কিলার হোয়েল বা খুনী তিমি মূলত ‘অরকা’ নামেই বেশি পরিচিত। এটি মহাসাগরীয় ডলফিন পরিবারের সবচেয়ে বড় সদস্য এবং অন্যতম শিকারী প্রানী। প্রায় সব মহাসাগরেই কম-বেশি এদের দেখা মেলে। এমনকি আর্কটিক এবং এন্টার্কটিক এর বরফ ঢাকা অঞ্চলেও এদের দেখা যায়। এরা যদিও মানুষের বন্ধু হিসেবেই বেশি পরিচিত তবে নিঃসন্দেহে দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী শিকারী প্রানীগুলোর মধ্যে একটি।

Killerwhales_jumping

তিমি এবং ডলফিন দুই প্রজাতির বৈশিষ্টযুক্ত কিলার হোয়েল উষ্ণ রক্ত বিশিষ্ট একটি স্তন্যপায়ী প্রানী। আকৃতিতে এটি ২০ থেকে ৩২ ফিট পর্যন্ত হয়ে থাকে। ওজন সর্বোচ্চ ৬ টন পর্যন্ত হয়। এর পিঠের দিকটি কালো এবং বুকের ও পাশের কিছু অংশ সাদা হয়ে থাকে। এর পিঠে থাকা ফিনটি সর্বোচ্চ ৬ ফিট পর্যন্ত লম্বা হয়। দুই সারিতে থাকা ৪৮টি দাঁত সর্বোচ্চ চার ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়। বিশাল আকৃতি, শারীরিক গঠন এবং শক্তিশালী দেহের কারনে এরাই সমুদ্রের সবচেয়ে দ্রুতগতি সম্পন্ন স্তন্যপায়ী প্রানীতে পরিনত হয়েছে। এরা একদিন সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত ভ্রমন করতে পারে। ভ্রমন করার সময় গতি বৃদ্ধি করার জন্য এরা প্রায়ই এদের দেহকে পানির উপরে নিয়ে আসে।

2010-09-13_164917
মানুষ এবং অরকার আকৃতির তুলনামুলক চিত্র

মোটামুটি তিন ধরনের কিলার হোয়েল রয়েছে এবং এগুলো একেকটি একেক ধরনের খাবার পছন্দ করে। এরা মূলত অন্য প্রজাতির ম্যামালস যেমনঃ সীল, সি লায়ন, এলিফ্যান্ট সীল, তিমি ইত্যাদি এবং মাছ খায়। মাছের মধ্যে হেরিং, শ্যামন, টুনা ইত্যাদি সহ প্রায় ৩০ প্রজাতীর মাছ এদের খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও এরা স্কুইড এবং বিভিন্ন সামুদ্রিক পাখিও খেয়ে থাকে। অনেক সময় কয়েকটি কিলার হোয়েল একত্রে বড় আকৃতির তিমিকেও আক্রমন করে। শিকার দ্বারা ঘটা দূর্ঘটনা এড়াতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এরা শিকারকে খাওয়ার পূর্বে পুরোপুরি দুর্বল করে নেয়। এর জন্য অনেক সময় শিকারকে এরা বাতাসে ছুঁড়ে মারে অথবা লেজ দিয়ে বাড়ি মারে।

2010-09-13_193850

মা অরকা ১৫ বছর বয়স থেকে বাচ্চা প্রসব করা শুরু করে। প্রায় ১৭-১৮ মাস গর্ভ ধারনের পর বাচ্চা হয়ে থাকে। জন্মের পর প্রথম ৬ মাস বাচ্চাগুলো খুবই নাজুক অবস্থায় থাকে এবং প্রায় ৩০ থেকে ৫০ ভাগ বাচ্চা এই সময়কালে মারা যায়। মা অরকা সাধারনত প্রতি ৩ থেকে ৫ বছরে একটি বাচ্চা প্রসব করে। অরকাদের জীবনকাল সাধারনত ৫০ থেকে ৮০ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে।

কিলার হোয়েলরা খুবই বুদ্ধিমান এবং সামাজিক প্রানী। এরা সামাজিক দল তৈরি করে বসবাস করে এরং সবার মধ্যে খুবই ভালো সম্পর্ক বজায় রাখে। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য এরা বিভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে যা অন্যান্য সামুদ্রিক স্তন্যপায়ীদের চাইতে উন্নত। প্রশিক্ষন এর মাধ্যমে এদেরকে দিয়ে বিভিন্ন কাজ করানো যায়। মেরিন ম্যামাল পার্কের ওয়াটার এক্সিবিশনে কিলার হোয়েলদের বুদ্ধিমত্তা এবং শারীরিক ক্ষমতা আপনারা অনেকেই হয়তো টিভিতে দেখেছেনও। অরকা নিয়ে তৈরি করা একটি মুভিও দেখতে পারেন ইচ্ছে করলে Stagevu তে।

comments

8 কমেন্টস

  1. ভালো লাগলো পোস্টটি পড়ে। অনেক কিছু জানতে পারল্লাম। ধন্যবাদ ইমতিয়াজ ভাই।

  2. মানুসের মত বড় শিকারীরে নিয়া কিছু লেখেন।

  3. I simply want to mention I am just all new to blogging and site-building and honestly savored your blog. Almost certainly I’m planning to bookmark your website . You definitely come with remarkable writings. Thanks a bunch for sharing with us your blog site.

  4. *I was suggested this website by my cousin. I am not sure whether this post is written by him as nobody else know such detailed about my trouble. You are wonderful! Thanks!Nice blog here! Also your web site loads up fast! What web host are you using? Can I get your affiliate link to your host? I wish my website loaded up as quickly as yours lol

  5. Whats Going down i am new to this, I stumbled upon this I have found It positively useful and it has helped me out loads. I am hoping to give a contribution & help other users like its aided me. Great job.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.