্কিন নাগরিক অ্যারন চারভেনাক। নিজের বিয়ের আয়োজনে যখন তিনি বরবেশে প্রস্তুত, তখন তার কনে হিসেবে ছিল তারই নিত্যসঙ্গী স্মার্টফোন! হ্যাঁ, এমন অদ্ভুতুড়ে ঘটনাই ঘটেছে বৈচিত্র্যময় মার্কিন শহর লাস ভেগাসে। ‘সিন সিটি’ নামে পরিচিত লাস ভেগাস সাক্ষী হলো বিশ্বের প্রথম স্মার্টফোনের বিয়ের! বৃটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী অ্যারন চারভেনাক। তিনিই নিজের স্মার্টফোনকে বিয়ের জন্য শত শত মাইল পাড়ি দিয়ে হাজির হন লাস ভেগাসে। সেখানে নেভাদার দ্য লিটল ভেগাস চ্যাপেলে আয়োজন করেন নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানের। নিজের স্মার্টফোনকে বিয়ে করা নিয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট। বিয়ের ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের কাছে সৎ থাকতে চাইলে স্বীকার করতে হবে স্মার্টফোনের সঙ্গে নানাভাবেই আমরা আবেগীয় সম্পর্কে যুক্ত। সান্ত্বনার জন্য,নিজেদের শান্ত করার জন্য, ঘুমানের জন্য, মনকে সহজ করার জন্য আমরা স্মার্টফোনের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। আর আমি সম্পর্ক বলতে এগুলোকেই বুঝি। আর সে কারণেই এক অর্থে আমার সবচেয়ে বেশি দিনের সম্পর্ক স্মার্টফোনের সঙ্গেই। আর সে কারণেই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি স্মার্টফোনকে বিয়ে করার।’ লাস ভেগাসে এসে বিয়ের আয়োজনের জন্য চ্যাপেলগুলোতে খোঁজ-খবর করতে শুরু করেন অ্যারন চারভেনাক। তার আশঙ্কা ছিল, ‘এমন প্রথাবিরোধী’ বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনে তারা সম্মত না-ও হতে পারেন। তবে তার ভুল ভাঙে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় তারা এর সম্ভাবনা নিয়ে অত্যন্ত উত্তেজিত। এটা ভিন্ন কিছু এবং নতুন কিছু।’

বিয়ের অনুষ্ঠানে গোলাপি রঙের একটি গাড়িতে চড়ে কোট-স্যুট পরিহিত অবস্থায় হাজির হন চারভেনাক। সঙ্গে কনে স্মার্টফোনও ছিল। কালো রঙের আইফোনটিকে তিনি মুড়িয়ে আনেন সাদা রঙের কেসিংয়ে। আর তাকে স্থাপন করেন সুসজ্জিত একটি স্ট্যান্ডের ওপর। ফোনকে একটি নেকলেসও পরিয়ে রাখা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে যাজক চারভেনাককে তার স্মার্টফোনের সঙ্গে কাটানো ‘হাসি-খুশি’ ও ‘ভালো সময়’ স্মরণ করতে বলেন এবং স্মার্টফোনকে ‘সম্মান’ করার ও একে ‘সুখী রাখার’ প্রতিশ্রুতি দিতে বলেন। আংটি বদলের সময় চারভেনাক ফোনটির পাশে রাখা আংটি নিজের আঙুলে পরেন। পরে ফোনটিকে আদর করে তুলে নেন পকেটে। আনুষ্ঠানিকভাবে আয়োজন করে বিয়ে করলেও এই বিয়ে এখনও আইনসম্মত নয়। সেটা মেনে নিলেও চারভেনাক বলছেন, ফোন আমাদের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তারই প্রতীকী একটি রূপ হলো তার নিজের ফোনকে বিয়ে করে নেয়া। তার বিচিত্র ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে কিছু অতিথির উপস্থিতি এটাই প্রমাণ করে যে এর সমর্থনও রয়েছে তাদের পক্ষ থেকে। তবে কিছু সমালোচনাও জুটেছে চারভেনাকের। একজন তার বিয়ের ভিডিওতে মন্তব্য করেছেন, ‘আমি খুশি যে এই নির্বোধ সন্তান জন্ম দেবে না। অ্যাপলকে ধন্যবাদ।’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘১৮ মাসের মধ্যে তিনি আপগ্রেড হয়ে যাবেন।’লিটল ভেগাস চ্যাপেলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘চারভেনাক তার ফোনকে খুবই ভালোবাসেন।’ তাছাড়া ‘নতুন মডেল এলে চারভেনাকের প্রতিজ্ঞাকে নবায়ন করা যাবে’বলেও মন্তব্য তাদের!

 

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.