আফ্রিকায় কৃষকদের গুলি করে সিংহ হত্যার প্রবণতা কমাতে দারুন এক সমাধান বের করেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা গরুর পশ্চাদে চোখ এঁকে দিচ্ছেন।

 

বিষয়টা আপনার কাছে পাগলামির মতো শোনালেও, বিজ্ঞানীরা হাতেনাতে এর সুফল পেয়েছেন। কেননা পর্যবেক্ষণে দেখেছেন, সিংহ যদি মনে করে যে, কোনো প্রাণী তার দিকে তাকিয়ে আছে বা তাকে দেখছে, তাহলে এমন ক্ষেত্রে সিংহ কম আক্রমন করে থাকে।

 

ফলে গরুর পশ্চাদে বিজ্ঞানীরা চোখ এঁকে দিচ্ছেন, যাতে গরু শিকার করতে সিংহ কম উৎসাহিত হয় এবং এতে কৃষকের গুলিতে সিংহ হত্যার সংখ্যা কমে আসবে।

 

নতুন এই উপায় পরীক্ষা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। সিংহের ওপর গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, সিংহ অনেক সময়ই শিকার না করে ফিরে আসে যদি দেখে যে প্রাণীটি (যেমন হরিণ) তাকে দেখছে।

 

‘সিংহ ওতপাতা শিকারী, তারা হামাগুড়ি দিয়ে খুব কাছে গিয়ে তারপর শিকারের ওপর ঝাপিয়ে পড়তে পছন্দ করে।’ সিংহের আচরণ পর্যবেক্ষণের পর অভিমত নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ জীববিজ্ঞানী নেইল জর্ডানের।

 

‘কিন্তু এক্ষেত্রে, কোনো হরিণ যদি সিংহকে খেয়াল করে এবং সিংহ যখন বুঝতে পারে যে তাকে দেখছে, সেক্ষেত্রে সিংহ শিকারে আগ্রহবোধ কম করে।’

 

সিংহ যেহেতু গরুও শিকার করে থাকে এবং তাই দেখামাত্রই সিংহ  কৃষকের গুলির নিশানায় পরিণত হয়, তাই গরুর পশ্চাদে নকল চোখ এঁকে, সিংহকে নিবৃত্ত করার অভিনব এই পদ্ধতি বের করেছেন বিজ্ঞানীরা। মূলত প্রজাপতির থেকে এই নকল চোখের আইডিয়া বিজ্ঞানীদের মাথায় আসে। কেননা প্রজাপতি যখন উড়ে, তখন তার ডানা দেখতে প্রজাতির চোখের মতোই লাগে।

 

আফ্রিকান সিংহ সংরক্ষণে নানা ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, বিকল্প এই পদ্ধতিটিও গুরুত্বপূর্ণ। কেননা গরু খেয়ে ফেলার প্রতিশোধ নিতে কৃষকরা সিংহ হত্যা করে থাকে।

 

জর্ডান বলেন, ‘সুরক্ষিত সংরক্ষণ এলাকা ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে, ফলে সিংহ অনেক সময়ই মানুষের সীমানার কাছাকাছি চলে আসছে। আমরা যদি প্রাণনাশ থেকে সিংহকে রোধ করার একটি উপায় খুঁজে বের করতে পানি, তাহলে আমরা আশা করতে পারি যে, কৃষকরা প্রথমেই সিংহকে হত্যা করার পদক্ষেপ নেবে না।’

 

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তাদের এ পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে ইতিবাচক ফলাফল দিয়েছে। কেননা বিজ্ঞানীরা একটি গরুর পালের ৬২টি গরুর পশ্চাদে চোখের নকল  ছবি এঁকে জঙ্গলে পাঠানোর ১০ সপ্তাহ পরে পশ্চাদে চোখের ছবি আঁকা সবগুলো গরু জীবিত অবস্থায় ফিরে এসেছে। কেবলমাত্র ৩টি গরুকে সিংহ খেয়েছে এবং ওই ৩টি গরুর পশ্চাদে চোখের ছবি আঁকা ছিল না।

 

জর্ডান স্বীকার করেন যে, এ ধরনের পরীক্ষার ক্ষেত্রে তাদের নমুনা খুবই ছোট ছিল। তারা বিষয়টি নিয়ে আরো ব্যাপকভাবে পর্যবেক্ষণ শুরু করতে যাচ্ছেন। এজন্য ইতিমধ্যে জিপিএস লগার এবং জিপিএস লায়ন রেডিও কলার সংগ্রহ করা হয়েছে। এই জিপিএস ডিভাইসের মাধ্যমে আরো ভালোভাবে জানা যাবে যে, গরু এবং সিংহগুলো কোথায় বিচরণ করছে, কোথায় তাদের সাক্ষাৎ হচ্ছে এবং গরুর পশ্চাদে আঁকা চোখ কীভাবে সিংহের ব্যবহার পরিবর্তন করছে।

 

ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ জীববিজ্ঞানী নেইল জর্ডান বলেন, ‘অদ্ভূত শোনালেও এমনটা হতে পারে যে, আমরা সব গরুর পশ্চাদে চোখ অংকন করবো, যাতে কৃষকদের জীবিকা রক্ষা হয় এবং সিংহও প্রাণে বাঁচে।’

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.