ঘুমের মধ্যে চলাফেরা করা! কথাটা ভাবতেই কেমন জানি একটি রূপকথার রাজ্যের ছবি ফুটে উঠে মাথায়। একবার ভাবুনতো, ঘুমের মধ্যে আপনি চলাফেরা করছেন, রুম থেকে বের হয়ে ছাদে চলে যাচ্ছেন, ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে খাচ্ছেন কিন্তু, আপনি কিছুই জানেন না, আবার ঘরে এসে ঘুমিয়ে পরলেন। আপনি জানতেও পারলেন না যে আপনি কি কি করেছেন, কোথায় কথায় গেছেন, যতক্ষন না আপানার এই ঘুমের মধ্যে চলাচল এর পর্ব শেষ না হচ্ছে।

Untitled11

উদাহরন স্বরূপ, একজন ঘুমন্ত অবস্থায় তিন তলা বাসার জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে হাত পা ভেঙ্গে বসে আছে, কিন্তু কোন ব্যাথা অনুভব করেনি তার ঘুম ভাঙ্গা পর্যন্ত। আর একজন হাটতে হাটতে ছাদে চলে যায় এবং পরে গিয়ে পা ভেঙ্গে ফেলে কিন্তু সকাল পর্যন্ত তার ঘুম ভাঙ্গে নি!!!! সম্প্রতি একটি গবেষনায় এমন সব অবাক করা ফলাফলই বের হয়ে এসেছে।

ফ্রান্সের গুই দে চাওলিক হাসপাতাল এর গবেষক ডঃ লুপেজ এবং তার সহযোগিরা গবেষনায় জানতে পারেন যে, শতকরা ৭৯ ভাগ মানুষ যারা ঘুমের মধ্যে চলাচল করে, তারা কোনরকম ব্যথা অনুভব করেন না, যতক্ষন না তাদের ঘুম ভাঙ্গে। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠার পর বুঝতে পারে যে কি কান্ডটা তারা ঘটিয়েছে।

তারা আরো বলেন যে, যারা ঘুমের মধ্যে চলাচল করে তাদের তুলনায় যারা করে না, এই ধরনের মানুষের মধ্যে মাথাব্যাথা ও মাইগ্রেন এর সমস্যা বেশি দেখা দেয়, এমনকি তাদের মাঝে অনিদ্রা ও বিষন্নতা প্রভাব ফেলে।

গবেষনার জন্য ১০০ জন সাধারন এবং ১০০ জন ঘুমের  মধ্যে চলাচল করে এমন পুরুষ ও মহিলা নেয়া হয়। ফলাফলে দেখা যায় ১০০ জনের মধ্যে ৪৭ জন আঘাত প্রাপ্ত হয় এবং এদের মধ্যে ১০ জন সাথে সাথে ব্যাথা অনুভব করেন ও বাকি ৩৭ জন ঘুম না ভাঙ্গা পর্যন্ত কিছুই জানেন না।!!

এনএইচএস অনুযায়ি শতকরা ২০ ভাগ শিশু একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত এই সমস্যায় পরতে পারে, সাবালক হবার পর অনেকের এই সমস্যা চলে যায়।

রয়্যাল কলেজ অফ সাইকিয়াট্রিষ্ট এর তথ্য মতে, শতকরা একজন প্রাপ্ত বয়ষ্ক মানুষের মাঝে এই সমস্যা দেখা যায়, যদিও কারো কারো মতে এর পরিমান পাঁচ জনও হতে পারে। যদি বাবা মা দুজনই এই সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকে তবে তাদের সন্তানদের মাঝে এই সমস্যা দেখা দেয়ার পরিমান প্রায় সাত গুন।

ক্যুবেক এর কানাডিয়ান প্রদেশের একটি গভেষনায় বলা হয়, বয়ঃসন্ধি কালে এই সমস্যাটা বেশি দেখা দেয় যদিও বয়ঃসন্ধি কালের পর এটা কমে যায়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতে, যাদের এই ধরনের সমস্যা আছে তাদেরকে পরিবারের অন্যরা সাবধানে রাখতে হবে, তাদের ঘরের মধ্যে এমন কিছু রাখা যাবে না, যা বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটাতে পাড়ে।দরকার হলে রাতে এদেরকে ঘরে ডুকিয়ে দিয়ে বাহির হতে তালা দিয়ে রাখতে হবে।

কিছু ঔষুধ যেমন clonazepam, benzodiazepines, কম মাত্রার এবং tricyclic অ্যন্টিডিপ্রেসেন্টস হিসাবে স্লিপওয়াকারসদের জন্য দেয়া যেতে পারে। তবে অবশ্যই ডক্টর এর পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে সচেতনতাই অনেকটা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে এই ধরনের রুগিদের। কারন নির্দিষ্ট বয়স পর এই সমস্যা অনেকেরই চলে যায়।

 

লেখকঃ মাজহারুল ইসলাম, শিক্ষার্থী,

সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.